বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯

বাজেটে টান, ২৫ হাজার হোম গার্ড ছাঁটাই যোগীর

অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা এবার উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারের বাজেটে। যার সব থেকে বড় কোপ এসে পড়ল হোমগার্ডদের উপর। মঙ্গলবারই যোগী সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে একসঙ্গে রাজ্যের ২৫ হাজার হোমগার্ডকে ছাঁটাই করা হবে। রাজ্যের বিভিন্ন থানা ও ট্রাফিক সিগন্যালে এই হোমগার্ডরা মোতায়েন ছিলেন। 

মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন ট্রাফিক সিগন্যাল ও থানায় কর্মরত মোট ২৫ হাজার হোমগার্ডকে ছাঁটাই করা হবে। এর পাশাপাশি ৯৯ হাজারের বেশি হোমগার্ডের রোজকার ‘ডিউটি’তে কাঁচি চালানো হয়েছে। মাসে ২৫ দিনের পরিবর্তে তাঁদের ‘ডিউটি’ কমিয়ে ১৫ দিন করে দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁদের বেতনেও কোপ পড়তে চলেছে। যদিও বর্তমান সিদ্ধান্তের প্লট আগেই তৈরি হয়েছিল। চলতি বছরের ২৮ আগস্ট এই বিষয়ে যাবতীয় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে হওয়া ওই বৈঠকেই হোমগার্ডদের নিয়ে এইসব পদক্ষেপের উপর সিলমোহর দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি প্রকাশ করা হল। একটি সর্বভারতীয় বেসরকারি টিভি চ্যানেলের রিপোর্ট অনুযায়ী– হোমগার্ডদের বেতন বেড়ে পুলিশকর্মীদের সমান হয়ে যাওয়ায় রাজ্য সরকারের তহবিলে চাপ বাড়তে শুরু করে। সেই চাপ হালকা করতেই একেবারে সরাসরি ২৫ হাজার হোমগার্ডের চাকরি ছাঁটাই করার পথে হাঁটল যোগী সরকার। উল্লেখ্য– সুপ্রিম কোর্ট উত্তরপ্রদেশের হোমগার্ডদের দৈনিক ভাতা বাড়িয়ে পুলিশ কনস্টেবলদের সমান করার নির্দেশ দিয়েছিল। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশে হোমগার্ডদের মুখের হাসি চওড়া হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হল না। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি এ কে জৈন বলেন– ‘হোমগার্ডদের জন্য বাজেট নির্দিষ্ট থাকে। আমি নিশ্চিত– নিজেদের আর্থিক অবস্থার কথা ভেবেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। হোমগার্ডদের যদি পুলিশ কনস্টেবলদের মতো বেতন দেওয়া হয়– তাহলে তাদেরও পুলিশদের মতোই প্রশিক্ষণ করানো উচিত। উল্লেখ্য– পুলিশের পাশাপাশি হোমগার্ড নিয়োগ করার ফলে রাজ্যে অপরাধমূলক কাজকর্ম ৩২ শতাংশ কমেছিল। যেহেতু বেশিরভাগ হোমগার্ড ট্রাফিক সিগন্যালে কর্মরত ছিলেন তাই ট্রাফিক পরিষেবাতেই এর সবথেকে বেশি প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only