মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯

এখনও সতেজ মহানবী সা.-এর বিশ্রাম নেওয়া ‘সাহাবী বৃক্ষ’


পুবের কলম, আম্মান: একটি গাছ। যার বয়স আনুমানিক দেড় হাজার বছর। ইসলামি ঐতিহ্যবাহী এই গাছটির নাম ‘সাহাবী বৃক্ষ’। ইংরেজিতে বলা হয় ‘দ্য ব্লেসড ট্রি’। অনেকের মতে, সম্ভবত পৃথিবীর সবথেকে প্রাচীনতম গাছ এটি। অর্থাৎ বর্তমান বিশ্বে এত বয়স্ক গাছ কোনও দেশে নেই। মহানবী সা.-এর স্মৃতিবিজড়িত এই গাছটি এখনও জীবিত রয়েছে জর্ডনের উত্তর দিকের মরুভূমিতে। আশ্চর্যের বিষয় হল, ধূ-ধূ মরুভূমি অঞ্চলে ১৫০০ বছর ধরে দণ্ডায়মান এই এর আশপাশের শতাধিক বর্গকিমি এলাকায় আর কোনও গাছ নেই। কথিত আছে, বাল্যকালে চাচা আবু তালিবের হাত ধরে জর্ডনের এই উত্তপ্ত বালুময় মরুপথ ধরেই মক্কা থেকে পদব্রজে সিরিয়া পাড়ি দিয়েছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সা.। 
প্রখর রোদে মরুভূমির বালি প্রচণ্ড গরম হয়ে যাওয়ায় ৮-১০ বছরের বালক মুহাম্মদ সা.-এর পক্ষে একটানা হাঁটা সম্ভব ছিল না। তাই চাচা-ভাইপো এই শুকনো গাছের ছায়ায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। তখনই আল্লাহর নির্দেশে শুকনো পাতাঝরা মৃতপ্রায় গাছটি এক লহমায় সবুজ হয়ে ওঠে। বইতে শুরু করে মৃদুমন্দ বাতাস। যাতে ঘাম শুকিয়ে খানিকটা পর ফের হাঁটা শুরু করেন দামাস্কাস অভিমুখে।
মহানবী সা. ও তাঁর চাচা বৃক্ষতলে বসে থাকাকালে দূর থেকে এই মোযেজা প্রত্যক্ষ করেন এক খ্রিস্টান পাদরি। জর্ডনের রাজধানী আম্মান থেকে ঘণ্টা দু’য়েকের পথ পেরোলে এই গাছ দেড় হাজার বছর ধরে পৃথিবীর বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী। কিন্তু শুকিয়ে যাওয়া গাছটির ডালপালা কীভাবে চোখের নিমেষে সবুজ পাতায় ঢেকে গেল, এ প্রশ্ন তাঁকে কৌতুহলী করে তোলে। পায়ে পায়ে এগিয়ে যান গাছতলায়। চাচা আবু তালিবকে তিনি জিজ্ঞেস করেন, সঙ্গে থাকা শিশুটির নাম কী। তার পিতা-মাতার পরিচয়ও সম্পর্কে জানতে চান। জানার পর পাদরি জার্জিস বাহিরা বলেন, আমি নিশ্চিত যে এই বাচ্চাই সেই শেষ পয়গম্বর হযরত মুহাম্মদ সা.। যাঁর বর্ণনা সম্পর্কে পবিত্র বাইবেলে আমি পড়েছি। আবু তালিবকে তিনি পরামর্শ দেন, ভবিষ্যতের নবী এই বালককে আগলে রাখবেন। ওকে কোনওদিন দুঃখ বা কষ্ট দেবেন না।
গাছটি দেখতে এখনও প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটক সেখানে ভিড় করেন। তাই জর্ডন সরকার গাছটিকে দূর থেকে ধাতব বেড়া দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। বিস্তীর্ণ মরুভূমির মাঝে যেন এই একটি মাত্র গাছ মরুদ্যান হয়ে রয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও গাছটির কোনও ক্ষতি করতে পারেনি। ইতিহাসের বিবরণ থেকে জানা যায়, মার্চ মাসের এক দুপুরে এখান দিয়ে যাচ্ছিলেন বালক মুহাম্মদ সা. ও তাঁর চাচা। জানা যায়, এখান থেকে চলে যাওয়ার আগে গাছটির জন্য দোয়া করেছিলেন মুহাম্মদ সা.।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only