বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯

দেনমোহরে বই নিয়ে নজির গড়লেন কনে

শুভায়ুর রহমান
বিয়ে ঠিক হল দুই পরিবারের সম্মতিতে কিন্ত দেনমোহরের পরিমাণ কী হবে? এই নিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারছিলেন না দুই শিক্ষিত যুবক-যুবতী মেহেবুব সাহানা ও সানজিদা পারভীন।
বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন ও স্যারদের পরামর্শ নিয়ে বইয়ের দীর্ঘ তালিকা তৈরি হল। পাত্রের পক্ষ থেকে পাত্রীকে বই দেওয়া হবে। ঠাই পেল প্লেটো থেকে শুরু করে তারিক রমযানের বই। তেমনই কুরআন কিংবা বাইবেলের মতো ধর্মীয় প্রন্থও যুক্ত হল। বই দেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে পাত্রী সানজিদা পারভীনও জোর সওয়াল করেন। পাত্র মেহেবুব সাহানা রাজি হয়ে যান প্রস্তাবে ।
বিয়েতে পাত্রীকে দেনমোহর দেওয়াটা ইসলামের চিরাচরিত এতিহ্য। দেনমোহর হল পাত্রীর হক বা অধিকার। যা পাত্রের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়। নগদ অর্থ হতে পারে, গয়না হতে পারে বা আর্থিক মূল্য আছে এমনকিছু দেনমোহর হিসাবে দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ৫০০০০ টাকা দেনমোহরের কথা থাকলেও পাত্রী সানজিদা অভিনব ও চিরাচরিত ধারাকে একটু অন্যভাবে দেখতে চাইছিলেন। যেমন কথা, তেমন কাজ উচ্চশিক্ষিত যুবক মেহেবুব সাহানা নববধূকে উপহার দিলেন বহু মূল্যের বিভিন্ন ধরনের বই।
পাত্র মেহেবুব সাহানা বর্তমানে ইন্দিরা গান্ধি কনজারভেশন মনিটরিং সেন্টারে কর্মরত। তার বাড়ি বর্ধমানের খগ্ডঘোষের একটি প্রত্যন্ত প্রামে। তিনিই ওই প্রামের প্রথম প্র্যাজুয়েট। এলাকার স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করে লখনউ যান এমএ করতে । এরপর জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়া থেকে পিএইচডি সম্পূর্ণ করেন। পাশাপাশি ইংল্যান্ডের ম্যাঞ্চেস্টার ইউনিভার্সিটিতে পোস্ট ডক্টরেটের সুযোগ পেয়েছেন। কিছুদিনের মধ্যে মেহেবুব সাহানা ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, নববধূ সানজিদা পারভীন মুসলিম মহিলাদের নিয়ে কাজ করছেন। তার বেড়ে ওঠা কলকাতায়। সানজিদা বর্তমানে আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছেন। তার গবেষণার বিষয় “টেরিটপিক রিপ্রেজেন্টশন অফ মুসলিম"। তিনি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডে যাবেন বলে জানান নববধূ সানজিদা পারভীনের স্বামী মেহেবুব সাহানা।
তাদের কথায়, মুসলিম বিয়েতে দেনমোহর দেওয়াটা বাধ্যতামূলক। অর্থ বা গয়না না দিয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী দেশি-বিদেশি বই মোহর হিসাবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দুই পরিবারের পক্ষ থেকে মেহেবুব ও সানজিদার মতেই সিলমোহর দেন। ১২ অক্টোবর মেহেবুব ও সানজিদা বিয়েতে আবদ্ধ হন। মেহেবুব বলেন, আমরা দু'জনই খুশি । মুসলিম বিয়েতে বই মোহরের জন্য দেওয়াটা অভিনব । আমি চাই, স্ত্রীর দরকারি এমন জিনিস দেনমোহর হিসাবে সব ছেলেই তাদের স্ত্রীকে দিক। এই কাজে পরিবার-আত্মীয়-স্বজন সকলকে এগিয়ে আসা জরুরি।তাদের সিদ্ধান্তে খুশি পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব সকলেই। জ্ঞান অর্জনে মুসলিম বিয়েতে বই দেওয়ার প্রসার ঘটুক, বলেন মেহেবুব সাহানা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only