বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৯

এত 'পাকিস্তানি' কি করে বাংলায় এল? সব্যসাচীর কাছে জবাব চাইলেন সাংসদ ইমরান


সাধ মিটিল না। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের হাত থেকে দলীয় পতাকা নেওয়ার স্বপ্ন  অধরাই থেকে গেল বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তের। মঙ্গলবার নেতাজি ইন্ডোরের সভায় রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ েঘাষ ও বঙ্গ বিজেপির ভারপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র হাত থেকেই পদ্ম পতাকা নিয়ে বিজেপিতে শামিল হলেন তিনি। তবে বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়রের সান্ত্বনা– তাঁর গলায় উত্তরীয় পরিয়ে দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি।

বিজেপিতে যোগ দিয়েই এ দিন অবশ্য অমিত শাহ-দিলীপ ঘোষদের সামনে বলার সুযোগ পেয়েছিলেন খাতায়-কলমে তৃণমূলের বিধায়ক থেকে যাওয়া সব্যসাচী। আর প্রথম ভাষণেই নতুন দলের ঘোষিত শত্রু জওহরলাল নেহরু-ইন্দিরা গান্ধিদের বিদেশ নীতিতে সাফল্যের কথা তুলে ধরে কিছুটা হলেও বিড়ম্বনায় ফেলে দেন মঞ্চে বসা অমিত শাহ-দিলীপ েঘাষদের। তবে সদ্য যে দল ছেড়েছেন– সেই দলকে ‘সবক’ শেখানোর আর্জি জানিয়ে কিছুটা হলেও ড্যামেজড কন্ট্রোল করার চেষ্টা করেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র। মঞ্চে বসা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার কাছে আমার একটাই অনুরোধ– যেভাবে কাশ্মীরকে ঠান্ডা করেছেন– সেইভাবেই বাংলাকে ঠান্ডা করুন।’ এরপরেই এনআরসি-র প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন, ‘বাংলাকে পাকিস্তান বানানোর চক্রান্ত চলছে। বাংলা যাতে পাকিস্তান হয়ে না যায়– তার জন্য বাংলায় এনআরসি চাই। অনুপ্রবেশকারীদের এ দেশের মাটিতে কোনও ঠাঁই নেই। এপিজে আবদুল কালামকে শ্রদ্ধা করি আমরা, কিন্তু আজমল কাসভের মতো সন্ত্রাসবাদীকে কোনওভাবেই মেনে নেব না।’ 

তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে ফাটলের ক্ষেত্রে যে বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে বাড়িতে ডেকে ‘লুচি-আলুর দম’ খাওয়ানো অনুঘটকের কাছ করেছে– সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে সব্যসাচী বলেন– ‘মুকুলদা আমার পরিবারের সদস্যের মতো। তিনি আমার বাড়িতে লুচি-আলুর দম খেয়েছিলেন বলে– অনেক কথা হয়েছিল। আতিথেয়তা বাংলার ঐতিহ্য। এটা কখনই আমরা হারাব না। আতিথেয়তা চিরদিন থাকবে। যাঁরা একে ভয় পান– তাঁরা বাংলার নন– ভিনগ্রহ থেকে এসেছেন।’  
পশ্চিমবঙ্গ পাকিস্তান হয়ে যাচ্ছে– তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র কটাক্ষ করেছেন রাজ্যসভার সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান। তিনি বলেন, সব্যসাচীবাবুকে উদারমনস্ক বলেই ভাবতাম।নিউ টাউনের মুসলিম অধ্যুষিত ঘুণি, আটঘরা, ন’পাড়া অঞ্চলের মুসলিমদের পাশে থেকে ব্যাপক ভোট সমর্থন পেয়েছেন। এখন দেখছি, সম্পূর্ণ ইউটার্ন নিয়েছেন। এখন উনি বিজেপিতে যোগ দিয়ে বলছেন, বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানি বাংলায় ঢুকে গিয়েছে। এ রাজ্যকে তারা নাকি পাকিস্তান বানাতে চলেছে। আসলে এসব না বললে নতুন দলে উনি দর পাবেন না। কারণ তিনি সরকারি পক্ষের যেমন বিধাযক ছিলেন, তেমনি আবার বিধাননগরের মেয়র ছিলেন। তবে কাছের রাষ্ট্র বাংলাদেশের নাম না করে পাকিস্তানের নাম কেন নিলেন তা বোধগম্য হচ্ছে না। বাংলাদেশের উদাহরণ টানলেই তাঁর বক্তব্য আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হত। পাকিস্তানের পরিবর্তে পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশিতে ভরে যাচ্ছে বললে না হয় যুক্তিযুক্ত হত। তবে এসব অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু নয়। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only