শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯

দেগঙ্গায় কি প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডার, টিউবওয়েলের মুখে দেশলাই ঢোকলেই বেরিয়ে আসছে লেলিহান শিখা





জাহির হোসেন, বারাসত

আশ্চর্যজনক ঘটনা! পানীয় জলের টিউবওয়েলের মুখে দেশলাই বা লাইটার ধরলে দাউ দাউ করে জ্বলছে লেলিহান শিখা। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দেগঙ্গা থানার চাকলার মঞ্জিলহাটি গ্রামের ঘটনা। এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে গ্রামবাসীদের মধ্যে। যে কোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের আশংকা করছেন তারা। শুধুমাত্র যে আগুন জ্বলছে তা নয়। টিউবওয়েলে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে বুদ বুদ শব্দ। তিন দিন ধরেই চলছে এমন ঘটনা। আগুনের নীলাভ শিখা ও আগুনের উৎস এবং কার্য কারণ দেখতে জেলার দূর দুরান্ত থেকে ছুটে আসছে উৎসুক জনতা। রীতিমতো মেলা চলছে দেগঙ্গার মঞ্জিলহাটি গ্রামের মোল্লা পাড়ায়।

একটা বা দুটো টিউবওয়েলে নয়। দেশলাই বা লাইটার ধরলে দাউ দাউ করে লেলিহান শিখা জ্বলছে উঠছে এলাকার অন্তত ১৪ টা পানীয় জলের কলে। এইসব কলের জল খেলে শারিরীকভাবে সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া নিরাপত্তার আশঙ্কাতেও ভুগছেন তারা। তাই কলগুলোতে তালা মেরে রেখেছে গ্রামবাসীরা।

কলগুলোতে তালা মেরে রাখায় চরম সমস্যায় পড়েছেন গ্রামবাসীরা। দেখা দিয়েছে পানীয় জলের সঙ্কট। দুই আড়াই কিলোমিটার দূরে পাশের গ্রাম থেকে নিয়ে আসছে পানীয় জল।কেউ কেউ চড়া দামে বাজার থেকে জল কিনে নিয়ে আসছেন। প্রশাসনের তরফ থেকে পানীয় জলের কোনো ব্যবস্থা না করায় প্রচন্ড ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।

দেগঙ্গার বিডিও সুব্রত মল্লিক অবশ্য বলেন যে কতগুলোতে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে সেগুলো সবই ব্যাক্তিগত মালিকানাধীন টিউবওয়েল। এলাকায় পানীয়জলের আলাদা কল আছে। পানীয় জলের কোনো সমস্যা নেই। যদিও গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন দুটি পাচশ ফুটের সরকারি কল আছে বটে। তবে তাতে জল পড়ে না।


স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে দিন পনেরো আগে থেকে মঞ্জিলহাটি মোল্লা পাড়ার একটি কলের ভিতর থেকে বুদ বুদ শব্দ শুনতে পায় গ্রামবাসীরা। বিষয়টিকে তখন খুব একটা গুরুত্ব দেননি গ্রামবাসীরা। মঞ্জিলহাটি মোল্লা পাড়ার বাসিন্দা জিয়ারুল মোল্লা বলেন দিন তিনেক আগে পাড়ার বাচ্চারা খেলার ছলে আগুন দেয় কলের মাথায়। দেখা যায় দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। আগুনের সেই ছবি ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। শুক্রবার বিষয়টি প্রশাসনকে জানান গ্রামবাসীরা। শুক্রবার রাতেই দেগঙ্গা থানার পুলিশ যায় মঞ্জিলহাটি গ্রামে। যাতে অগ্নিকান্ড না ঘটে তারজন্য প্রাথমিক সতর্কতা হিসেবে দমকলকেও ডাকা হয়। কিন্তু বেহাল রাস্তার কারণে গ্রামে ঢুকতেই পারেনি দমকলের গাড়ি। এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস আছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা রহমান উদ্দিন, করিম মোল্লারা বলেন, আমরা যে রান্নার গ্যাস ব্যাবহার করি তার আগুনের শিখা এবং টিউবওয়েলের গ্যাসের আগুনের শিখা একই রকমের। তাই ধারণা এখানে প্রাকৃতিক গ্যাস আছে। সাধারণ মাণুষের মতামত যাই হোক না কেন সরকারি শীলমোহর না থাকায় এবং প্রাকৃতিক গ্যাস বিশেষজ্ঞদের সুনিশ্চিতভাবে মতামত না পাওয়ায় সঠিকভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না। তাই দোলাচলে গ্রামবাসীরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only