মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৯

ভাইফোঁটার দিনে ফোঁটা নেওয়া হল না বোনের হাতে, তার আগেই মৃত্যু!



দেবশ্রী মজুমদার,রামপুরহাট, ২৯ অক্টোবর ঃ ভাইফোঁটার দিনে ফোঁটা নেওয়া হল না বোনের হাতে, তার আগেই মৃত্যু!  এই ঘটনায় শোকের আবহ গোটা গ্রাম জুড়ে!

 জানা গেছে, চারবছর পর কোম্পানির ছুটি মিলেছিল।তাই মা’কে বাইকে চাপিয়ে মামাতো বোনের কাছে যাচ্ছিলেন ভাইফোঁটা নিতে। কিন্তু পথে বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল অনুপ ঘোষ (৩৩) নামে এক সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের।ঘটনাটি ঘটে ময়ূরেশ্বর থানার আমড়া বাস স্ট্যান্ডে। এই ঘটনায় অনুপের মামার বাড়ি উলকুন্ডা পঞ্চায়েতের বহড়া গ্রামে বন্ধ হয়ে গিয়েছে ভাইফোঁটার আনন্দ।বন্ধ হয়ে গিয়েছে ফোঁটা উপলক্ষ্যে বাজানো রেকর্ডের সব গান। শোকগ্রস্থ গোটা মণ্ডল পাড়া।

পাটনায় বেসরকারি কোম্পানিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়রের কাজ করতেন অনুপ ঘোষ। চার বছর পর এবারই ভোঁটা নেওয়ার ছুটি মিলেছিল। তাই গ্রাম থেকে মা মীরা ঘোষকে মঙ্গলবার সকালে বাইকে চাপিয়ে মামার বাড়ি ময়ূরেশ্বরের বহড়াতে যাচ্ছিলেন অনুপ। কিন্তু ময়ূরাক্ষী নদীর ওপর গুনুটিয়া ঘাটে প্রচণ্ড ভিড়। এদিকে নৌকা কম। তাই সেখান থেকে মামাকে ফোনে ডেকে নেয় অনুপ।মাকে নৌকায় চাপিয়ে নিজে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ঘাটে।অনুপের মামা দিলীপ মণ্ডল বলেন, দিদিকে নিয়ে আমি বাড়ি আসি। যথারীতি ফোঁটা হয়। কিন্তু ভাগ্নে তখনও পৌঁছায়নি।ফোন করতেই ভাগ্নে জানায় নৌকায় ভিড় থাকায় বাইক চাপাতে পারিনি। তালবোনার ঘাট হয়ে ঘুরে আসছি বলে জানায়। কিন্তু দুপুর পেড়িয়ে বিকেলের দিকে গড়াতেই অধৈর্য্য হয়ে পরে মামাতো বোন পায়েল। প্রথম বর্ষের ছাত্রী পায়েল বলে চার বছর আগে দাদাকে ফোঁটা দিয়েছি।তেমন মনে নেই। তাই দাদা নিজেই বলেছিল এবার যাব তোর কাছে ফোঁটা নিতে যাব।তোর জন্য গিফট কিনেছি।আমি সকাল থেকে দাদাকে ফোঁটা দেব বলে না খেয়ে বসেছিলাম। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে পায়েলের কাছে ফোঁটা নিয়ে আমোদপুরের কাছে পিতাইপুরে নিজের বোন মৌসুমী ঘোষের কাছে যাওয়ার কথা ছিল অনুপের।কিন্তু দুপুরেই খবর আসে মামার কাছে।দিলীপবাবু বলেন, ভাগ্নেকে ফোন করতেই অপর প্রান্ত থেকে একটি অজানা ফোনে ভাগ্নে দুর্ঘটনার খবর আসে।ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি তার শরীরের ওপর দিয়ে চাকা চলে দ্বিখন্ডিত করে দিয়েছে।রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে আছে বাইক। ছিটিয়ে পরে আছে বোনের জন্য কেনা উপহারের প্যাকেট। মৃত্যুর খবর গ্রামে আসতেই স্তদ্ধ হয়ে যায় মণ্ডল পাড়া। নিভিয়ে দেওয়া হয়, দীপাবলি উপলক্ষ্যে সাজান আলোর মালা। দাদার মৃত্যু সংবাদ শোনার পর থেকে আর মুখে কিছু দেয়নি পায়েল। তার শুধু একটাই আক্ষেপ আমি সময়ে ফোঁটা দিতে পারলে যমের দুয়ারে নিশ্চয় কাঁটা পড়ত।আমার জন্যই দাদা আসছিল।সেই দাদাকে আর এ জীবনে ফোঁটা দেওয়া হল না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only