শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৯

জাতীয়তাবাদের জিগিরেরও সীমা আছে

আহমদ হাসান ইমরান

জোর প্রচারণা ছিল এবার মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার বিধানসভা নির্বাচন এবং বিভিন্ন রাজ্যে যে উপনির্বাচন হতে চলেছে– তাতে কেল্লাফতে করবে বিজেপি। বিভিন্ন জরিপ এবং পরবর্তীতে বুথফেরত সমীক্ষাতেও দেখা গিয়েছিল নরেন্দ্র মোদির জয়ের রথই ছুটবে। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল  ভোট-পণ্ডিতদেরও চমকে দিয়েছে। বিজেপির কর্মকর্তারাও প্রায় নিশ্চিত ছিলেন– লোকসভা নির্বাচনে মোদিজি যে ঝড় তুলেছিলেন তা এখন আরও পাকাপোক্ত হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনে অন্যতম অস্ত্র হিসেবে মোদিজি ব্যবহার করেছিলেন পুলওয়ামায় হামলা– বালাকোটে বিমানহানা ইত্যাদি দেশভক্তির আবেগকে। তাঁরা মনে করেছিলেন– মোদিজির জনপ্রিয়তার তুফান চলতেই থাকবে। এই ধারণার পিছনে অবশ্য আরও অনেক কারণ ছিল। যেমন– কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা প্রত্যাহার– কাশ্মীর উপত্যকার জনগণকে প্রায় আড়াই মাস ধরে অবরোধের মধ্যে রাখা– কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানকে টেক্কা দেওয়া--- এসবের ফলে মোদির জনপ্রিয়তা এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে তুঙ্গে ওঠে। কিন্তু অনেকে হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন তথাকথিত দেশভক্তির জিগির তোলারও একটা সীমা রয়েছে। জাতীয়তাবাদের ধুয়ো তুলে কিছুদিন হয়তো সমর্থন আদায় করা যায়– কিন্তু জনগণের জন্য কাজ না করলে তা বজায় রাখা খুব মুশকিল। লোকসভা নির্বাচনের পরে আমরা দেখেছি– দেশে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মন্দা জাঁকিয়ে বসেছে। গাড়ি থেকে শুরু করে অন্য কারখানাগুলি বন্ধ হওয়ার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। কর্মচারী ছাঁটাই হচ্ছে ব্যাপকভাবে। বিজেপি ভেবেছিল কাশ্মীরে ৩৭০ প্রত্যাহার– মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মোদিজির সভায় প্রবাসী ভারতীয়দের জনজোয়ার– অসমে ‘সফলভাবে’ এনআরসি সম্পন্ন করা প্রভৃতি এবারও দুই রাজ্য ও কয়েকটি প্রদেশের উপনির্বাচনে বিরোধীদের শুধু পরাস্ত করা নয়– সম্পূর্ণ নিকেশ করে দেবে। এ ছাড়া– তাদের সঙ্গে রয়েছে বড় হাতিয়ার মিডিয়ার জবরদস্ত তোষামোদি। মিডিয়াই সরকারের পক্ষে রাতকে পুরোপুরি দিন করে ছেড়েছিল। কিন্তু দেখা গেল– জনতা এবার তাতিয়ে তোলা জাতীয়তাবাদের আবেগকে একটু স্তিমিত করে নিজেদের রুজি-রোজগার ও পেটের কথাও ভাবতে শুরু করেছে। তারা দেখছে, নোটবন্দি ও জিএসটি এবং অসমে এনআরসি-র প্রত্যাশিত লক্ষ্য মোটেই পূরণ না হওয়ায় মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষুব্ধ হয়। তাই হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচন এবং প্রদেশগুলির কিছু আসনে উপনির্বাচন মোদি ও অমিত শাহকে দারুণভাবে হতাশ করেছে। উঠে এসেছে মুসলিম ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) ও এআইউডিএফ সহ কংগ্রেসের উত্থান। কিন্তু সামনে পশ্চিমবাংলা ও আরও কয়েকটি রাজ্যে যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে তার জন্য বেশ হাতিয়ার মোদি-অমিত শাহের তূণে রয়েছে। এর একটি হল, অযোধ্য। আর অন্যটি হল– এনআরসি করানোর আতঙ্ক এবং কোনও এক ক্ষুদ্র যুদ্ধে পাকিস্তানকে পরাজিত করা। আর এগুলো কতটা কার্যকর হয়– তাই এখন দেখার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only