শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৯

খুন না করেও শ্রীঘরে পাণ্ডা ও ৫ সুপারি কিলার!

কাউকে খুন না করেও খুনের দায়ে জেলে যেতে হল ৬ জনকে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন হল খুনের পরিকল্পনাকারী। বাকি ৫ জন হল সুপারি কিলার। তবে পরিকল্পনাকারী একজনকে খুনের জন্য সুপারি দিলেও খুন হতে হয়নি কাউকে। এই অদ্ভ(তুড়ে ঘটনাটি ঘটেছে চিনে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টা ভাইরাল হয়েছে। অনেকেরই প্রশ্ন, কেউ কাউকে যখন খুনই করেনি, তাহলে আদালত কীভাবে ৬ জনকে সাজা দিল। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ– রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ওয়েই মউ-কে পৃথিবী থেকে চিরতরে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল প্রতিদ্বন্দ্বী তান ইয়োহুই। কিন্তু এক বড় বেশ বড়মাপের ব্যবসায়ীকে কীভাবে খুন করলে কাক-পক্ষীও টের পাবে না, সেই নিয়ে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে তান ইয়োহুই। পুলিশ– মিডিয়াকে ঘুস দিয়ে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার ছকও কষেছিল সে। কিন্তু পরে মনে হয়– এতে অনেক হ্যাপা। 
কারণ, খুনের পর নিহতের পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করবে। পুলিশ তাদের থেকেও ঘুস খেতে পারে। আবার ওয়েই মউ যেহেতু প্রভাবশালী– তাই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপও হতে পারে। তখন পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারবে না। পুলিশকে বাধ্য হয়েই তদন্তে নামতে হবে। সেক্ষেত্রে শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যদি সম্ভব না হয়। তদন্তে যদি কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে যায়। এসব সাতপাঁচ ভেবে পুলিশকে ঘুস দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল হয়। সর্বোপরি পুলিশে ছুঁলে কত ঘা– তা আলবাত জানা ছিল রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী তান ইয়োহুই-এর। এরপর মিডিয়া প্রসঙ্গে অনেক ভেবেচিন্তে এক পা এগিয়ে তিন পা পিছিয়ে যায় সে। কারণ সাংবাদিকদের সে মনে করত সাংঘাতিক। এরা ইচ্ছে করলে সরকার বা গদি উলটে দিতে পারে। তাই পুলিশ-মিডিয়া ছেড়ে সরাসরি সুপারি কিলার ভাড়া করার সিদ্ধান্ত নেয় সে। পেশাদার খুনি– তাই টাকা দিলেই কেল্লাফতে। আগুপিছু ভাবতে হবে না।
২০ লক্ষ ইউয়ানের (২ কোটি ৫০ হাজার ৪৯০ টাকা) বিনিময়ে ওয়েই মউকে হত্যার জন্য শি গুয়ানগান নামে এক ভাড়াটে খুনিকে কন্ট্রাক্ট দেয় ইয়োহুই। কিন্তু এত কম টাকায় এ কাজ করে না বলে সে সাফ জানিয়ে দেয়। তবে সে বলে– নিজে না করে ওই টাকাতেই অন্য কাউকে দিয়ে কাজটা করিয়ে দেবে। সেই চুক্তি মতোই ২০ লক্ষ ইউয়ান মিডলম্যানের হাতে তুলে দেয় ইয়োহুই। সে অর্ধেক টাকা নিজে নিয়ে বাকিটা মুহাম্মদ তিয়ানজিংক নামে একজনকে দেয়। সেও একই পথে হাঁটে। এভাবেই খুন করার দায়িত্ব হাত ফেরত হতে হতে পঞ্চম জনের কাছে অফার পৌঁছলে ঘটে যায় বিপত্তি। কারণ– ততক্ষণে বিষয়টি পাঁচকান হয়ে গিয়েছিল। তাই পঞ্চম জন সুপারি নিলেও খুন না করে উলটে যাকে খুন করার কথা ছিল সেই ওয়েই মউ-কে জানিয়ে দেয় সে লিং জিয়াংসি। ব্যস্ পুরো কেস গড়বড় হয়ে যায়। অগত্যা জেলে যেতে হয় ৬ জনকেই। জানা গিয়েছে– ২০ লক্ষ ইউয়ানের সুপারি হাত ফেরি হতে হতে পঞ্চমজন পায় মাত্র সোয়া ১ লক্ষ ইউয়ান বা ১২ লক্ষ ৫২ হাজার ৮৮০টাকা। তাই ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ না করে পর্দাফাঁস করে দেয় লিং জিয়াংসি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only