শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৯

'দিদিকে বলো'-য় ফোন, হার্টের অপারেশন হল পাঁচলার ছোট্ট দেবিকার



মুহাম্মদ রাকিব উলুবেড়িয়া

পাঁচলার প্রভাত জাটির পর এবার দেবিকা হাজরা। মুস্কিল আসান হল 'দিদিকে বলো' প্রকল্পে ফোন করে। হার্টের ফুটো নিয়ে ঘুরতে থাকা বছর তিনেকের দেবিকা হাজরার অস্ত্রপচার হল এসএসকেএম হাসপাতালে।

হেল্পলাইনটিতে ফোন করার এক সপ্তাহের মধ্যেই মেয়ের অস্ত্রপ্রচার হওয়ায় খুশি গোটা পরিবার। পাঁচলার জুজারসাহের বাসিন্দা বছর তিরিশের সুরজিত হাজরার  একরত্তি মেয়ে দেবিকাকে নিয়ে এক বছর ধরে হার্টের অস্ত্রপচারের জন্য এসএসকেএমে হাসপাতালে যাতায়াত করছিলেন।গত ১১ অক্টোবর তিনি 'দিদিকে বলো' হেল্পলাইনটিতে ফোন করে মেয়ের সমস্যার কথা জানান। ১৮ অক্টোবর দেবিকার হার্টের অস্ত্রপচার হয় এসএসকেএমে। দেবিকা এখন সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরেছে গত মঙ্গলবার।
 
'দিদিকে বলো' প্রকল্পের মাধ্যমে মেয়েকে সুস্থ করে ফিরিয়ে আনতে পারায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সুরজিত ও তাঁর পরিবার। সুরজিত পেশায় জরির কারিগর। দেবিকা বছর দুয়েক ধরে সর্দিকাশির সমস্যায় ভুগছিল। বহু ডাক্তার দেখিয়েও কোনও সুরাহা হচ্ছিল না। সুরজিত এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে মেয়েকে নিয়ে যান। নানান পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন মেয়ের হার্টে ছিদ্র রয়েছে। চিকিৎসকরা অস্ত্রপচারের পরামর্শ দেন। অস্ত্রপচারের জন্য ভর্তি করার নির্দেশ দেন চিকিৎসকরা।এরপর বছর খানেক ধরে তিনি এসএসকেএমের বর্হিবিভাগে মেয়ের চিকিৎসা করাতে থাকেন। কিন্তু অস্ত্রপচারের জন্য ভর্তির দিন পাচ্ছিলেন না। মহা চিন্তায় পড়েন সুরজিত।

এরমধ্যেই তারা 'দিদিকে বলো' কর্মসূচির কথা জানতে পারেন। এরপর যোগাযোগ করেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা রমজান মোল্লার সঙ্গে। ১১ অক্টোবর তাঁরা ফোন করেন, 'দিদিকে বলো' হেল্পলাইনে। অন্য প্রান্তে থাকা ব্যক্তিকে মেয়ের রোগের বিস্তারিত বিবরণ দেন। সমস্যার কথা জেনে নেন এবং 'দিদিকে বলো' প্রকল্প অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন। পরদিনই তাঁরা সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে লিখে দেওয়া হয় ও বলা হয় এসএসকেএমে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করতে। 

সুরজিত জানান, আমরা সেখানে দেখা করি। কাগজ দেখে তারা বলেন, আগামী সপ্তাহে আসার জন্য। সেই অনুযায়ী আমরা কয়েক দিন আগে এসএসকেএমে যাই এবং ওই দিনই মেয়েকে ভর্তি করে নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।  শেষমেষ ১৮ আক্টোবর মেয়ের অস্ত্রপচার হয়।

সুরজিতবাবু আরও বলেন, মেয়ের অস্ত্রপচারের জন্য অনেক ছোটাছুটিও করেছি। সরকারি হাসপাতালের আশা ছেড়ে দিয়ে যোগাযোগ করেছিলাম বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে টাকার অঙ্ক শুনে মেয়ের ভালো হওয়ার আশায় কার্যত ছেড়ে দিয়েছিলাম। যাই হোক, দিদিকে বলো প্রকল্পের মাধ্যমে সমস্যার সুরাহা হল। আমরা এজন্য  মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। উল্লেখ্য গত একই ভাবে ২৪ শে এসএসকেএমে হার্টের অপারেশন হয়েছিল পাঁচলার বাসিন্দা প্রভাত জাঠির।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only