শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯

সামসী কলেজ-ছাত্রীর খুনির ফাঁসির দাবিতে অগ্নিগর্ভ রতুয়া

গত ১৪ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ ছিলেন সামসী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মর্জিনা খাতুন (২২)। তাঁর পচা গলা দেহ উদ্ধার হয় কলেজের কাছেই এক ধানক্ষেত থেকে। তাঁকে অপহরণ করে ধর্ষণের পরে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মৃতার পরিবার। পুলিশ ইতিমধ্যে ছাত্রীর হবু স্বামীকে গ্রেফতারও করেছে। শুক্রবার রাতে ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতার আত্মীয় ও বাসিন্দারা। পরিবারের তরফে অপহরণের অভিযোগ করা হয় থানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রতুয়া থানার পুলিশ তদন্তে নেমে মর্জিনার হবু স্বামী ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত স্থানীয় যুবক বাপি সেখকে গ্রেফতারও করে।
মালদার রতুয়া থানার এক কলেজ-ছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে মালদার রতুয়া রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন বাসিন্দারা। অবরোধের জেরে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায় রতুয়া মালদা রাজ্যসড়ক। রাজপথে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের বিক্ষোভে শামিল হয় সামসী কলেজের টিএমসিপি ইউনিটও। ফলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। অবরোধ তুলতে গেলে রতুয়ার ওসি কুণালকান্তি দাসের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি ছিল, এই ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান চাঁচলের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সজলকান্তি বিশ্বাস। তিনি বাসিন্দাদের বোঝান যে– মূল অভিযুক্তকে পুলিশ আগেই গ্রেফতার করেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আর কারা জড়িত– তা তদন্ত করছে পুলিশ। ফলে সিবিআই তদন্তের দাবি অবান্তর। 
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে– রতুয়ার বাহারালের উত্তর সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মনসুর সেখের মেয়ে মর্জিনা খাতুনের বিয়ে স্থির হয়েছিল রুকুন্দিপুর গ্রামের বাপি সেখের সঙ্গে। সে সেনাবাহিনীতে কর্মরত বলেই জানা গেছে। শরিয়ত মতে– বিয়ের সামাজিক প্রথা মেনে তাদের ‘মোহর’ও হয়ে যায়। বিয়ের বাকি অনুষ্ঠান মর্জিনার পড়াশোনা শেষ করার পরেই হওয়ার কথা ছিল দুই পরিবারের মধ্যে। মর্জিনার পরিবারের অভিযোগ– গত ১৪ অক্টোবর বাপি সেখ মর্জিনাকে সামসীতে কলেজের কাছে দেখা করতে ডাকে। তাদের মধ্যে বিয়ে স্থির হয়ে থাকায় মর্জিনার বাবা-মাও দু’জনের মোলাকাতে বাধা দেননি। মর্জিনা দুপুরের আগেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেও সন্ধ্যার পরেও ফিরে না আসায় তার পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর শুরু হয়। ফোন যায় বাপির কাছেও। কিন্তু বাপি জানায়– সেদিন নাকি মর্জিনা তার সঙ্গে দেখাই করেনি। এরপরেও মর্জিনা ফিরে না এলে রাতেই রতুয়া থানায় অভিযোগ জানায় মর্জিনার পরিবার। পুলিশ তৎপর হয়ে তদন্তে নামে। পরে গ্রেফতার করা হয় বাপিকে। ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয় বাপিকে। কিন্তু খোঁজ মেলেনি মর্জিনার। অবশেষে শুক্রবার রাতে তাঁর পচাগলা দেহ মেলে সামসী কলেজ যাওয়ার রাস্তায় এক ধানক্ষেত থেকে। 
সূত্রের খবর– রুকুন্দপুর গ্রামেই জনৈক মহিলার সঙ্গে বাপির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বাপির বিয়ে স্থির হয়ে যাওয়ার পরে সেই মহিলার পরিবার এবং বাপির পরিবারের মধ্যে বিরোধ বাধে। বিবাদ তুঙ্গে উঠলে মধ্যস্থতা করেন গ্রামবাসীরা। গ্রামের মধ্যে সালিশি সভা বসিয়ে দুই পরিবারের বিবাদও মেটানো হয়। মর্জিনার খুনের পেছনে এই ঘটনার কোনও যোগ আছে কি না– তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশ আরও জানিয়েছে– মর্জিনাকে খুন করে তার মুখে অ্যাসিড ঢেলে দেওয়া হয়। তাই মাথার খুলি বেরিয়ে গেলেও দেহের নিম্নাংশে অতটা পচন ধরেনি। সামসীর কান্ডারণ এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন– কলেজ যাওয়ার রাস্তায় একটি পানশালা রয়েছে। সেখানে দুষ্কূতিদের বেশ আনাগোনা হয়। পানশালাটি বন্ধের দাবিতে এলাকার মহিলারা শনিবার সন্ধ্যায় কলেজ মোড়ে ৮১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও দেখায়।     

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only