বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৯

কাশ্মীরে মুর্শিদাবাদের নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে সাহায্যের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর



জম্মু-কাশ্মীরে মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘির ৫ শ্রমিক নিহত হয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে পৌনে ৯ টা নাগাদ কাশ্মীরের কুলগামের কাতরাসু গ্রামে একটি বাড়িতে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণের ফলে রফিক শেখ (২৮), কামরুদ্দিন শেখ (৩০), মুরসালিন শেখ  (৩০), নইমুদ্দিন শেখ (২৮) এবং রফিকুল শেখ (৩০) নিহত হয়েছে। এছাড়া জহিরুদ্দিন শেখ নামে অন্য এক শ্রমিক আহত হলে তাকে অনন্তনাগ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা সেখানে একটি ভাড়া বাড়িতে থেকে শ্রমিকের কাজ করতেন। 

হামলাকারীরা তাদের বাসা থেকে টেনে বের করে গুলিবর্ষণ করলে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘির ব্রাহ্মণী গ্রামের ওই বাসিন্দারা কাশ্মীরে আপেল বাগানে অস্থায়ীভাবে শ্রমিকের কাজ করতেন।

রাজ্য পুলিশের ডিজিপি দিলবাগ সিং বলেন, ‘ওই শ্রমিকরা দৈনিক ভিত্তিতে এখানে কাজ করতে এসেছিলেন। সন্ত্রাসী হামলার পিছনে পাকিস্তানের মদদ রয়েছে।’ গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে বলেও ডিজিপি বলেন। কাশ্মীর পুলিশের আইজিপি এস পি পাণি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘কাশ্মীরে যেভাবে নিরাপরাধ শ্রমিকদের গুলি করে মারা হয়েছে তাতে আমি স্তম্ভিত! নিহতরা সবাই মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা।  কোনও রকম সান্তনা নিহতদের পরিবারের শোক কম করতে পারবে না। নিহতদের পরিবারগুলিকে সবরকম সাহায্য করা হবে।’

লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা, অধীর চৌধুরী এমপি বলেন, ‘কাশ্মীর আজ অত্যন্ত ঘৃণ্য ও জঘন্য হত্যালীলার সাক্ষী হয়ে রইল, সন্ত্রাসবাদীরা বর্বরোচিত আক্রমণ করে, পাঁচ গরিব মানুষের প্রাণ কেড়ে নিল। মানুষগুলো সকলে আমার জেলা মুর্শিদাবাদের মানুষ। 'ভারত সরকারের দেওয়া ভরসায় ভরসা করে, কাশ্মীরে রুটিরুজির জন্য গিয়ে, আজ ওঁরা প্রাণ দিল। খুব দুঃখ পাচ্ছি।’

কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে অধীর চৌধুরী বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদের খাতির করতে সরকার ব্যস্ত। সন্ত্রাসবাদীরা ব্যস্ত তাদের উপস্থিতি প্রমাণ করতে। আর প্রাণ যাচ্ছে সাধারণ মানুষের, যাঁরা কাশ্মীরের বাইরের মানুষ!

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, মৃত ৫ জনই মুর্শিদাবাদ জেলার। আমরা দাবি করছি কূলগামে জঙ্গী হানায় পাঁচ অ-কাশ্মীরির মৃত্যুর ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী অবিলম্বে জম্মু-কাশ্মীর সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য এক মন্ত্রীর সঙ্গে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল পাঠান।

এদিকে, কোনও সন্ত্রাসী সংগঠন ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দায় নেয়নি। ভয়াবহ ওই হামলার ঘটনায় রাজ্যের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only