বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯

এখনও ছুটির রেশ কাটেনি শহরের, কার্নিভালের প্রস্তুতিতে কলকাতা



চিন্ময় ভট্টাচার্য 

দুর্গাপুজো শেষ। কিন্তু, এখনও ছুটির আড়মোড়া ভাঙেনি কলকাতা। চার বছরের রেওয়াজ, কার্নিভালের ঘণ্টা না-বাজলে এই শহরের ছুটির মেজাজ কাটে না। কাল শুক্রবার, সেই মেজাজ কাটার মাহেন্দ্রক্ষণ। শরতের বিকেলে শুরু শোভাযাত্রা কাল সন্ধ্যার ছটা মেখে রাত পর্যন্ত রেড রোড ধরে পথ মাপবে। যাত্রাপথের দু'ধারে আলোয় ভেসে উঠবে রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্প। ভেসে উঠবে শহর কলকাতার নানা ইতিহাসখ্যাত স্থান। দর্শকাসনে  বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাসের প্রতিনিধিদের বার্তা দিয়ে শোভাযাত্রার দু'ধারে আলো তুলে ধরবে একটাই বার্তা- গোটা বিশ্বের ব্যবসার একমাত্র গন্তব্য এখন বাংলা।

এই বিদেশি দূতাবাসের প্রতিনিধিরা নিজের দেশের শিল্পকর্তাদেরও প্রতিনিধি। দূতাবাসের কর্তার কাছে বার্তা তাই, রাজ্য আর দেশের সীমা ছাড়িয়ে পৌঁছে যায় হেগ থেকে বনের মতো বিশ্বের নানা দেশে, নানা প্রান্তে। আর মাত্র কয়েকমাস, তার পর ফের বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য শিল্প সম্মেলন। নানা দেশের শিল্পকর্তাদের কাছে যেখানে রাজ্যের একটাই বার্তা থাকে, 'গন্তব্য বাংলা।'

দর্শকাসনে থেকে শোভাযাত্রার শোভাবর্ধন করবেন বহু বিশিষ্ট শিল্পী, গুণীজনও। নিজস্ব ক্ষেত্রে যাঁদের চিন্তা, যাঁদের ভাবনা দেশের গণ্ডী আগেই টপকে গিয়েছে। তাঁদের কাছে এই শোভাযাত্রাকে খুঁতহীনভাবে উপস্থাপন এক বড় চ্যালেঞ্জ রাজ্য সরকারের কাছে। তারই মধ্যে কয়েকদিনের পূর্বভাসের একমাত্র ফল বুধবারের বৃষ্টি কিছুটা হলেও যেন কার্নিভালের নিঁখুত হয়ে ওঠায় কালো ছোপ ফেলার চেষ্টা করেছে। গড়ের মাঠকে ভিজিয়েই তা ক্ষান্ত হয়নি। এখনও তার শরীরে চিহ্ন রেখে দিয়েছে। অসমান মাঠের ইতিউতি খন্দে টিকে থাকা সেই জল অবশ্য দর্শকদের চোখের আড়ালে থাকবে রাস্তার  দু'ধার বরাবর নীল-সাদা পর্দায়। 

এখন চলছে, সেসবেরই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মাঠের জলেভেজা শরীরের ওপর কার্পেট পাতা হচ্ছে বিশিষ্টদের যাতায়াতের জন্য। ঝকমক করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে গাড়ি রাখার জায়গাকে। গোটা রাস্তা. যেধারে খুশি তাকালেই দূর থেকে বহুুদূর পর্যন্ত চোখে পড়বে নীল-সাদা টুনি বাল্বের আলোয় মোড়া বাতিস্তম্ভ। অস্থায়ী টয়লেট থেকে বৈঠকের স্থল, বিশিষ্টদের কথা মাথায় রেখে শোভাযাত্রাকে নিখুঁত করে তুলতে তৈরি হয়েছে বহু অস্থায়ী তাঁবু। কোন দর্শকাসনে বিশিষ্টরা, কোথায় সাংবাদিকরা, কোথায় সাধারণ দর্শকরা বসবেন তা নিখুঁত পরিকল্পনা করে তৈরি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারও সেই সব মাথায় ছাদওয়ালা অস্থায়ী দর্শকাসনের টুকটাক কাজ চলেছে, কাঠে পেরেক পোঁতা, কাপড় টাঙানোর মতো। বৈদ্যুতিন চ্যানেলের সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যানরা তার মধ্যেই অভিজ্ঞতাকে সাক্ষী রেখে কোথায় ক্যামেরা রাখলে নিঁখুতভাবে ছবি তোলা সম্ভব, তার ট্রায়াল দিয়ে নিলেন।

মহিন আজ বেঁচে নেই। তাঁর উত্তরসূরি আসলাম, পারভেজ, সুলতানরা ঘুরতে আসা 'বাবু-বিবি'দের প্রতিদিন ভিক্টোরিয়া চত্বর থেকে টাঙায় চাপিয়েই ঘুরতে নিয়ে যান রেড রোড ধরে। তাঁরা শুক্রবার আর টুং-টাং শব্দ করতে করতে রেড রোডে টাঙা ছোটাতে পারবেন না। শোভাযাত্রার 'ডেস্টিনেশন বেঙ্গল' লক্ষ্যপূরণের জন্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only