বুধবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৯

প্রধানমন্ত্রীর সমালোচকদের শত্রু বা দেশ-বিরোধী মনে করার কারণ নেই : শশী থারুর

কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শশী থারুর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এক চিঠিতে বলেছেন,  প্রধানমন্ত্রীর সমালোচকদের শত্রু বা দেশ-বিরোধী মনে করার কারণ নেই।

দেশে গণপিটুনির ঘটনা বেড়ে চলায় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র  মোদিকে খোলা চিঠি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার অপরাধে রামচন্দ্র গুহ, অপর্ণা সেনসহ ৪৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিহারের মুজাফফারপুরে  রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হওয়ায় গতকাল (মঙ্গলবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শশী থারুর তার সমালোচনা করে ওই মন্তব্য করেছেন।

এপ্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শশী থারুর প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেছেন, ‘যাঁরা আপনার সমালোচনা করেন বা  আপনার মতের  বিরুদ্ধমত পোষণ করেন, তাঁদের শত্রু বা দেশবিরোধী মনে করার কারণ নেই। সমালোচনা ছাড়া কোনও উন্নয়নই হতে পারে না। যে সব সমস্যা দেশের নাগরিকদের  পীড়িত করে, সেগুলোর প্রতি আমরা যদি চোখ বুজে থাকি, তা হলে আধিপত্যবাদের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু দেশের সংবিধানে স্বীকৃত মূল্যবোধ আধিপত্যবাদের কথা বলে না।’

শশী থারুর বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে যারা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছেন তাদের দেশদ্রোহী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। কিন্তু এভাবে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা যায় না। গণতন্ত্রে প্রত্যেক নাগরিকের কথা বলার অধিকার রয়েছে এবং এমন পরিস্থিতিতে সরকারী এজেন্সিগুলোকে তাকে সম্মান করা উচিত।’

শশী থারুর তৎকালীন ব্রিটিশ রাজত্বের বিরুদ্ধে সকলে ভয়ে গুটিয়ে গিয়ে মুখ বন্ধ করে ফেললে ইতিহাসের গতিই অন্যরকম হতো বলে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এটাই কী নয়া ভারত?

প্রধানমন্ত্রী মোদীর পুরোনো ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে থারুর বলেন, ২০১৬ সালে মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দেয়ার সময় আপনি বলেছিলেন যে ভারতের সংবিধান একটি ‘পবিত্র গ্রন্থ’ এবং এটি এখানে বসবাসকারী সকল নাগরিককে বিশ্বাসের স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা এবং সকল নাগরিককে সাম্যের অধিকার দেয়।শশী থারুর বলেন, এরকম পরিস্থিতিতে আমরা চাই, ভারতের নাগরিক হিসেবে আমরা যেন রাষ্ট্রের গুরুত্ব সম্পর্কিত বিষয়গুলো আপনার সামনে তুলে ধরতে পারি। যাতে আপনি সেসম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে  পারেন। আমরা আশা করি আপনিও মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন করবেন যাতে 'মন কি বাত' (মনের কথা) নীরবতার আলোচনায় পরিণত না হয়।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে যারা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছেন তাদের দেশদ্রোহী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। কিন্তু এভাবে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা যায় না। গণতন্ত্রে প্রত্যেক নাগরিকের কথা বলার অধিকার রয়েছে এবং এমন পরিস্থিতিতে সরকারি এজেন্সিগুলোকে তাকে সম্মান করা উচিত।’

থারুর বলেন, ধর্মের নামেই হোক বা শিশু চুরির গুজবে, গণপিটুনি সকলের জন্যই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা কেমন দেশ, যেখানে উদ্বেগ প্রকাশ করলে এফআইআর হবে! সাংবাদিকরা কিছু ফাঁস করলে বা সত্য উদঘাটন করলে গ্রেফতার হবেন! শশী থারুর বিশিষ্টজনদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ায় তার তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only