বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯

চরম অর্থিক সংকটের মুখে রাষ্ট্রসংঘ, বেতন নিয়ে অনিশ্চতা


চরম অর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রসংঘ। সম্প্রতি সংস্থার মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুটেরেস জানিয়ে ছিলেন, চলতি অক্টোবরের মধ্যে ফুরতে চলেছে তাদের তহবিল। এই দশা থেকে সংস্থাকে উদ্ধার করতে সমস্ত সদস্য দেশগুলির কাছে ফান্ডের জন্য আবেদন করেন।

তিনি জানান, সদস্য দেশগুলি তাদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করে আগামী নভেম্বর মাসে কর্মীদের বেতন দিতে পারবে সংস্থা এবং কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়াটাও সম্ভব হবে না।
রাষ্ট্রসংঘকে সবচেয়ে বড় অর্থ সাহায্য দেয় আমেরিকা। প্রতিবছর সংস্থাটির রাজনৈতিক, মানবিক ও সামাজিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ২২ শতাংশ (প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা) অর্থই জমা পড়ে ওয়াশিংটনের অর্থসাহায্য থেকে। এবছর আমেরিকা প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা অর্থ তহবিল এখন পর্যন্ত পরিশোধ করেনি।

বৈঠকে রাষ্ট্রসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, বারবার চাওয়ার পর চলতি বছর ১২৮টি দেশ থেকে তহবিলে মাত্র ১৭ হাজার কোটি টাকা জমা পড়েছে যা অঙ্গসংস্থাগুলির কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। প্রতিবছর বিভিন্ন খাতে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয় রাষ্ট্রসংঘকে।

চলতি বছরে রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও বাজেট ঘাটতি রয়েছে। তহবিলের ২৮ শতাংশ ব্যয় করা হয় যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অনগ্রসর দেশগুলোতে শান্তি আনার কাজে। তবে এবছর রাষ্ট্রসংঘকে ২৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করতে হয়েছে এই খাতে।

শান্তিরক্ষা মিশনে রাষ্ট্রসংঘকে সৈন্য সহায়তা করে থাকে ভারত, বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া, নেপাল ও রুয়ান্ডা। আর মূলত রাষ্ট্রসংঘকে অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে উন্নত দেশগুলি।

এদিকে রাষ্ট্রসংঘের পাল্টা বিবৃতিতে আমেরিকা জানায়,রাষ্ট্রসংঘকে এবছর ১৬ হাজার কোটি অর্থ দেওয়ার পর আরও অর্থসাহায্য দেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য বোঝা হয়ে যায়। সংস্থাটির বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমাতে রাষ্ট্রসংঘকে অনুরোধ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only