সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৯

ছটপুজোর ফলেই মাছ-কচ্ছপের মৃত্যু হয়েছে জানালেন পরিবেশবীদরা


পুবের কলম ডিজিটাল ওয়েব ডেস্ক : গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে রবীন্দ্র সরোবরের জলের গুণগত মান পরীক্ষা করা হয়েছিল রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তরফ থেকে।

দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের রিপোর্ট অনুযায়ী, জলের গুণগত মান 'সি' পাওয়া গিয়েছিল। অর্থাৎ এই জল পানের উপযোগী। কিন্তু পুলিশের সামনে অবাধে ছটপুজো হয়েছে রবীন্দ্র সরবরে। বাজিও ফাটানো হয়েছিল। সোমবার সকালে প্রাতভ্রমণকারীদের চোখে পড়ল এক অদ্ভুত ঘটনা। রবীন্দ্র সরবরের জল থেকে ভেসে উঠছে কচ্ছপ ও মাছের মৃতদেহ, তাই নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা।

পরিবেশবিদদের একজন জানান, রোইং ক্লাবের কাছে সোমবার সকালে ১২টি মাছ এবং বিরল প্রজাতির একটি কচ্ছপের মৃতদেহ ভাসতে দেখা যায়। এই জল কয়েকদিন আগে পর্যন্ত পানের উপযোগী ছিল। তারা এখানে যত রকম ভাবে দূষণ হতে পারে, তা করেছে। এর প্রতিবাদে ফের পরিবেশ আদালতে মামলা করা দরকার।

লেক লাভার্স ফোরামের সদস্য সোমেন্দ্রবাবু বলেন, 'গত ১৪ অক্টোবর রাজ্য সরকারকে গ্রিন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল সরোবরের দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিতে। আমরা খবর পেয়েছি এ ব্যাপারে আদালত প্রশাসনের কাছে কৈফিয়ৎ চাইবে। জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশ ভাঙা নিয়ে যত শোরগোলই হোক, শনিবারের মত রবিবারও রবীন্দ্র সরোবরের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। পুলিশের সামনে দিয়েই ওই দিন ছটপুজোর জনতা অবাধে সরোবরের ভিতরে ঢুকেছে।'

মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে শনিবার ও রবিবার মিলিয়ে সরোবরে আগত পুণ্যার্থীদের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজাররে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। আগের দিন গেটের তালা ভেঙে সরোবরে ঢুকেছিল একদল ছটপূজাকারী। নিয়ম অনুযায়ী রবিবার রবীন্দ্র সরোবরের সমস্ত গেট বেলা ১২টার পরে খোলার কথা থাকলেও সাত সকালেই সব গেট খুলে দেওয়া হয়েছিল। আলো ফোটার আগে থেকেই ভিড় করে  বসেন পুণ্যার্থীরা। একাধিক জায়গায় যজ্ঞ হয়েছে। তার ধোঁয়ায় চারদিক ছেয়ে গিয়েছে।
প্রাতভ্রমণকারীদের বক্তব্য, দূষণবিধি না মেনে সরোবরে ছটপুজো করাতেই মাছ ও কচ্ছপের মৃত্যু হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only