শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯

রাত পোহালেই বাবরির রায়



নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে সুপ্রিম-রায়ের অপেক্ষায় অযোধ্যা



বাবরি নিয়ে সুপ্রিম-রায়ের কাউন্টডাউন শেষ৷  রাত পোহালেই বাবরি-রামজন্মভূমি বিতর্ক নিয়ে চূড়ান্ত রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট। শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় রায় ঘোষণা হবে৷ বন্ধ থাকবে ইউপির স্কুল কলেজ৷ প্রধানমন্ত্রী মোদি ও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা দেশবাসীকে শান্তিরক্ষার আহবান জানিয়েছেন৷ 

তার আগে শুক্রবার শীর্ষ কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ উত্তরপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে রাজ্যটির শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধান বিচারপতি তাঁর চেম্বারে ইউপির মুখ্য সচিব রাজেন্দ্রকুমার তিওয়ারি, পুলিশ প্রধান ওম প্রকাশ সিং-সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। রায় বাবরি মসজিদ বা রামজন্মভূমি– যেদিকেই গড়াক না কেন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন প্রধান বিচারপতি। এ কারণেই রায়ের আগে অযোধ্য-সহ উত্তরপ্রদেশে নিরাপত্তার বন্দোবস্ত নিয়ে জানতে চেয়েছেন প্রধান বিচারপতি। বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের ( বাকিরা হলেন বিচারপতি এসএ বোবদে– বিচারপতি চন্দ্রচূড়– বিচরপতি অশোক ভূষণ ও বিচারপতি আব্দুল নাজির) সাংবিধানিক বেঞ্চ এই মামলা নিয়ে ৪০ দিন ম্যারাথন শুনানি শেষ করেছে। তারপরই এই রায় নিয়ে উত্তেজনা ও কৌতূহল তুঙ্গে দেশজুড়ে। এই বৈঠকের পরে দেশবাসীর একাংশের ধারণা– দু-একদিনের মধ্যেই হতে পারে রায়। জল্পনা বাড়ে বৈঠকের পর৷ অবশেষে রাত ন'টার পরে জানানো হয়, শনিবার সকালেই রায় ঘোষণা করবে আদালত৷   তবে রায় যেদিকেই যাক– জনসম্মুখে হিন্দু-মুসলিম কারওরই প্রতিক্রিয়া বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের ডিজিপি ওপি সিং।     

বাবরি মামলা নিয়ে স্বরাষ্ট্র দফতর বৃহস্পতিবার সব রাজ্যকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানোর একটি প্রাথমিক  র্নিদেশও দেওয়া হয়েছে। অযোধ্যায় ৪০০০ আধাসেনা মোতায়েন হয়েছে ইতিমধ্যে। শুক্রবার প্রশাসনের তরফ থেকে বাবরি মসজিদের দিকে যাওয়া সমস্ত রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে মোতায়েন নিরাপত্তারক্ষী । জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশির পর শুধুমাত্র পায়ে হেঁটে ওই সব রাস্তায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে।

 বিভিন্ন ধর্মের নেতা– রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ শান্তি বজায় রাখতে পুনঃপুন আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার দিল্লির জামা মসজিদের শাহি ইমাম সৈয়দ আহমেদ বুখারী দেশবাসীকে বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা রাখতে বলেন। রায়ের পর যাতে কোনও উত্তেজনা না ছড়ানো হয়– সেই আবেদনও তিনি রাখেন। শাহি ইমাম বলেন– ‘আমাদের এ ব্যাপারে সংযম ও ধৈর্য অবলম্বন করতে হবে। এখন দেশ ও জাতি এক পরীক্ষার সামনে। দু’পক্ষই আবেগের বশে উত্তেজিত হতে পারে। কিন্তু আমি অনুরোধ করব– আপনারা বিচারব্যবস্থার উপর বিশ্বাস রেখে ধৈর্য ধরবেন– সংযম পালন করবেন। আমি আশা রাখব– সংবিধানের মর্যাদা রক্ষিত হবে এবং আইনের শাসন নিয়ে কোনও আপস করা হবে না।’ দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্তও এদিন দেশবাসীকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানান। রায় যা-ই আসুক– তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে দেশের মানুষকে শান্ত থাকতে হবে– অনুরোধ রজনীকান্তের। অল ইন্ডিয়া মুসলিম মজলিশ-ই-মুশাওয়ারাতের প্রেসিডেন্ট নাবিদ হামিদ এ প্রসঙ্গে বলেন, বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমি হিন্দু বা মুসলিম– যার ভাগেই যাক না কেন– শান্তি বজায় রাখতে হবে। ১৯৯২-এর মতো সাম্প্রদায়িক হিংসা যেন আর না দেখতে হয়। শান্তি ও সংযম বজায় রাখার আবেদন সর্বস্তরে হলেও মুসলিম পক্ষই এ ব্যাপারে বেশি এগিয়ে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। মুসলিমরা সংখ্যালঘু– দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে বেশি। তাই আগে থেকেই তারা কোনও প্ররোচনায় পা দিতে চাইছে না বলে মনে করছে একাংশ।             


অন্যদিকে– রেল পুলিশ কর্তৃপক্ষের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তাতে ছুটি বাতিল করা হয়েছে আরপিএফ জওয়ানদের। রেল স্টেশন চত্বর– প্ল্যাটফর্ম ও স্টেশন সংলগ্ন পার্কিংয়ের জায়গায় কড়া নজরদারি চলছে। এর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও চলছে কড়া নজরদারি। তৈরি হয়েছে অস্থায়ী জেল। বেশ কিছু স্কুলকেও অস্থায়ী জেল বানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে অযোধ্যা অপেক্ষা করছে সুপ্রিম-রায়ের।    

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only