বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৯

করিমপুরে সবুজ ঝড়ে উড়ে গেলেন জয়প্রকাশ, ‘জয় মমতার জয় জনতার’ বলল মহুয়া,টীম পিকে ও বিমলানন্দ সিংহ রায়



















 

শফিকুল ইসলাম:
করিমপুরে বিজেপির কোনও সম্ভাবনা ছিল না। কিন্তু হেভিওয়েট জয়প্রকাশমজুমদারকে প্রার্থী করেছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু তিনি অনেক ব্যবধানে  হেরে গেলেন।করিমপুরে ২৪,১১৯ ভোটে জয়ী হলেন তৃণমূলের বিমলেন্দু সিংহ রায় ।এই কেন্দ্রে তৃণমূল পেয়েছে ১,০২৬৩৩  ,বিজেপি  পেয়েছে ৭৮,৫০২ ; কংগ্রেস- সিপিএম জোট পেয়েছে ১৮৪১৫ ভোট।
বৃহস্পতিবার সকাল আট‌টা থেকে ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই দাপট দেখায় শাসক দল। দ্বিতীয় রাউন্ডেই সবুজ বাহিনী প্রায় ১৪ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। পরের রাউন্ডগুলিতেও ব্যবধান বাড়িয়েছে শাসক দল। করিমপুর কেন্দ্রে জয় যে নিশ্চিত, সেকথা আগেই জানিয়েছিলেন শাসক দলের নেতারা। ভোট গণনা শুরুর পর থেকে সেই প্রবণতাই লক্ষ্য করা গেল। ভোটের ব্যবধান একসময়ে ২৮ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সবকটি রাউন্ডের গণনার শেষে ২৪,‌১১৯ ভোটে বিজেপি প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদারকে হারাল শাসক দলের প্রার্থী বিমলেন্দু সিং রায়।
করিমপুরের বিধায়ক ছিলেন মহুয়া মৈত্র। গত লোকসভা নির্বাচনে তিনি সাংসদ বিধায়ক পদে ইস্তফা দেন। তার সেই কারণেই করিমপুরে উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়ে। বরাবরের মতো করিমপুরে নিজেদের ঘাঁটি ধরে রাখতে পারল শাসক দল। করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। ২০১৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১৫৯৮৯ ভোটে জিতেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। অন্য দিকে এ বছর লোকসভা নির্বাচনের নিরীখেও এই বিধানসভা কেন্দ্রে এগিয়ে ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। উল্লেখযোগ্যভাবে লোকসভার নিরীখে এবং গত বিধানসভা ভোটে জয়ের যে ব্যবধান ছিল, সেটা আরও অনেকটাই বাড়ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
‌‌‌সীমান্তবর্তী কেন্দ্র করিমপুরে বিজেপি প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদার প্রথম থেকেই এনআরসিকে মূল ইস্যু করেছিলেন। তা-ই বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে বিজেপির। বিজেপি লড়াইয়েই আসতে পারেনি। এমনকী একটা সময়ে তৃতীয় স্থানেও নেমে গিয়েছিল বিজেপি। তৃণমূল ক্লিন সুইপ করে বেরিয়ে গিয়েছে এই কেন্দ্রে।
তবে কি এনআরসি ফ্যাক্টরই কি ব্যাক-ফায়ার করল বিজেপিকে! লোকসভায় বিপুল ভোটে পিছিয়ে থেকেও উপনির্বাচনে অসাধারণ কামব্যাক করল তৃণমূল কংগ্রেস মমতা-ঝড়ে ম্লান হয়ে গেল গেরুয়া শিবিরতৃণমূল সূত্রের খবর, কলকাতার বৈঠকে মহুয়া মৈত্র দলনেত্রীকে বলেছিলেন, করিমপুরে বাইরের কাউকে পাঠানোর প্রয়োজন নেই, তাঁরাই দেখে নেবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সতর্কবার্তা ছিল—  ‘ওভার-কনফিডেন্স’ ভাল না। ফলে এই নির্বাচন মহুয়ার কাছে নিজের আত্মবিশ্বাস প্রমাণ করারও অগ্নিপরীক্ষা  ছিল। সেই পরীক্ষায় তিনি সফল।কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা সভায় মানস ভুঁইয়াকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা উঠলে করিমপুরের প্রাক্তন বিধায়ক বলে এসেছিলেন, এই ভোট তাঁরা নিজেরাই দেখে নিতে পারবেন তাই জেতার কৃতিত্ব  তাঁরই তৃণমূলের হয়ে প্রচারে ফিরহাদ হাকিম ব্রাত্য বসুরা এসেছিলেন। কিন্তু বিজেপি যেখানে নেতা-অভিনেতাদের পুরো ফৌজ নামিয়েছিল, তৃণমূলের চক্রব্যূহ আবর্তিত হয়েছিল মহুয়াকে ঘিরেই ।মহুয়া বললেন,জয় জনতার ,মমতা দিদির উন্নয়ন আর পাশে থাকার।বিমলেন্দু সিংহ রায় বললেন,জয় মমতার,মহুয়ার,তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের ।
নির্বাচনের  পর বিজেপির তরফে জানানো হয়েছিল তাঁরা ৩-০-এ জিতবেন। এমনকি দলীয় সভাপতি অমিত শাহকে নাকি একথাই জানিয়ে এসেছিলেন মুকুল রায়। কোন কেন্দ্রে কত ভোটে জয় আসতে পারে, তারও একটা হিসেব দিয়েছিলেন।এদিন সকালে ইভিএম খুলতেই অবশ্য চিত্রটা বদলে যায়।করিমপুরে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী আস্তে আস্তে সেই ব্যবধান আরও বাড়ে।
 করিমপুরের ঘিয়াঘাটের ইসলামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ ৩৩ নম্বর বুথ উপনির্বাচনের পর সবচেয়ে বেশি চর্চায় এই জায়গাটি এখানেই জয়প্রকাশ মজুমদারকে হেনস্থা করে ঝোপে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল  দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কয়েকদিন ধরে জোর জল্পনা চলছিল রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করেছিল, সব সমীকরণ বদলে তৃণমূলের জেতা আসন ছিনিয়ে নিতে পারে বিজেপি অনেকে লোকসভা নির্বাচনের সময় অর্জুন সিংহের পড়ে যাওয়া এবং নির্বাচনের ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে এনেছিলেন কিন্তু সব সমীকরণ বদলে গেল যেখানে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল, সেখানেই ৩২ নম্বর বুথে মাত্র টি এবং ৩৩ নম্বর বুথে ৩৮টি ভোট পেলেন জয়প্রকাশ মজুমদার ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only