বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৯

বাবরী রায়ের আগে কয়েক হাজার আধাসেনা মোতায়েন, প্রস্তুত অস্থায়ী কারাগার


পুবের কলম ডিজিটাল ওয়েব ডেস্ক :  উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার বাবরী মসজিদ-রাম জন্মভূমি বিতর্ক মামলার রায় বেরোনোর আগে রাজ্যটিতে কয়েক হাজার আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করাসহ অস্থায়ী কারাগার প্রস্তুত করা হয়েছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অযোধ্যায় এরইমধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন রায়কে কেন্দ্র করে সমস্ত রাজ্যকে সতর্ক থাকতে বলেছে। আগামী ১৭ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ  অবসর নেবেন। তাঁর অবসরের আগেই প্রধান বিচারপতি গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বিচারপতির সমন্বিত সাংবিধানিক বেঞ্চ এ সংক্রান্ত দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
জমিয়তে ওলামা হিন্দের অযোধ্যা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ ইরফান বলেছেন, ‘প্রশাসনের প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা আছে এবং আমরা আশা করি এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকবে। এলাকায় কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন আরও সুরক্ষিত বোধ করবে।’

ফৈজাবাদের সিনিয়র পুলিশ সুপার আশীষ তিওয়ারি বলেছেন,  ‘মুসলিম জনবহুল এলাকায় ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশদের পাশাপাশি সিআরপিএফও মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা পর্যবেক্ষণ করছে।’ ফৈজাবাদের জেলা প্রশাসক অনুজ কুমার ঝা বলেছেন, ‘আমরা মুসলিম সম্প্রদায়কে আশ্বাস দিয়েছি কোনওভাবেই অযোধ্যায় শান্তি বিঘ্নিত হবে না।’

এদিকে, গতকাল (বুধবার) জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সর্বভারতীয় সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানী এক বিবৃতিতে বলেছেন,  বাবরী মসজিদ, আইন ও বিচারের দৃষ্টিতে একটি  মসজিদ ছিল। মসজিদটি সেখানে প্রায় ৪০০ বছর ধরে ছিল। সুতরাং, শরীয়া অনুযায়ী এটি এখনও একটি মসজিদ। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা ও শক্তির ভিত্তিতে তাকে যে কোনও রূপ দেওয়া হোক না কেন কিয়ামত পর্যন্ত তা মসজিদ হিসেবেই থাকবে।’ 
তিনি অবশ্য আরও বলেছেন, ‘এখন আদালত যে রায় দেবে তা সব সমাজকে গ্রহণ করা উচিত। মুসলিমরা দেশের বিচার বিভাগের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখে এবং সুপ্রিম কোর্ট যে সিদ্ধান্তই দেবে, তারা তা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাবে। দেশের সকল পক্ষের উচিত আদালতের রায়কে স্বাগত জানানো।’

এদিকে, এরইমধ্যে উত্তর প্রদেশ সরকার রাজ্যটিকে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এপর্যন্ত  ৪০ কোম্পানি  আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। এরমধ্যে সিআরপিএফ, আইটিবিপি, সিআইএসএফ এবং এসএসবি জওয়ান রয়েছে। রাজ্যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কিছু অস্থায়ী কারাগার তৈরি করতে চলেছে উত্তর প্রদেশ প্রশাসন। অম্বেদকরনগরের কলেজগুলোকে কারাগারে পরিণত করা হচ্ছে।

অম্বেদকর জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে,  বিভিন্ন কলেজে ৮টি অস্থায়ী কারাগার বানানো হবে। আকবরপুর, টানডা, জালালপুর, জেটপুর, ভিটি এবং আল্লাপুরে ওই  কারাগারগুলো তৈরি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভির বাসায় আরএসএস ও মুসলিম সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে গুজব ও ভুয়ো খবরের মোকাবিলায় উভয়পক্ষই সদর্থক ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মুখতার আব্বাস নাকভি বলেন, অযোধ্যা মামলার রায় পক্ষে গেলে কেউ যেন উচ্ছ্বাসে ভেসে না যান, কিংবা বিপক্ষে গেলেও কেউ যেন হাহাকার না করেন। এদিনের ওই বৈঠকে আরএসএস নেতা কৃষ্ণগোপাল, রামলালের মতো  নেতাদের পাশাপাশি মাওলানা মাহমুদ মাদানী, শাহীদ সিদ্দিকি, কমাল ফারুকী, নির্দেশক মুজাফফার আলীর মতো মুসলিম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অযোধ্যার জেলা প্রশাসক অনুজ কুমার ঝা সম্প্রতি এক আবেদনে বলেছেন,  ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানহানিকর এমন কোনও পোস্ট লাইক, শেয়ার এবং ফরোয়ার্ড করবেন না, যাতে কোনও সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত লাগবে।’

অযোধ্যায় আগামী ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মিছিলে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ওইদিন পর্যন্ত ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only