শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

স্বামী জহিরউদ্দিনকে দেখে কেঁদে ফেললেন স্ত্রী পারমিতা

লাল শাড়িতে স্ত্রী পারমিতা
সাহিন হোসেন

কাশ্মীরের কুলগাম থেকে বুধবার মধ্যরাতে কলকাতায় ফিরেছেন গুলিবিদ্ধ বাঙালি শ্রমিক জহিরুদ্দিন সরকার। সাংসদ ও পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরানের আন্তরিক উদ্যোগে এরপর জখম জহিরুদ্দিনকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে সুব্যবস্থা করেন। কাশ্মীরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর ২ সপ্তাহ অতিক্রান্ত হয়েছে ইতিমধ্যে। স্বাভাবিক ভাবেই মুর্শিদাবাদে জহিরুদ্দিনের পরিবার দিন কাটাচ্ছিল চরম উৎকণ্ঠায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তাকে ফেরানোর আর্জি জানিয়েছিলেন জহিরুদ্দিনের স্ত্রী পারমিতা। তাই প্রিয়জন ফিরতেই সুদূর মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির বাহালনগর গ্রাম থেকে কলকাতায় এসে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা। 

গত ২৯ অক্টোবর কাশ্মীরে হামলায় নিহত হয় ওই গ্রামের পাঁচ শ্রমিক। সেদিন গুরুতর আহত হন জহিরুদ্দিন। শ্রীনগর হাসপাতালে ১৫দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার গভীর রাতে কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন জহিরুউদ্দিন। পুলিশের সঙ্গে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন জহিরুদ্দিনের ভাই আবদুল আহাদ সরকার ও আত্মীয় দিলবর শেখ। বৃহস্পতিবার জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমানের তত্ত্বাবধানে বাড়ি থেকে রওনা দেন জহিরুদ্দিনের স্ত্রী, বাবা-মা, আত্মীয়রা। সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ ট্রমা কেয়ার সেন্টারে জহিরুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন স্ত্রী পারমিতা। তারপর একে একে দেখা করেন তার মা-বাবা এবং কয়েকজন আত্মীয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ছেলেকে দেখতে পেয়ে ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে বাবা-মায়ের। জহিরুদ্দিনের বাবা আবদুস সামাদ সরকার বলেন, এবার আমার ছেলেটাকে সুস্থ দেখতে চাই। দু’সপ্তাহ ধরে ছেলেকে নিয়ে টেনশনে ঘুমোতে পারিনি। 

মৃতু্যর মুখ থেকে বেঁচে ফিরে আসা স্বামীকে দেখার পর বাইরে এসে কেঁদে ফেলেন পারমিতা সরকার। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘যতই অভাব হোক, আর কাশ্মীরে কাজ করতে যেতে দেব না আমার স্বামীকে।’ ট্রমা সেন্টারে স্বামীকে বলে আসেন, তুমি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠো। আবেগ ও উৎকণ্ঠায় এর বেশি কিছু বলতে পারেননি পারমিতা।       

এখন কেমন আছেন জহিরুদ্দিন?

শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে পিজি হাসপাতালে জহিরুদ্দিনকে আরও একবার দেখতে যান সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান, অধ্যাপক ওয়ায়েজুল হক। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় জরুরি বিভাগ থেকে তাকে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদিন সাংসদ আহামদ হাসান ও অধ্যাপক ওয়ায়েজুল হাসপাতালের সুপারের সঙ্গে ফের একবার বৈঠক করেন। সুপার জানান, জহিরুদ্দিন ক্রমশ সুস্থ হচ্ছে। তবে ওর পেটে সার্জারি করতে হবে। তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ওর হাতটা সোজা করতে পারছে না। সেটারও চিকিৎসা চলছে। আমরা জহিরুদ্দিনের দিকে সবসময় নজরে রাখছি বলে সাংসদ ও পুবের কলমের সম্পাদক ইমরানকে আশ্বস্ত করেন সুপার। 

শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরবেন। জহিরুদ্দিনের পথ চেয়ে সাগরদিঘির বাহালনগর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only