রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৯

হোয়াটসঅ্যাপ-ফোনে আড়ি পাতাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও বিরোধীদের মধ্যে বাকযুদ্ধ



পুবের কলম ডিজিটাল ওয়েব ডেস্ক :  ফোনে ও হোয়াটসঅ্যাপে আড়ি পাতাকে কেন্দ্র করে শাসক দল বিজেপি ও বিরোধীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে কার্যত বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারই পুরো ব্যাপারটা করেছে। দু’-তিনটি রাজ্য সরকারও এর সঙ্গে রয়েছে। এরমধ্যে একটি রাজ্যে বিজেপিশাসিত সরকার এবং অন্য একটিতে অন্য দল ক্ষমতায় রয়েছে। এর ফলে ব্যক্তির গোপনীয়তার অধিকার খর্ব হচ্ছে।’ গতকাল (শনিবার) তিনি ওই মন্তব্য করেন। 

মমতা বলেন, ‘রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিচারক, আমলা, সাংবাদিক- সব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ফোনেই আড়ি পাতা হচ্ছে। এখন হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং মেসেজও রেকর্ড করে নিচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা। আমার ফোনেও যে আড়ি পাতা হয়, তা তো আমি জানি। পুরো ব্যাপারটাই এক ধরনের চরবৃত্তি।’

কোনও কোনও এলাকায় গাড়িতে আড়ি পাতার যন্ত্র বসিয়ে মানুষের ফোনে কথোপকথন এবং মেসেজ রেকর্ড করা হচ্ছে বলেও মমতার অভিযোগ।

ভারতের বেশকিছু সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীর উপরে নজরদারি চালাতে ইসরাইলি স্পাইওয়্যার পেগাসাস ব্যবহার করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই হোয়াটঅ্য়াপ কর্তৃপক্ষ তা স্বীকারও করেছে। নজরদারির তালিকায় বেশ কয়েকজন ভারতীয় রয়েছেন। 

প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী বলেন, ‘ইসরাইল থেকে প্রাপ্ত স্নুপিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ওপরে নজরদারি  চালিয়েছে মোদি সরকার। এধরনের কার্যকলাপ কেবলমাত্র অবৈধ ও অসাংবিধানিক, তাই নয়। অত্যন্ত নিন্দনীয়ও বটে।’

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন, ‘যদি বিজেপি বা সরকার ইসরাইলি এজেন্সিগুলোকে সাংবাদিক, আইনজীবি, নেতা-কর্মী ও রাজনীতিবিদদের ফোনে আড়ি পাতার জন্যে নিযুক্ত করে থাকে, তবে এটি মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘনের ঘটনা এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক তদন্তমূলক একটি কলঙ্ক। সরকারের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছি।’

এব্যাপারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির সিনিয়র নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন,  ‘হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ভারতের নাগরিকদের গোপনীয়তা ফাঁস হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত সরকার। এব্যাপারে আমরা হোয়াটসঅ্যাপের থেকে জানতে চেয়েছি এবং কোটি কোটি ভারতবাসীর গোপনীয়তা রক্ষার জন্যে সবরকমের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

সোনিয়া গান্ধীর মন্তব্যের পাল্টা জবাবে বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা জে পি নাড্ডা বলেছেন, সোনিয়ার আগে এটা স্পষ্ট করা উচিত যে, সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ওপর কারা নজরদারি চালিয়েছিল?

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘ফোন ট্যাপ হয়েছে,  সেটা তো আগেও বলেছেন। কোনও প্রমাণ আছে কি?’

কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সূর্যেওয়ালা বলেছেন,  ‘হোয়াটসঅ্যাপ স্পাই গেট নিয়ে অসৎ বিজেপি সরকার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করছে। সরকারের পক্ষে কে এই বেআইনি সফটওয়্যার কিনে তা মোতায়েন করল? কে কিনেছে? প্রধানমন্ত্রী না এনএসএ কর্তৃপক্ষই এই দায়িত্ব দিয়েছিল? গত মে মাসে যদি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারকে নজরদারির কথা জানায়, তবে সরকার নীরব ছিল কেন? দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?’

অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা মুফতি বলেছেন,  আমি এতে অবাক হই না। আমাকে মোবাইলে আমার মায়ের সাথে কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা না করতে বলা হয়েছিল। কাশ্মীরে মোবাইল, ল্যান্ডলাইনে নজরদারি করা হচ্ছে। সরকার কেবল স্পাইওয়্যারের জন্য ইসরাইলের সহায়তা নিচ্ছে না, কাশ্মীরে গাজার মতো নিপীড়নমূলক নীতিমালাও প্রয়োগ করছে বলেও ইলিতিজা মন্তব্য করেছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only