মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯

জমি ফেরত দেওয়ার দাবিতে ফের সরব শিবপুর মৌজার চাষিরা


পুবের কলম, ওয়েব ডেক্স: জমি ফেরত দেওয়ার দাবিতে ফের সরব শিবপুর মৌজার চাষিরা। মঙ্গলবার কয়েকজন চাষি  প্ল্যাকার্ড নিয়ে  জমি ফেরতের দাবিতে বোলপুর চিত্রা মোড়ে বিশ মিনিটের পথ অবরোধ এবং পথ সভা করে। তারপর পুলিশ এসে তাদের তুলে দেয়। পথ সভা থেকে সাধারণ মানুষের হাতে তারা তাদের লিফলেট বিলি করে।

চাষিদের তরফে বোলপুর ভুবন ডাঙার বাসিন্দা রিপন সেখ বলেন, ২০১৩ সালের তৈরী তৃণমূলের আইন অনুযায়ী যদি সিঙ্গুরে চাষিরা জমি ফেরত পায়, তাহলে শিবপুরের চাষিরা পাবে না কেন? সিঙ্গুরে তো শিল্প হয়ে গেছিল। আর শিবপুরে তো শিল্প হয় নি, আবাসন হয়েছে। তাহলে এখানে জমি ফেরত দিতে অসুবিধা কোথায়। ওই জমির কেনা বেচায় আদালতের স্থিতাবস্থা জারি আছে। সুপ্রিম ও হাইকোর্টে মামলা বিচারাধীন। কিন্তু তৃণমূলের সরকার গায়ের জোরে প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে আদালতের নির্দেশ মানছে না। তবে আমাদের আইনের উপর বিশ্বাস আছে।

অন্যদিকে, শিবপুরের রাইপুর সুপুরের প্রধান এবং একসময়ের শিবপুর অঞ্চল সভাপতি নিখিল বাসার বলেন, মানুষের হাতে কাজ আছে। তাই এদিন চিত্রার মোড়ে শিবপুরের কোন চাষি যান নি। তাই বাধ্য হয়ে রিপন বোলপুরের কজন লোক নিয়ে একটা ছোট পথ সভা করেছে। আন্দোলন হলে লোক থাকবে। লোক কোথা? যা ছিল তা তো শিবপুরের নয়।

রিপন সেখ বলেন, আমি ভুবন ডাঙার বাসিন্দা হলেও, আমার সমস্ত জমি শিবপুরেই। আমারও জমি গেছে। জমায়েতে শিবপুরের চাষিরাই ছিল আমরা আগের দাবি থেকে সরছি না। শিল্পের জন্য নেওয়া জমিতে শিল্প চাই। আবাসন নয়। শিল্প হলে, চাষি কাজ পাবে, শ্রমিক কাজ পাবে। এদিন চাষিরা প্ল্যাকার্ডে সেই দাবি তুলে বিক্ষোভ দেখায়। যাতে লেখা ছিল, “৪৮০০০ টাকায় জমি কিনে ৮০ লাখ টাকার সরকারি দালালি মানছি না”, “সিঙ্গুরে জমি ফেরত হলে, এখানে কেন নয়”।

উল্লেখ্য,   ২০০১ সালে তদানীন্তন বাম ফ্রন্ট সরকারের আমলে ৯ডি পেমেন্ট নোটিশ পান চাষীরা। সেই নোটিশে বলা হয়, ভূমি রাজস্ব দপ্তরে ৬৭হাজার ৯৯১ টাকা বিঘা প্রতি দাম পাবেন চাষীরা। এরপর ২০০২ সালে ৩০ অক্টোবর ফের নোটিশ দিয়ে জানানো হয়, চাষীরা ওই টাকার পরিবর্তে বিঘা প্রতি ৪৭ হাজার ৪১৭ টাকা পাবেন। মোট ১২৬২ ওয়ার্ড ভূক্ত চাষীদের এই নোটিশ দেওয়া হয়। ওই দিন অনেকেই ওই টাকা নিতে যান নি। প্রসঙ্গতঃ ২০০১ সালে তদানীন্তন বামফ্রন্ট সরকারের উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গ উন্নয়ন তথ্য প্রযুক্তি নিগম (ডব্লিউ বি আই টি সি) বোলপুর থেকে তিন কিমি দূরে শিবপুর মৌজায় সুপুর-রাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩০০ একর জমি অধিগ্রহণ করে প্রায় ২১১ জন চাষীর কাছ থেকে। সেই সময় আন্দোলনে নেমেছিল বিরোধী দল তৃণমূল। পরবর্তীকালে রাজ্যে পালা বদলের পর এই জমিতে কেমিক্যাল হাব তৈরির কথা বলেন তৎকালীন শিল্প মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু, এই সিদ্ধান্ত বদল করে মুখ্যমন্ত্রী এই জমিতে গীতবিতান আবাসন প্রকল্প তৈরির কথা ঘোষণা করেন। এরপরে জমিদাতা কৃষকদের একাংশ জমি দিতে নারাজ হয়। শিল্প হলে জমি দেব, নইলে জমি ফিরিয়ে দিতে হবে এই দাবিতে তাঁরা আন্দোলনেও নামে। জমি ফেরত চেয়ে জেলা শাসক, এমনকী মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিও দেন অনিচ্ছুক কৃষকেরা। তারপর কোপাই নদী দিয়ে জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only