বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯

অমিত শাহের বক্তব্য ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা’ অভিমত জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দাদের


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক :  জম্মু-কাশ্মীরের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্যকে ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে’ বলে অভিহিত করেছেন সেখানকার মানুষজন। গতকাল (বুধবার) সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, কাশ্মীর স্বাভাবিকই আছে। ইন্টারনেটও ‘উপযুক্ত সময়ে’ চালু করা হবে।

কিন্তু তাঁর ওই মন্তব্যে সেখানকার অনেকেই হতাশ হয়েছেন। শ্রীনগরের মহিলা কলেজের শিক্ষক আব্দুল মান্নান শেখ বলেন, ‘আমাদের সব কিছু কেড়ে নিয়ে এখন ওঁরা জ্ঞান দিচ্ছেন! ওই বক্তব্য কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিল।’

চিকিৎসক আব্দুল কবীর দারের মতে, অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী না সরানো পর্যন্ত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরার দাবি করাটাই ‘হাস্যকর’।

শ্রীনগরের মহিলা কলেজের ছাত্রী রাকিবা সালিমের আশা ছিল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়তো জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার কথা ঘোষণা করতে পারেন। কিন্তু হতাশার সুরে তিনি বলেন, ‘রাজ্যে তাও বাসিন্দাদের কিছুটা নিরাপত্তাবোধ থাকে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ  জানানোর পথই থাকছে না। উনি তো এখানে ‘রাজনৈতিক আলোচনা শুরু’ করার কথাও বললেন না!’

শাইস্তা নামে আরেক ছাত্রীর মতে, অমিত শাহের বক্তব্য ‘মিথ্যের ঝুড়ি’ ছাড়া কিছু নয়।
এদিকে, জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক রাজ্যপাল এন এন ভোরা রাজ্যটির বিশেষ মর্যাদা সম্বলিত ৩৭০ ধারা বাতিলের পরে কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে এক  আলোচনায় বলেন, ‘গত ১০ থেকে ২০ বছরে কাশ্মীরে ‘শিক্ষার অপূরণীয়  ক্ষতি’ হয়েছে। এটাই কাশ্মীরের সবচেয়ে বড় ক্ষতি।’ সাবেক রাজ্যপালের ওই মন্তব্যে কেন্দ্রীয় সরকারের অস্বস্তি বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

কেন্দ্রীয় সরকার গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ধারা বাতিল করে দেওয়ার পরে সেখানে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রায় তিন মাস ধরে সেখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং পরবর্তীতে তা খোলা হলেও ছাত্র-ছাত্রীরা সেখানে অনুপস্থিত ছিল। এরফলে পাঠক্রম শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only