শনিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৯

এনআরসি নিয়ে কি বললেন কান্নন? জানুন

ছবি ও ভিডিয়ো সন্দীপ সাহা


আসলাম হোসেন, কলকাতা

নাগরিকপঞ্জি তৈরির নামে মানুষকে ব্যস্ত রাখতে চাইছে সরকার। যাত সাধারণ মানুষ সরকারের কাজে প্রশ্ন তুলতে না পারে তার জন্যই নাগরিকপঞ্জি তৈরির নামে মানুষকে ব্যস্ত রাখা হচ্ছে। শুক্রবার এন্টালির ভুপেশ ভবনে মানবাধিকার সংগঠন অল ইন্ডিয়া পিপলস ফোরামের (এআইপিএফ) একটি অনুষ্ঠানে নাগরিকপঞ্জির তালিকা তৈরির কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে এভাবেই সমালোচনায়র সরব হলে প্রতিবাদী এবং পদত্যাগী আইএএস অফিসার কান্নন গোপিনাথন।  

তাঁর মতে সরকার কাজ নিয়ে তারাই প্রশ্ন তুলতে পারেন যারা দেশের নাগরিক। কিন্তু, দেশের সাধারণ মানুষ নাগরিক কিনা সেটা নিয়েই যদি ধন্দে থাকেন তখন সরকারের কাজ নিয়ে কোনও প্রশ্ন তুলতে পারবেন না। কারণ, দেশবাসী নিজেকে দেশের নাগরিক প্রমাণ করার জন্যই সব সময় ব্যস্ত থাকবে। নথিপত্র তৈরির বিষয়ে সব সময় ছুটে বেড়াবে। নাগরিকপঞ্জির তালিকা তৈরির ফলে আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরের জন্য দেশের মানুষকে অস্বতিতে থাকতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

তাঁর বক্তব্য, অসমে নাগরিকপঞ্জি তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া গত ৬ বছর ধরে চলছে। এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাহলে সারা দেশে চালু করলে তা সম্পন্ন হতে আগামী ২৫ বছরের বেশি সময় লাগবে। আর সাধারণ মানুষ নিজেদের নাম নাগরিকপঞ্জির তালিকায় রাখার জন্য নথিপত্র ঠিক করার জন্য সব সময় ব্যস্ত থাকবে।

দেশের নাগরিক প্রমাণের জন্য প্রায় পঞ্চাশ বছরের পুরনো নথিপত্র যাচাই নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছেন কাশ্মীর থেকে পদত্যাগ করা আইএএস অফিসার কান্নন।তিনি বলেন, অনেক নাগরিক কাছে সাম্প্রতিক সময়েরই নথিপত্র থাকে না, সেক্ষেত্রে ৫০ বচরের পুরনো নথিপত্র সব নাগরিকের কাছে থাকা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। বন্যার ফলে অনেক নথিপত্র নষ্ট হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে দীর্ঘবছরের পুরনো নথি কি করে থাকবে?

নোটবন্দির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নোটবন্দির আগেও নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার বলেছিল কালো ধন দেশে ফিরে আসবে। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হল না। উলটে মানুষকে দীর্ঘ সময়ের জন্য হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।নাগরিকপঞ্জির তালিকা তৈরির ফলে সেরকমেই দেশের দীর্ঘমেয়াদি হয়রানি হবে।

তাই তিনি মনে করেন এরজন্য প্রতিবাদ গড়ে তোলা উচিত. সরকারের নীতি বা আইন নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত।তাঁর মতে যেকোনও সরকারি নীতি বা আইন আসলেই সাধারণ মানুষ মাথা পেতে মেনে নেয়। সেটা কেন করা হল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় না, কোনও প্রতিবাদ করা হয় না। তিনি বলেন, নাগরিকত্ব হল সংবিধানে উল্লিখিত মূল অধিকার। আর এই অধিকাররে ঘিরেই অন্যান্য অধিকারগুলি আছে। সেই নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য নথিপত্র ঠিক করার জন্য মানুষকে মরিয়া হয়ে দৌড়ে বেড়াতে হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলে সকলকেই লড়তে হবে বলে তিনি মনে করেন। সরকার গঠন হয় মানুষের চাহিদার জন্য, সরকার পড়েও যায় মানুষের দাবিতে। প্রসঙ্গত, অসংখ্য মানুষ রয়েছেন যারা মনে করেন এনআরসি প্রয়োজন। তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন এনআরসি কতটা ভয়ঙ্কর তা বোঝানো উচিত।

নাগরিপঞ্জির তালিকা তৈরির প্রতিবাদে এদিনের অনুষ্ঠানে বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ, আদিবাসী অধিকার ও বিকাশ মঞ্চ, গণ সংস্কৃতি পরিষদ, ভারতীয় আদিবাসী একতা মঞ্চ, জয় ভীম ইন্ডিয়া নেটওয়ার্ক, নাগরিক উদ্যোগ, আইসা. সংগ্রামী আদিবাসী মঞ্চ, মিরর, সহমন প্রভৃতি মানবাধিকার সংগঠনও অংশগ্রহণ করে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only