শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৯

সরকার কি আলিগড়ের মুর্শিদাবাদ ক্যাম্পাসকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে চাইছে? পার্লামেন্টে প্রশ্ন আহমদ হাসান ইমরানের

পুবের কলম, নয়াদিল্লি: আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুর্শিদাবাদ ক্যাম্পাস। এই অঞ্চলের মানুষের উচ্চশিক্ষা লাভের স্বপ্নকে উজ্জীবিত করে জঙ্গিপুরের কাছে আহিরণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মুর্শিদাবাদ ক্যাম্পাস। কিন্তু শুরুতেই স্বপ্নভঙ্গ। প্রতিশ্রুতিমতো আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম কেন্দ্র হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তেমন কোনও পরিকাঠামো এই ক্যাম্পাসে গড়ে ওঠেনি। এক কথায় বলা যায়, মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ক্যাম্পাসটির বেঁচে থাকার প্রত্যাশায় নিয়ে একরকম ধুঁকছে। 
বিষয়টি আজ পার্লামেন্টে উত্থাপন করেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ আহমদ হাসান (ইমরান)। তিনি মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের কাছে আহিরণে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, বিচারপতি রাজেন্দ্র সাচার কমিটির রিপোর্টে ভারতবর্ষের মুসলমানদের আর্থ-সামাজিক ও শিক্ষা সম্পর্কিত অবস্থার এক হৃদয়বিদারক ছবি উঠে আসে। তার মধ্যে বামফ্রন্ট শাসনাধীন পশ্চিমবাংলার অবস্থা ছিল সবথেকে দয়নীয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার মুসলমানদের পশ্চাদপদতা দূর করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করে। তার মধ্যে ছিল মুসলিম বহুল মুর্শিদাবাদে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। 
সাংসদ ইমরান আরও যে সব তথ্য তুলে ধরেন, তার মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার মুর্শিদাবাদ ছাড়াও বিহারের কিষাণগঞ্জ ও কেরলের মালাপ্পুরামে আলিগড়ের শাখা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ছাড়া পুণে কিংবা ভোপালেও একটি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল। নিজের একসময়ের কেন্দ্র হিসাবে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ও জঙ্গিপুরের কেন্দ্রটি সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। পশ্চিমবাংলা সরকার জঙ্গিপুরের কাছে আহিরণে কমবেশি প্রায় ১০০০ বিঘা জমি এজন্য শনাক্ত করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনাধীন সরকার এই জমিতে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস তৈরির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দেয়। পর্যাপ্ত না হলেও প্রথমে পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য কিছু অর্থ কেন্দ্রীয় সরকার বরাদ্দ করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সরকার আলিগড়ের এই কেন্দ্রটিকে অবহেলার তালিকায় শামিল করে। এমনকী শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের  অন্যান্য  অ-শিক্ষক কর্মীদের মাইনেও বন্ধ হয়ে যায়। এরপব মুর্শিদাবাদ ক্যাম্পাসে হাতের আঙুলে গোনা শিক্ষকদের বেতন চালু হলেও আর কোনও উন্নয়ন হয়নি। মাত্র ৩টি বিষয় এখানে পড়ানো হয়। আর কোনও আর্টস, কমার্স কিংবা সায়েন্সের কোনও বিভাগ-ই মুর্শিদাবাদ ক্যাম্পাসে নেই। কোনও উচ্চস্তরের রিসার্চ বা গবেষণার প্রশ্নই ওঠে না। ইমরান পরে সাংবাদিকদের বলেন, মুর্শিদাবাদ ক্যাম্পাসে আলিগড়ের মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ শাখা গড়ার স্বপ্নের আপাতত এখানেই ইতি। মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের পাশেই রয়েছে মালদা, ঝাড়খণ্ড ও বিহারের বিস্তীর্ণ এলাকা, দুই দিনাজপুর, কোচবিহার এবং অসম। এই বিস্তীর্ণ এলাকার ছাত্রছাত্রীদের কাছাকাছি স্থানে অবস্থিত আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় লেখাপড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।       
ইমরান পার্লামেন্টে আরও বলেন,  মুর্শিদাবাদে আলিগড় ক্যাম্পাসের নামে রয়েছে কিছু অস্থায়ী শেড। পূর্ণাঙ্গ হস্টেল ও বিল্ডিং কবে তৈরি হবে, তা কেউ জানে না। ইমরান কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখেন, মুর্শিদাবাদের আলিগড় ক্যাম্পাস, কিষাণগজ্ঞ ও মালাপ্পুরাম সম্পর্কে তাদের কি কোনও পরিকল্পনা রয়েছে? সরকার কি এই কেন্দ্রগুলির ওপর থেকে তাদের হাত তুলে নিতে চাইছে? সরকার কি এই কেন্দ্রগুলিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে চান? ইমরান বলেন, সরকারের উচিত এ সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য মানুষের কাছে তুলে ধরা। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only