বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯

শামিদের বোলিং দাপটে কুপোকাত বাংলাদেশ


পুবের কলম, ওয়েব ডেক্স: প্রথম টেস্ট শুরুর আগে নিজের দলের বোলারদের প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। প্রথম দিন ক্যাপ্টেনের ভরসার মর্যাদা দিলেন মুহাম্মদ শামিরা। এ দিন বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হল ১৫০ রানে। মাত্র ৫৮.৩ ওভার টিকল তাদের ইনিংস। চায়ের বিরতিতে সাত উইকেটে ১৪০ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে মাত্র ১০ রান তুলতেই বাকি তিন উইকেট হারাল তারা।
কার্যত, বাংলাদেশের শেষ পাঁচ উইকেট পড়ল ১০ রানে!

এ দিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। মোমিনুল হক-মুশফিকুর রহিমের জুটি চতুর্থ উইকেটে ৬৮ রান যোগ করে তা খানিকটা কাটিয়ে দিলেও দ্বিতীয় সেশনে ফের আঘাত হানল ভারত। এই সেশনে পড়ল চার উইকেট। যার মধ্যে দু’টো নিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন (২-৪৩) তিনটে নিলেন মুহাম্মদ শামি (৩-২৭)। আর শেষ সেশনে লিটন দাসকে (২১) ফেরালেন ইশান্ত শর্মা (২-২০)। প্রথম স্লিপে ক্যাচ নিলেন কোহলি। এর পর তাইজুল ইসলাম রান আউট হলেন রবীন্দ্র জাদেজা-ঋদ্ধিমান সাহার যুগলবন্দিতে। আর ইবাদত হোসেনকে বোল্ড করলেন উমেশ যাদব (২-৪৭)। তবে তিন উইকেট নিয়ে শামিই সফলতম বোলার। তাঁর বোলিং ফিগার ১৩-৫-২৭-৩।

এ দিন লাঞ্চের পর রবিচন্দ্রন অশ্বিন বোল্ড করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মোমিনুলকে (৩৭)। বল ছেড়ে দিয়ে তিনি দেখলেন অফস্টাম্পে তা লাগছে। ৯৯ রানে পড়েছিল চতুর্থ উইকেট। এর পর মাহমুদুল্লাহকেও (১০) বোল্ড করেন অশ্বিন। ১১৫ রানে পড়েছিল পাঁচ উইকেট। তার পর ৫৪ ওভারে পর পর দুই বলে দুই উইকেট নিলেন শামি। প্রথমে মুশফিকুর রহিমকে (৪৩) দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড করেন। পরের বলে এলবিডব্লিউ করেন মেহেদি হাসান মিরাজ (০)।

বৃহস্পতিবার সকালে সাত ওভারের মধ্যেই আউট হন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। প্রথমে ইমরুল কায়েসকে (৬) ফেরান উমেশ যাদব। তাঁর ক্যাচ নেন অজিঙ্কা রাহানে। এর পর শাদমান ইসলামকে (৬) ফেরান ইশান্ত শর্মা। ক্যাচ ধরেন উইকেট-কিপার ঋদ্ধিমান সাহা। ১২ রানে দুই উইকেট পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের।

তৃতীয় উইকেট পড়ে দলীয় ৩১ রানে। মুহাম্মদ মিঠুনকে (১২) এলবিডব্লিউ করেন মুহাম্মদ শামি। এরপর বেশ কয়েকবার সুইংয়ে পরাস্ত হয়েও বেঁচে যান ব্যাটসম্যানরা। ভারতের তিন পেসারই দুরন্ত ছন্দে বল করেন এ দিন সকালে। তিনজনই নেন উইকেট। এরপর অধিনায়ক মোমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম শুরুর ধাক্কা সামলে ভদ্রস্থ স্কোরের পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন ইনিংসকে। আর তখনই আঘাত হানলেন অশ্বিন। ফেরালেন মোমিনুলকে। এর আগে তিন রানে তাঁর বলেই বেঁচে গিয়েছিলেন মোমিনুল। কাট করতে গিয়ে প্রথম স্লিপে থাকা রাহানের দিকে গিয়েছিল বল। কঠিন সুযোগ, হাতে রাখতে পারেননি ভারতের সহ-অধিনায়ক।
মুশফিকুরও এর মধ্যে দু’বার জীবন পেয়েছেন। একবার তিন রানে আর অন্যবার ১৪ রানে। প্রথমবার উমেশ যাদবের বলে তৃতীয় স্লিপে তাঁর ক্যাচ ফেলেন বিরাট কোহালি। পরেরবার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে স্লিপে তাঁর ক্যাচ ফেলেন অজিঙ্কা রাহানে। বাংলাদেশের ১৫০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে দিনের শেষে ভারতের স্কোর ১ উইকেটের বিনিময়ে ৮৬। ৬ রান করে আউট হন ওপেনার রোহিত শর্মা। ক্রিজে রয়েছেন ময়াঙ্ক (৩৭) ও পুজারা (৪৩)।    
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে কিছুদিন আগেই ঘরের মাঠে তিন টেস্টেই টস জিতেছিল ভারত। আর বিরাট কোহলি প্রতিবারই ব্যাটিং নিয়েছিলেন শুরুতে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে টস-ভাগ্য কিন্তু ভারতের পক্ষে ছিল না। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মোমিনুল হক।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only