সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে উত্তাল ইরান




পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক: সম্প্রতি গ্যাসোলিন অর্থাৎ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে ইরান সরকার। হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির রাজপথ। তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে ইরানের জায়গায় জায়গায় হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও ঘটেছে অগ্নিসংযোগের ঘটনা। আর এই হিংসার তীব্র প্রতিবাদ করলেন ইরানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেয়ি। রবিবার জনসমক্ষে তিনি বলেন, বিদেশি দুর্বৃত্তরাই ইরানের বিক্ষোভ চালাচ্ছে। তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে কার্যকর করা উচিত সরকারের।

উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে ঘোষিত এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ চলছে। তিনি আরও বলেন, নাশকতা ও অগ্নিসংযোগে ঘটনাগুলি যারা ঘটিয়েছে, তারা আমাদের দেশের মানুষ নয়। ইরানের শত্রুরা দেশের নিরাপত্তাকে বিনষ্ট করার জন্য সবসময়ই এই ধরনের হিংসা ছড়ায়।

শুক্রবার থেকে ইরানের কিছু জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা হিংসার রূপ নেয়। তাতে সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে ওঠে ইরান। তাতে সিরজান অঞ্চলে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির প্রশাসন জানিয়েছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহন জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা, দোকানপাট ও ব্যাঙ্কেও চালানো হয়েছে ভাঙচুর। এতে বহু সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে।

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার হঠাৎই জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি কথা ঘোষণা করে ইরান। প্রতি লিটারে ১০ হাজার রিয়েল থেকে ১৫ হাজার রিয়েল করা হয়। এ ছাড়া ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য তেলের ওপর মাসিক রেশনিং ব্যবস্থা আরোপ করার কথাও বলা হয়। সেক্ষেত্রে ৬০ লিটার করে বরাদ্দ করা হয়েছে। এর চেয়ে বেশি তেলের প্রয়োজন হলে গাড়ির মালিক দেশের দ্বিগুণদামে তেল কিনতে হবে।

এ দিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি প্রতিবাদেকে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মাইক পম্পেও বিষয়টি সমর্থন জানিয়ে একটি টু্যইটার করেন। সেখানে তিনি লেখেন, দেড় বছর আগেই আমি ইরানি জনগণকে বলেছিলাম, আমেরিকা আপনাদের সঙ্গে আছে।’  

কিছুদিন আগেই ৫৩ কোটি ব্যারেল খনিজ তেল সমৃদ্ধ একটি খনির সন্ধান পেয়েছিল ইরান। এক জনসভায় বিষয়টি ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট রুহানি। সেই সময় ইরানি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সুর চড়ান। তিনি দাবি করেন, নতুন এই খনির সন্ধান ইরানে বাণিজ্য ক্ষেত্রেকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করে তুলতে পারবে।

ইরানের ইয়াজদ শহরে জনসমক্ষে ভাষণ দিতে গিয়ে রুহানি বলেছিল, খুজিস্তান প্রদেশে এই খনির অবস্থান তেলের ব্যবসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের ১৫০ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের রিজার্ভের সঙ্গে আরও ৫৩ কোটি ব্যারেল যোগ হতে চলেছে। ফলে এত চেষ্টা সত্ত্বেও আমেরিকার ইরানের বাণিজ্যিক ক্ষতি করতে পারবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only