শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৯

শান্তিনিকেতনে প্রথাগত বুধবারের ছুটি রদ


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক, শান্তি নিকেতন: এতদিন কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল যা নিয়ে। এবার সেটাই সত্যি হলো।এবার থেকে বিশ্ব ভারতীতে বুধবারের ছুটির বদলে, শনিবার ও রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করল বিশ্ব ভারতী। বিষয়টি নিয়ে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। রবীন্দ্রভবন বন্ধ থাকায় পর্যটকরা এই রবিবাসরীয় যাপন করতে শান্তি নিকেতন এসে লাভ হবে না।

"বুধবারের উপাসনার ছুটি"কে চিরতরে বিদায় জানালো বিশ্বভারতী! তবে মুখ রক্ষার ঐতিহ্য বজায় রাখা হলো বুধবারে পাঠভবনের ছুটি দিয়ে। সদ্য প্রস্তুত বিশ্বভারতীর একাডেমিক ক্যালেন্ডারের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে এবার থেকে বিশ্বভারতীর সাপ্তাহিক ছুটি দিন হবে শনিবার ও রবিবার। মহর্ষির সময় থেকে চলে আসা বুধবারের ছুটির কার্যত ইতি টানলো বিশ্ব ভারতী। এই সিদ্ধান্তে মোটেই খুশি হননি শান্তিনিকেতনের প্রবীণ আশ্রমিক থেকে কর্মী, ছাত্ররা। তবে অধ্যাপকদের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। কারণ সপ্তাহান্তে তাঁরা পরিবারের কাছে যেতে পারবেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে 'রবীন্দ্র ভবন' রবিবার বন্ধ রাখা নিয়ে। কারণ দেশ বিদেশের বহু গবেষক, দর্শনার্থীরা রবিবারই আসেন সেখানে।

বুধবার দিনটি বিশ্বভারতী ছুটি থাকে। ওই দিনই উপাসনা হয় সেখানে। উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই বুধবারের ছুটি বদলিয়ে রবিবার করার পক্ষে সওয়াল করে এসেছেন। যুক্তি খাড়া করেছিলেন, শনিবার-রবিবার ইউজিসির ছুটির দিন। বুধবার-বৃহস্পতিবার পূর্ণ ও অর্ধদিবস সাপ্তাহিক ছুটি থাকলে ইউজিসির দরকারি চিঠির চট জবাবদিহিতে দেরি হয়ে যায়। 

তবে, এই নিয়ে হইচই শুরু হয় বিশ্বভারতী একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং-এ এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আসার পর।সেখানে এরপরেই উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী আলাদা করে বিশ্বভারতীর সকল স্তরের কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন সেখানে  সিংহভাগ কর্মী মতদেন বুধবার বিশ্বভারতী ঐতিহ্য মেনে ছুটি দিন বলবৎ থাকুক।

পরবর্তী সময়ে উপাচার্য বিশ্বভারতী পডুয়াদের সঙ্গে ও বুধবার ছুটি নিয়ে নাট্য ঘরে আলোচনায় বসেন। সেখানেও ছাত্র-ছাত্রীরা বুধবার ছুটির পক্ষে সাওয়াল করেন। উল্টে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় বুধবারের ছুটি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী যা বলেছিলেন বলে সোসাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে ছিল তা হল-বুধবার সেই অর্থে পবিত্র দিন নয়।ব্রাহ্মসমাজ তৈরির দিনটা কিন্তু শনিবার। বুধবারটা করা হয়েছিল, যেহেতু এটা সবাই মিলে ঠিক করেছিলেন। কিন্তু আজ এই বুধবার কতটা প্রাসঙ্গিক, তা ভাবা দরকার।’’সেই বক্তব্য সোস্যাল মিডিয়ায ছড়িয়ে পড়তে শুরু হয় শান্তিনিকেতন জুড়ে তীব্র বিতর্ক।

আশ্রমিকদের কথায়ব্রাহ্ম সমাজের গৃহ প্রবেশ বুধবার হয়েছিল। তাছাড়া গুরুদেব একটা ধর্মনিরপেক্ষ দিন চেয়েছিলেন বিশেষ উদ্দেশ্যে। কারণ শনিবার ইহুদী, রবিবার খ্রিষ্টান এবং অন্যান্যবার গুলো কোন না ধর্মীয় ভাবাপন্ন সম্প্রদায়ের ছুটির দিন। সেদিক থেকে বুধবার স্বতন্ত্র।  ১৮৯১ সালের ৭ পৌষ কাঁচ মন্দির (উপাসনাগৃহ) প্রতিষ্ঠার পর থেকে বুধবার সকলে মিলে উপাসনা গৃহে এসে উপাসনার রীতি চলে আসছে আশ্রম বিদ্যালয়ে। তখন থেকেই এই দিনটি ছুটি থাকে।যাতে ছুটির দিনে সকলে মিলে উপাসনায় উপস্থিত থাকতে পারেন। সেই রীতিতে আগে ছেদ পড়েনি।

কিন্ত বিশ্বভারতীর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর একাডেমিক কাউন্সিলর মিটিং-এ সাপ্তাহিক ছুটি বুধবারের বদলে শনিবার ও রবিবার করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্ত ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বভারতী কর্ম সমিতিতে গৃহীত হয়। তারপর সব পক্ষই এই নিয়ে চুপ চাপ বসেছিল। কিন্তু ২০২০ সালের একাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরি হয়েছে তাতে দেখা ছুটির তালিকায় দেখা গেছে' ডি ' পয়েন্টে উল্লেখ করা হয়েছে বিশ্বভারতী সমস্ত ভবন সদনের সাপ্তাহিক ছুটির দিন হচ্ছে শনিবার ও রবিবার। তবে শুধু মাত্র পাঠভবনের সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে বুধবার ও রবিবার। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রবীণ আশ্রমিকরা। তাদের মতে এটা ঐতিহ্যের উপর আঘাত।

সুপ্রিয় ঠাকুর- ‘‘ব্রাহ্ম ধর্মের উপাসনা হত বুধবার। সেই থেকেই বুধবার শান্তিনিকেতনের ছুটির ঐতিহ্য চলে আসছে। নতুন সিদ্ধান্ত একেবারেই আমার পছন্দ নয়। রবীন্দ্রনাথের সময় থেকে বহমান এক ঐতিহ্যকে এভাবে বদল করার কোনো মানেই হয় না। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only