শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯

না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন শিক্ষাবিদ আব্দুল হালিম!!


পুবের কলম ওয়েব ডেক্স: শুক্রবার ভোরে মৃত্যুর পরপারে চলে গেলেন শিক্ষাবিদ আব্দুল হালিম। রেখে গেলেন গুণগ্রাহীদের কিছু মূল্যবান স্মৃতি।  জন্ম বোলপুরের কাছে অজয় নদীর ধারে ঘেরুয়া পাড়া গ্রামে। পিতা মরহুম মোল্লা লোকমান ও মাতা  মরহুমা হাকিমন বিবির কৃতি সন্তান ছিলেন তিনি। ১৯৪৫ সালে ম্যাট্রিকুলেশন করেন তিনি। তার পর বর্ধমান রাজ কলেজ থেকে স্নাতক হন। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত রাজ কলেজের প্রথম মেধা ভিত্তিক রৌপ্য পদক প্রাপক তিনি। ১৯৪৮- ১৯৯৩ পর্যন্ত মানকর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন তিনি। ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন তিনি। বিধান চন্দ্র রায়ের আমলে শিক্ষক আন্দোলন করেন, অনশন করেন এবং কারাবাস ভোগ করেন। তাঁর জীবনের মহত্তম প্রয়াস ছিল মানকর কলেজ প্রতিষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে। ওখানে বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়।  তিনি সুবক্তা ছিলেন। মানবতাবাদ, সহিষ্ণু ইসলাম ধর্ম ও তুলনামূলক ধর্মের উপরে এবং পাশাপাশি মানব ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে আসন অলংকৃত করেন বহুবার। তিনি অনেক গ্রন্থের প্রণেতা।  তাঁর বিখ্যাত ও মূল্যবান গ্রন্থ হল "ইসলাম"। এই বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের সাথে উপস্থিত ছিলেন পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক ইমরান আহমেদ হাসান সাহেব। সেই সংবাদ ওই কাগজে প্রকাশিত হয়েছিল।   ইসলাম বইটির ইংরেজি অনুবাদ ও " জয়দেব থেকে লালন শাহ" প্রকাশের পথে। মৃত্যুর পর তিনি রেখে গেছেন তাঁর দুই সন্তান মোল্লা আহসান কামাল, মোল্লা ইউসুফ জামাল ও কন্যা সন্তান কবিতা বেগমকে। লাভপুর সত্যনারায়ণ শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষিকা গুণমুগ্ধ মনীষা বন্দোপাধ্যায় বলেন, এক আশ্চর্য মানবতাবাদী মানুষ চলে গেলেন। এই বয়সেও ঘন্টার পর ঘন্টা কথা রাখেন, অনুপম ব্যাখ্যা করেন ইসলামের, স্মৃতি থেকে অনর্গল বলে চলেন রবীন্দ্রনাথ, রুমি, লে হান্টের কবিতা। বিভিন্ন ধর্মের মূল ভাব নিয়ে মিলিয়ে দেন অনায়াসে। এক নিমগ্ন সাধক, সুগভীর তাঁর মানবপ্রেম।
শান্তিনিকেতনে উপাসনা গৃহে নববর্ষের অনুষ্ঠানে দেখলাম তাঁকে, চোখে দেখতে পারছেন না, শুনছেন প্রাণ ভরিয়ে। পা ছুঁয়ে পরিচয় দিতেই সে কি সস্নেহ সম্ভাষণ। ইসলাম নামক ওনার বইয়ের প্রকাশ অনুষ্ঠানে জয়া মিত্র বই উদ্ধোধন করলেন, সে কী আশ্চর্য আনন্দ মানুষটির। এই বইটির ইংরাজি ভাষান্তর নিজেই করছিলেন , শুনে লিখে রাখছিল আমাদের ছেলে সাবির। এর ভূমিকাটি আমার মত অভাজনকে দিয়েই দেখালেন তিনি। আজকে বহু মানুষ তাঁর জানাযায় উপস্থিত ছিলেন। এদিন বিকেলে তাঁর ঐহিক মরদেহ দাফন করা হয় গ্রামের কবরস্থানে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only