শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯

ইসরাইল থেকে টাকা আসছেঃ মমতা


পুবের কলম ওয়েব ডেক্স: সামনেই পশ্চিমবাংলায় রয়েছে বিধানসভার ৩টি উপনির্বাচন। তারপরই পুরভোট এবং ২০২১-এ বিধানসভা ভোট। এরই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে অনুষ্ঠিত হল কোর কমিটির বর্ধিত বৈঠক। স্বভাবতই ভাবা হয়েছিল, এই দলীয় পর্যায়ের এই বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে বলেছেন, সকলের উচিত ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম যাচাই করে নেওয়া। কারণ দেখা গেছে, ঠিকমতো ভোটার তালিকা যাচাই না করায় বিগত নির্বাচনে তৃণমূলের ক্ষতি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে আরএসএস বিভিন্নভাবে সেখানকার বাসিন্দাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তারা নিজেদের এবং অন্য কিছু এনজিও-কে এই কাজে লাগিয়েছে। কয়েকটি প্রকল্পের নাম করে কেন্দ্রীয় সরকারও এদের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছে। কিন্তু আসলে এদের পেছনে রয়েছে সংঘ পরিবার। আর এদের অর্থের অভাব নেই। ইসরাইল যে শুধু সফ্টওয়ার ও টেকনলজি দিয়ে ওদের সাহায্য করছে তা নয়, বিভিন্ন সূত্রের মতে, ইসরাইল থেকে প্রচুর টাকা আসছে। আসছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেও। সেখান থেকে টাকা নিয়ে সংঘ পরিবারের বিভিন্ন এনজিও কাজ করছেন। এই সংঘ পরিবার মুখে গান্ধিজি, বাবাসাহেব আম্বেদকরের নাম করছে অন্যদিকে, তারা সাভারকরের মতো মানুষকে তুলে ধরছে। মওলানা আবুল কালাম আজাদের জন্মদিনে কার্যক্রমের নাম পালটে দিচ্ছে। ভাষা নিয়েও তারা যা করছে, ভারতবাসীরা তা মেনে নেবে না। শুধু হিন্দি বা গুজরাতিতে কেন? প্রশ্নপত্র ও পরীক্ষা নিতে হবে সব ভাষায়। এর মধ্যে নানা প্রচারণা চলছে, অনেককে বলা হচ্ছে বিজেপিতে নাম লেখাও। বিজেপি বাংলার সভ্যতা-সংস্কৃতি জানে না। বাংলার ‘খাদ্যসাথী’, ‘সবুজ সাথী’ অনেক ভালো প্রকল্প। সাধারণ মানুষ এগুলি থেকে উপকৃত হচ্ছে। তৃণমূল সুপ্রিমো আরও বলেন, আসাদউদ্দিন ওয়েসি ও তাঁর দল এখানে আসতে চাইলে তাদের পাত্তা দেবেন না। কারণ, তারা বিজেপির হয়ে ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির ভোট কাটছে।
এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অযোধ্যা নিয়েও সকলকে সতর্ক করে দেন। বলেন, আমরা চাই না কেউ কোনও ধর্মে আঘাত করুক। শান্তি বজায় রাখতে হবে। কয়েকদিনের মধ্যেই অযোধ্যা মামলার রায় বের হবে। আপনারা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে শান্তি বজায় রাখুন। গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ প্রভৃতি জায়গায় বিজেপি সরকারে রয়েছে। তারা সেখানে খুব বেশি গণ্ডগোল করবে না। কিন্তু অশুভ শক্তি বাংলায় গণ্ডগোল বাঁধানোর চেষ্টা করতে পারে।
মমতা আরও বলেন, আমরা বাংলার ১৩৩ জন ছেলেকে কাশ্মীর থেকে ফিরিয়ে এনেছি। এখন প্রচার চালাচ্ছে, আয়ুষ্মান থেকে টাকা নাও। অর্থাৎ এই প্রকল্পের টাকা নিলে প্রচার হবে নরেন্দ্র মোদি টাকা দিয়েছে। আমাদের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ অনেক বেশি ভালো প্রকল্প। দিদি এসসি/এসটি সম্পর্কে রাজনেতৃত্বকে বলেন, আপনারা তপশিলি জাতি/উপজাতিদের সঙ্গে থাকুন। তাদের ঘরের সামনে যে খাটিয়া থাকে তাতে বসুন। তাদের যেন বিজেপি ভুল বোঝাতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। বর্তমানে যেভাবে কেন্দ্রীয় সরকার চলছে যেভাবে তারা ব্যাঙ্ক লুঠ করেছে কৃষকরা আত্মহত্যা করছে, তাতে আগামী নির্বাচনগুলিতে মোদি সরকারের অস্তিত্ব থাকবে না। থাকবে না ঠিকানাও। হরিয়ানা, মহারাষ্ট্রে এরা তেমন ভোট পায়নি। নানা প্রচারণা করেও হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রে মানুষ তাদের ভোট দেয়নি।
আর একটি কথা, কংগ্রেস সারাদেশে কোনও বিকল্প তৈরি করতে পারেনি। এখানে কংগ্রেস সিপিএমের লেজুড় ধরেছে। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হবে না।
এ ছাড়া এনআরসি ইস্যুকে বুথস্তরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। বুথস্তরে মানুষকে এনআরসি নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলের অবস্থানকে পরিষ্কার করে বোঝাতে বলেন মমতা। ভাষা বৈষম্য নিয়ে ১১ নভেম্বর থেকে তৃণমূল পথে নামবে। দলীয় কর্মীদের উজ্জীবিত হয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only