শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৯

ধুলো ঝড়ে গায়েব হচ্ছে মঙ্গলের পানি!



পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক, নিউ ইয়র্ক: বিজ্ঞানীরা আগেও দাবি করে ছিলেন যে মঙ্গলগ্রহে পানির অস্তিত্ব রয়েছে। মঙ্গলে পাঠানো রোভারগুলি থেকে পাঠানো ছবি থেকে বিজ্ঞানীদের ধারণা হয়ে ছিল গ্রহটিতে সমুদ্র ছিল এবং সেগুলি শুকিয়ে গিয়েছে। কিন্তু কিভাবে শুকিয়ে গিয়ে ছিল সমু্দ্রের পানি, তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা চালিয়েছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। মঙ্গলের পানি কিভাবে গায়েব হল সম্প্রতি তারই ব্যাখ্যা পাওয়া গিয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, কয়েকশো কোটি বছর আগে ভয়ঙ্কর ধুলো ঝড়ে গত বছর উত্তাল হয়ে উঠে ছিল এই লালগ্রহ। তাতেই গ্রহের পানি মহাকাশে উধাও হয়ে যায়।

ভার্জিনিয়ার হ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ও গবেষক নিকোলাস হিভেনস দাবি করেছেন, প্রতি বছরই ধুলোর মেধেঘর স্তম্ভ তৈরি হয়ে লালগ্রহের বিভিন্ন প্রান্তে। ঘন হতে হতে এক থেকে দেড় দিনের মধ্যে ধারণ ক্ষমতা খুইয়ে ফেলায় এগুলি ভেঙে পড়ে। কিন্তু গত বছর এগুলি তিন থেকে সাড়ে তিন সপ্তাহগুলি টিকে ছিল। তাই গোটাই গ্রহই এই স্তম্ভগুলিতে ঢেকে গিয়ে ছিল। এর পর গ্রহ জুড়ে ভয়ঙ্কর ধুলোর ঝড় শুরু হয়। গ্রহটির পিঠ থেকে প্রায় ৫০ মাইল গতিবেগে উড়ে গিয়ে ছিল এই ঝড়। মেঘের স্তম্ভগুলি ভাঙতে থাকায় গ্রহের পিঠ থেকেল ৩৫ মাইল উপরে ধুলোর পুরু আস্তরণ তৈরি করে ছিল। মেঘগুলির মধ্যে ছিল প্রচুর জলীয় বাস্পের কণা। মেঘগুলি যতো উপরে উঠেছে, সূর্যের আলো আর মহাজাগতিক রশ্মিসহ নানা ধরনের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ মেঘের ভিতরে থাকা জলীয় বাষ্পের কণাগুলিকে ততো বেশি করে ভেঙে দেয়। তাই মঙ্গল থেকে পানি কণাগুলি গায়েব হয়ে গিয়েছে।

তাই নাসার গবেষকদের দাবি, কয়েকশো কোটি বছর আগে হয়তো এভাবেই মঙ্গলের বুক থেকে পানি হয়ে গিয়ে ছিল।তবে এই ধরণের ধুলো ঝড় গত একদশকে একবার ঘটে ছিল বলে তারা দাবি করেন। গত বছর মঙ্গলে এমন ঝড় হওয়ার সময় নাসার রোভার অপারচুনিটি তাঁর অভিযান চালাচ্ছিল। সেখান থেকে ঝড়ের ছবি পেয়েছে নাসা। ছবিগুলির ভিত্তিতে দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশ হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only