সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৯

বিজেপি-শিবসেনা মধুচন্দ্রিমা শেষ, মন্ত্রীসভা থেকে ইস্তফার কথা ঘোষণা করলেন অরবিন্দ


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক :  বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীসভা থেকে বেরিয়ে গেল শিবসেনা। মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ও ক্ষমতার ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও শিবসেনার মধ্যে দীর্ঘ টানাপড়েনের জেরে আজ (সোমবার) শিবসেনা নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরবিন্দ সাওয়ান্ত মন্ত্রীসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। আজই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাত করে তাঁর হাতে ইস্তফাপত্র তুলে দেবেন। 

মহারাষ্ট্রে শিবসেনা মুখ্যমন্ত্রীর দাবিদার হলেও বিজেপি তা মানতে রাজি হয়নি। বিজেপি-শিবসেনার মধ্যে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা থেকে শিবসেনা নেতা ও এমপি অরবিন্দ সাওয়ান্ত ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করায় সেই সম্পর্কে বড়সড় ফাটল ধরল বলে মনে করা হচ্ছে। 

আজ শিবসেনা নেতা ও এমপি অরবিন্দ সাওয়ান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার বার্তায় বলেছেন, ‘মিথ্যার এমন একটা পরিবেশের মধ্যে  আমরা দিল্লিতে কেন থাকব?  আমি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি।’

মহারাষ্ট্রে বিজেপিকে বাদ দিয়ে বিকল্প সরকার গড়ার পথ খুঁজছিল শিবসেনা। এব্যাপারে কংগ্রেস ও এনসিপির সঙ্গে তারা যোগাযোগ রেখেছিল। এনসিপি নেতা নবাব মালিক শর্ত দিয়েছিলেন আমাদের সঙ্গে সরকার গড়তে হলে আগে কেন্দ্রীয় মোদি সরকার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। শিবসেনা নেতা অরবিন্দ সাওয়ান্ত এবার সেই পথেই হাঁটলেন।

২৮৮ আসনের মহারাষ্ট্র বিধানসভায় সরকার গড়তে ম্যাজিক ফিগার ১৪৫। এবারের নির্বাচনে ১০৫ আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে,  শিবসেনা ৫৬, এনসিপি ৫৪ ও কংগ্রেস ৪৪ টি আসনে জয়ী হয়েছে।

এদিকে, আজ এনিসিপি প্রধান শারদ পাওয়ার বলেছেন,  আমি কাউকে ইস্তফা দিয়ে বলিনি। কংগ্রেসের সঙ্গে আজ আমাদের বৈঠক হবে তারপরেই শিবসেনাকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

আজ বিজেপিকে আক্রমণ করে শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত বলেছেন, দুই দলের জোট ভাঙার দায়িত্ব শিবসেনার নয়, বরং বিজেপি এজন্য দায়ী। বিজেপিই মহারাষ্ট্রকে এই পরিস্থিতির দিকে নিয়ে গিয়েছে। বিজেপির অহঙ্কারের ফলে তারা বিরোধী আসনে বসতে চায়। বিজেপি আজ বিরোধী দলের বসতে প্রস্তুত কিন্তু সরকার গঠনে প্রস্তুত নয়।

বিজেপি অবশ্য আগেই শিবসেনার সমালোচনা করে বলেছে শিবসেনা জনাদেশকে অপমান করছে।

এভাবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিবসেনা এখন বলেছে, বিজেপি যদি জম্মু-কাশ্মীরে পিডিপির সাথে হাত মেলাতে পারে, তাহলে শিবসেনা কেন এনসিপি ও কংগ্রেসের সাথে যেতে পারবে না?

কংগ্রেস অবশ্য শিবসেনাকে সমর্থন করবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও একটি সূত্রে প্রকাশ, দলীয় ৪৪ বিধায়কের মধ্যে ৩৭ জন্য শিবসেনার সঙ্গে সরকার গড়তে রাজি।

কিন্তু কংগ্রেস নেতা সঞ্জয় নিরুপম টুইটার বার্তায় শিবসেনার হাত ধরলে দলের জন্য তা সর্বনাশা পদক্ষেপ হবে বলে সাবধান করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ‘সরকার গঠন কে কীভাবে করবে তা বিবেচ্য নয়। কিন্তু মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক অস্থিরতা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হন। যা ২০২০ সালেই হতে পারে। আমরা কী নির্বাচন যাবো শিবসেনার সঙ্গী হয়ে?’ সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নয়া জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only