বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯

দিনকর কৌশিকের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কলকাতায় ছুটে যাবে শান্তিনিকেতন

দিনকর কৌশিকের আঁকা ছবি

 পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক, শান্তিনিকেতন: এ বছর অধ্যাপক দিনকর কৌশিকের জন্মশতবর্ষ। এই উপলক্ষে বিড়লা আকাদেমি অফ আর্ট অ্যান্ড কালচার এবং শান্তিনিকেতন কলাভবনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে একটি প্রদর্শনী 'রিমেম্বারিং দিনকর কৌশিক' শিরোনামে। সেখানে বিশ্বভারতীর কলাভবনের অধ্যাপকরা অংশগ্রহণ করবেন। ২৩ নভেম্বর সন্ধে ৬-টায় বিড়লা আকাদেমি প্রদর্শকক্ষে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন শান্তিনিকেতনের প্রবীণ আশ্রমিক তথা দিনকর কৌশিকের দিন করের থেকে বয়সে মাত্র তিন বছরের ছোট সোমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। কলাভবনের অধ্যাপকরা সবাই গর্বিত এবং মুখিয়ে আছেন ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য।

কলাভবনের এক অধ্যাপক বলেন, কৌশিকদার সব থেকে বড় কাজ হল, পরীক্ষা পদ্ধতির প্রবর্তন। আগে ছিল ডিপ্লোমা। তিনিই প্রথম স্নাতক স্তরে পরীক্ষা শুরু করে গোটা ব্যাপারটাকে একটা এক্যাডেমিক সিস্টেমের মধ্যে আনেন। এটা ওনার বিরাট অবদান। ২৩ নভেম্বর সন্ধে ৬-টায় বিড়লা আকাদেমি প্রদর্শকক্ষে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন শান্তিনিকেতনের প্রবীণ আশ্রমিক সোমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, আমি ওনার থেকে মাত্র তিন বছরের ছোট ছিলাম। উনি শুধু শিল্পী না, একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী। ভারতছাড়ো আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। ব্রিটিশ সরকারের আমলে কারাবরণ করেন।

আশ্রমিকদের কাছে জানা গেলডিসেম্বর মাসে শান্তিনিকেতনে যে নন্দন মেলা হয়, তা শিল্পী দিনকর কৌশিক সূচনা করেন গুরু নন্দলালের জন্মদিন উপলক্ষ্যে। আরও একটা দিন তাঁরা তুলে ধরেন, যা হল তাঁর সঙ্গীত প্রেম। বিশেষ করে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল গভীর। অধ্যাপক দিনকর কৌশিকের শান্তিনিকেতন পর্ব শুরু হয়েছিল সঙ্গীতভবনের ছাত্র হিসেবেই।

ওস্তাদজিওয়াজেলবার সাহেবের স্নেহধন্য কৌশিক যাত্রা শুরু করেছিলেন সঙ্গীত দিয়েই এবং তা গুরুদেবের জীবদ্দশাতেই। আর্টের লোক মিউজিকের কি বোঝে? এরকম সংকীর্ণতা তখনকার প্রশ্রয় পেত না শান্তিনিকেতনে, জানালেন এক আশ্রমিক।

কলাভবনের আরেক অধ্যাপক শর্বরী রায়চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর মিলিত প্রচেষ্টায় সঙ্গীত ভবনে সঙ্গীতের রেকর্ডিংয়ের আর্কাইভ গড়ে ওঠে। ১৯৪০-৪৬ সালে কলাভবনের ছাত্র ছিলেন তিনি। পরে সেখানেই অধ্যাপনা করেন ১৯৬৭-৭৭ সাল পর্যন্ত। ১৯৭৮ সালে অবসর নেন অধ্যক্ষ হিসেবে। ২০১১-র ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রয়াত হন শান্তিনিকেতনেই। 

তাঁর জন্ম শতবার্ষিকী হিসেবে তাঁর , ছাত্র এবং এখনকার কলাভবনের শিক্ষকদের সম্মিলিত কাজ প্রদর্শিত হবে আগামী শনিবার। সেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন শিল্পতাত্ত্বিক প্রণবরঞ্জন রায়। ১২ ডিসেম্বর, সন্ধেয় রয়েছে দু'টি আলোচনা। প্রথমে 'বিশ্বভারতী এবং সহশিক্ষা: শিল্পশিক্ষায় মহিলাদের উন্মেষ'শিরোনামে বলবেন শর্মিলা রায় পোমো। 

পরে সৌমিক নন্দী মজুমদার বলবেন 'কলাভবন: স্বপ্ন এবং মধ্যবর্তিতা' শিরোনামে। ১৮ ডিসেম্বর সন্ধেয় আর শিবকুমার বলবেন কলাভবনের জন্ম এবং বিকাশ নিয়ে। প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ২১ ডিসেম্বর, ৩-৮-টা পর্যন্ত (সোমবার বাদে)। প্রদর্শনীতে থাকছে ২০-২২টি ছবি। তাঁর বিখ্যাত পেন্টিংসের মধ্যে হল ড্রামার”, “বার্ডস এণ্ড মেনঅন্যতম। 
দিনকর কৌশিক নিজের সেরাটি দিয়ে সারাজীবন কাজ করে গেছেন। তাঁর লেখা 'নন্দলাল বসু: ভারতশিল্পের পথিকৃৎ' বা 'শান্তিনিকেতনের দিনগুলি' বইতে রবীন্দ্র-প্রয়াসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের নিবিড়তার কথা লিপিবদ্ধ রয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only