রবিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৯

অযোধ্যা রায় ‘স্ববিরোধী’ ও ‘একপেশে’, মত আলিগড়ের অধ্যাপক সৈয়দ নাদিমের

বাবরি মসজিদ-সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ‘স্ববিরোধী’ ও ‘একপেশে’ বলে মন্তব্য করেছেন আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলি নাদিম রিজভী। তিনি বলেন, এই রায় ইতিহাসের উপরে বিশ্বাসকেই প্রাধান্য দিল ও সমুন্নত করল।  

তাঁর মতে– শীর্ষ আদালত একদিকে বলছে---মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরি হয়েছে এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আবার অন্যদিকে ১৫২৮ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত মসজিদ দাঁড়িয়ে ছিল যেখানে– সেই জমিটিকে মন্দির করার জন্য তুলে দিচ্ছে হিন্দু পক্ষের হাতে এবং বলছে এর নাকি পুরাতাত্ত্বিক প্রমাণও রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে– ধারাবাহিক ভাবে এখানে নামায পড়া হয়েছে---এর শক্ত প্রমাণ নেই। অথচ পুরাণের একটি চরিত্র রামের জন্মস্থান বলে দাবি করা জায়গাটিকেই স্বীকার করে নেওয়া হচ্ছে। এখানে প্রমাণের চেয়ে বিশ্বাসকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রিজভীর মতে– এই মামলাটি ছিল জমির মালিকানা স্বত্ত্ব নিয়ে। যদি ওয়াকফ বোর্ডের পক্ষে কোনও প্রমাণই পাওয়া যায়নি– তবে ওদেরকে ৫ একর জমি কেন দেওয়া হল?  

সৈয়দ আলি নাদিম রিজভী আরও বলেন– শীর্ষ কোর্ট স্বীকার করেছে যে মসজিদে রামলালার মূর্তি স্থাপন বেআইনি কাজ ছিল। অথচ যারা বেআইনি কাজ করল– তাদেরকেই পুরস্কূত করা হল। আর যাদের মসজিদ ছিল– তাদেরকে অন্যত্র জমি দেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন– অধ্যাপক ইরফান হাবিব– শিরিন মাসুভির মতো ইতিহাসবিদরা বাবরি মসজিদের পক্ষের আইনজীবীদের ঐতিহাসিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন। 

আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক মির্জা আসমার বেগ প্রশ্ন তুলেছেন– এই রায়ের পরেই কি বিজেপি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করে দেবে? মথুরা– কাশীর মসজিদগুলির দাবি কি ওরা ছেড়ে দেবে? এই রায় ওদেরকে ধর্মস্থানগুলি অধিকারে আরও উৎসাহিত করে তুলতে পারে বলে অধ্যাপক বেগের অভিমত। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only