মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৯

উত্তরপ্রদেশে অতিরিক্ত ৪০০০ সেনা পাঠাল কেন্দ্র

সামনে অযোধ্যা রায়। হিন্দু-মুসলিম দু’পক্ষই শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আর্জি জানাচ্ছে। শীর্ষ কোর্টের রায় মেনে নেওয়ার কথা বলছে সকলেই। কিন্তু বাস্তবতা হল–  কস্মিনকালেও সবাই সুবোধ হয়ে যায়নি। এই রায়ের পরও যে সবাই শান্ত থাকবে জোর দিয়ে একথা বলা কঠিন। বাবরি মসজিদের মতো ঐতিহ্যশালী একটি মসজিদ যে ভেঙে ফেলা হবে এ-কথা বহু মানুষ স্বপ্নেও কল্পনা করেনি। তাদের ধারণা ছিল আইন মোতাবেক এর ফয়সালা হবে। কিন্তু এমন ঐতিহ্যশালী মসজিদটির গায়ে হাত দেবে না কেডই। কিন্তু তা হয়নি। ঐতিহ্যশালী এই মসজিদটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। কারা ধ্বংস করেছিল– তাদের রাজনৈতিক অবস্থান কী তা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। 

আসন্ন অযোধ্যা রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ আগামী ১৭ নভেম্বর অবসর নেবেন। ফলে ওইদিন বা তার আগেই তিনি অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণা করতে পারেন বলে খবর। অযোধ্যা মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় কী হতে পারে– তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়ে গিয়েছে শেষ মুহূর্তের কাউন্ট ডাউন। এই পরিস্থিতিতে অযোধ্যা সহ গোটা উত্তরপ্রদেশে কোথাও যাতে আইন-শৃঙ্খলাজনিত কোনও সমস্যা না হয়– সেজন্য সতর্ক প্রশাসন। রাজ্যে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের তরফে আগেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আর এবার পদক্ষেপ করল কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। 

মঙ্গলবার অতিরিক্ত ৪০০০ আধা সামরিক বাহিনী উত্তরপ্রদেশে পাঠাল কেন্দ্র। রায় ঘোষণা ও তার পরবর্তী সময়ে রাজ্যের কোথাও যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে– সেজন্য এই অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়েছে যোগীর রাজ্যে। উত্তরপ্রদেশে ১৫ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী পাঠানোর বিষয়ে সোমবারই অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত ওই বাহিনীকে উত্তরপ্রদেশে রাখা হবে। জানা গিয়েছে– এই ১৫ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনীর মধ্যে রয়েছে তিন কোম্পানি করে বিএসএফ– আরএএফ– সিআইএসএফ– আইটিবিপি এবং এসএসবি। এ ছাড়াও আরও ১৫ কোম্পানি সশস্ত্র কেন্দ্রীয় বাহিনীও পাঠানো হবে উত্তরপ্রদেশে। তাদেরও ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত যোগীর রাজ্যে থাকতে বলা হয়েছে। রাজ্যে আগে থেকেই মোতায়েন রয়েছের্ যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ বার্ যাফ)। তাদেরও সেখানে থাকার সময়সীমা বাড়িয়ে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত করেছে কেন্দ্র। সব মিলিয়ে মোট ৪০ কোম্পানি বাহিনী পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের ১২টি স্পর্শকাতর জেলায় তাদের মোতায়েন করা হবে। আরও জানা গিয়েছে– অযোধ্যা ও বারাণসী ছাড়াও আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হবে কানপুর– আলিগড়– লখনউ– আজমগড়ের মতো জেলাগুলিতে। 

অযোধ্যা মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়দানের সময় ও রায় ঘোষণার পর রাজ্যের কোথাও যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে– কোথাও যাতে কোনও আইন-শৃঙ্খলার অবনতির ঘটনা না ঘটে– সেজন্য এই বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অযোধ্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়দানকে ঘিরে কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা উত্তরপ্রদেশকে। ফৈজাবাদ পুলিশ সোশ্যাল সাইটে বিদ্বেষ ছড়ানো রুখতে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে থেকে ১৬০০ জন ভলিন্টিয়ার নিয়োগ করা হয়েছে।
আগাম সতর্ক রয়েছে তেলেঙ্গানা প্রশাসনও। এই রায়ের পর কোনোরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মোকাবিলায় তৎপর রয়েছে সেখানকার প্রশাসন। প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে তেলেঙ্গানা সরকার। রায়ের পর পরিস্থিতি বেগতিক হতে পারে সে আশঙ্কা থেকেই তাদের এই আগাম তৎপরতা– এমনটাই জানা গিয়েছে। ২০১০-এ অযোধ্যা মামলায় রায় দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট। সেই সময়ও হায়দরাবাদ সিটির বহু জায়গায় কারফিউ জারির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বেনজির পুলিশ প্রহরা বসানো হয়েছিল। তাই অযোধ্যা রায়ের আগে এবারও তেমনই তৎপরতা শুরু করল তেলেঙ্গানা পুলিশ। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only