রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯

বাহালনগরে পৌঁছলেন আহত জহিরুদ্দিন


পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক: শেষ পর্যন্ত কাশ্মীরে এক অজানা আততায়ী দলের হামলায় গুলিবিদ্ধ জহিরুদ্দিন সরকার পিজির ট্রমা সেন্টার থেকে তাঁর বাড়ি বাহালনগরে ফিরে আসছেন। রবিবার মধ্যরাতের মধ্যেই প্রিয়জনের সঙ্গে মিলিত হবে। জহিরুদ্দিন সরকার সংহিসতা-কবলিত কাশ্মীরে গিয়েছিলেন রোজগারের আশায়। কিন্তু সেখানে জহিরুদ্দিন এবং তাঁর গ্রামের আরও পাঁচজন শ্রমিকের সঙ্গে গুলিবিদ্ধ হতে হয়। একমাত্র জহিরুদ্দিন সরকারই জখম হয়েও কোনওক্রমে বেঁচে যান। তাঁর হাতে, পায়ের দু’জায়গায় এবং পেটে গুলি লেগেছে। তাঁর বাকি পাঁচজন সাথী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।                                                                                                                                                                                                                                                                                                      জহিরুদ্দিনকে অকুস্থল কুলগাম থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় শ্রীনগরের মহারাজা হরি সিং হাসাপাতালে। অবস্থার খানিকটা উন্নতি হওয়ায় ১৩ নভেম্বর তাঁকে কাশ্মীর পুলিশ বিমানে করে কলকাতায় নিয়ে আসে। মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের পরামর্শে তাঁকে কলকাতা বিমানবন্দরে রিসিভ করেন সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান ও জনাব ওয়ায়েজুল হক। তাঁরা তাঁকে সে রাত্রেই কলকাতার পিজি হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করেন।


এই ক’দিন তিনি হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারেই ছিলেন। শনিবার বিকেলে ডাক্তাররা তাঁকে সাময়িকভাবে ট্রমা সেন্টার থেকে ছেড়ে দিয়েছেন। সাংসদ জনাব আহমদ হাসান ইমরানকে পিজি হাসপাতালের মেডিকেল সুপার জানান, কয়েকদিন পর আহত জহিরুদ্দিন সরকারের একটি অস্ত্রোপচার করা হবে। এ জন্য পিজি হাসপাতাল সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। ৭ দিন পর আহতকে একবার পিজি হাসপাতালে এসে চেকআপ করতে বলা হয়েছে। এরপর ১৫ দিনের মধ্যে তাঁর প্লাস্টিক সার্জারি করা হবে। ট্রমা সেন্টার ছাড়ার আগে তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, পরবর্তীতেও পিজি হাসপাতালে জহিরুদ্দিনের উন্নত চিকিৎসার সবরকম ব্যবস্থা করা হবে। এর আগে ট্রমা সেন্টারে জহিরুদ্দিনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী, মা এবং অন্যান্য আত্মীয়রা দেখা করে গেছেন। জহিরুদ্দিনের ভাই আবদুল আহাদ সরকার ও আত্মীয় দিলবর সেখ পুলিশের অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।


জহিরুদ্দিন সরকারের আত্মীয় দিলবর সেখ বলেন, সাংসদ জনাব আহমদ হাসান ট্রমা সেন্টারে নিজে এসে এবং টেলিফোনের মাধ্যমে সবসময় খবরা-খবর নিয়েছেন। পিজির মেডিক্যাল সুপারের সঙ্গেও কয়েকবার তাঁর কথা হয়। জহিরুদ্দিনের ভাই আহাদ ও আত্মীয় দিলবর সেখ বলেন, জনাব ইমরানের আন্তরিকতা তারা কোনওদিনই ভুলবেন না।


পুবের কলমের সাংবাদিক মুহাম্মদ শাহীন হোসেন সাগরদীঘি থেকে জানিয়েছেন, স্থানীয় সাংসদ জনাব খলিলুর রহমান, মন্ত্রী জাকির হোসেন প্রমুখ মুর্শিদাবাদ থেকে বার বার আহত জহিরুদ্দিনের খোঁজখবর নিয়েছেন। তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। জনাব খলিলুর রহমান জহিরুদ্দিন সরকারকে ফিরিয়ে আনার জন্য মুর্শিদাবাদ প্রশাসনের সঙ্গে অব্যহত যোগাযোগ রেখেছিলেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only