শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৯

ডিএম প্রবেশিকায় এইমস-এন্ট্রান্সে প্রথম কলকাতার ডা. মুহাম্মদ তৌসিফুল্লাহ

পুবের কলম প্রতিবেদক: বাংলার মুখ উজ্জ্বল করলেন আরও এক বঙ্গসন্তান। দেশের পয়লা নম্বর চিকিৎসা ও গবেষণা সংস্থা অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স বা এইমস-এর পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রি ডিএম (সুপার স্পেশালিটি)-এর প্রবেশিকায় সর্বভারতীয় স্তরে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন পার্ক সার্কাসের বাসিন্দা ডা. মুহাম্মদ তৌসিফুল্লাহ। ভাষাতত্ত্ববিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ পরিবারেরই উত্তরসূরি ২৮-২৯ বছরের এই তরুণ চিকিৎসক আরও উচ্চতর চিকিৎসা গবেষণায় এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে নিলেন।
ডা. তৌসিফুল্লাহর আব্বা বর্তমানে কলকাতার বিশিষ্ট চিকিৎসক ও গল্পকার ডা. মুহাম্মদ হেদায়েতুল্লাহ। ডা. হেদায়েতুল্লাহর এক দাদু ছিলেন ভাষাতত্ত্ববিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। উত্তর ২৪ পরগনার পিয়ারা গ্রামের ভূমিপুত্র হেদায়েতুল্লাহ একদিকে যেমন বাংলা ভাষাচর্চাকে ধরে রেখেছেন, অন্যদিকে তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম চিকিৎসাবিজ্ঞানে পারিবারিক ঐতিহ্যকে সুমহান করে চলেছেন। পার্ক সার্কাস রেলস্টেশনের কাছে তাঁর চেম্বারে বসে গর্বিত পিতা বলেন, ছোটবেলা থেকেই তৌসিফুল্লাহ মেধাবী ছাত্র। আইএসসি বোর্ডে উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে গোল্ড মেডেল সহ এমডি পাশ করেন। এরপর এইমস-এর চিকিৎসা গবেষক হওয়ার জন্য মনোযোগ দেন। এ বছর সারা দেশে ১০ হাজারের বেশি ডাক্তার এইমস-এর ডিএম বা ডক্টর অফ মেডিসিনের (পোস্ট ডক্টরাল) এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন তৌসিফুল্লাহ। নবজাতক বিশেষজ্ঞ বা নিওনাটোলজিতে ডিএম করে ভবিষ্যতে আরও উচ্চতর চিকিৎসা গবেষণা করার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। ডা. হেদায়েতুল্লাহ জানান, তাঁর বড় ছেলে ডা. মুহাম্মদ আসিফুল্লাহও কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর এমডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ছোট ভাইয়ের মতো তিনিও গোল্ড মেডালিস্ট হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি অঙ্কোলজির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এই দুই কৃতী সন্তানের চিকিৎসক পিতা হেদায়েতুল্লাহ নিজে (এমবিবিএস) জেনারেল ফিজিশিয়ন হিসেবে বর্তমানে কলকাতায় প্র্যাকটিশ করলেও কয়েক দশক ধরে দেগঙ্গায় বিশিষ্ট চিকিৎসক হিসেবে সুখ্যাতি লাভ করেছেন। চিকিৎসার পাশাপাশি সাহিত্য চর্চাও করেন। প্রথম শ্রেণির বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিয়মিত তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। কয়েকটি বইও প্রকাশিত হয়েছে। 
তবে, তৌসিফুল্লাহর মামার বাড়ি পার্কাসার্কাসের তিলজলা রোডে। তাঁর নানা আবদুর রশিদ ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত টেলিযোগাযোগ দফতরে উচ্চপদস্থ আধিকারিক। একসময় আবদুর রশিদ ও তাঁর বড় ভাই আবদুস সাত্তার ছিলেন মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের স্বর্ণযুগের খেলোয়াড়। তৌসিফুল্লাহর মা মমতাজ খাতুনও বিজ্ঞানের স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী।একসময় তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটের একটি বালিকা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। পরে শিক্ষকতা ছেড়ে একদিকে চিকিৎসক স্বামীর সাহচর্যে নিয়োজিত হন, অন্যদিকে দুই পুত্রের শিক্ষার্জনের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে ওঠেন। তাই সন্তানের সাফল্যে আজ মুখে খুশির হাসি সুখী দম্পতি হেদায়েতুল্লাহ ও মমতাজ খাতুনের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only