মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯

উত্তরবঙ্গ আবার ভাসছে কালো নুনিয়ার গন্ধে



জলপাইগুড়ি, রুবাইয়া


উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত কালো নুনিয়া চাল যা প্রিন্স অফ রাইস নামে প্রসিদ্ধ শীতের বাজারে আবার মিলবে। একসময় উত্তরবঙ্গে শীত আসলেই বাতাসে ম ম করত এই ধানের গন্ধে।সাধারণত শীতকালে এই চালের গরম ভাতের সাথে ঘি সহযোগে খাওয়া হয়।পাশাপাশি পায়েস,খিচুড়ি, পোলাও,পিঠেপুলি সবকিছুতেই এই চাল স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়। কিছুকাল আগেও প্রায় সকলেই কালো নুনিয়া ধান চাষ করত।যাদের জমি ছিলনা চাষের তারাও বাড়ির বাইরে সামান্য জায়গাতেই চাষ করত।কারণ একটাই এর স্বাদ।কিন্তু সেসব এখন অতীত। আগের মতো কেউ আর কালো নুনিয়া ধানের চাষ করেননা।উত্তরবঙ্গের বাইরে তো অন্য চালকে কালো নুনিয়া বলেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ মানুষের।উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে যখন প্রায় বিস্মিত এই ধান ঠিক তখনই রাজ্য সরকার নানাভাবে উদ্যোগ নিয়ে উত্তরের এই ধানের রাজাকে বাঁচাতে মরিয়া।সরকারি উদ্যোগে বিলুপ্তপ্রায় ওই প্রজাতির ধানের প্রথম পরীক্ষামূলক চাষে ভাল ফলন পেয়েছে জলপাইগুড়ি জেলা কৃষি দফতর। কালিপুজোর সময়ই শুরু করেছে এই ধানের শিষ বের হতে। আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফসল কেটে ঘরে তোলার কাজ শুরু হবে বলে চাষিরা জানান।উত্তরের সব জেলাতেই এই ধানের চাষ হয়। তবে শুধু সরকারি উদ্যোগেই নয় আজও কিছু মানুষ এই ধানের চারা বোনেন জমিতে।ময়নাগুড়ি ব্লকের সাপ্টিবাড়িতে সুবেদার হক তিন বিঘা জমিতে কালো নুনিয়া ধান লাগিয়েছেন।তিনি জানান,আমি প্রত্যেক বছরই করি এই ধানের চাষ।যেহেতু এই ধানের দামটাও বেশি তাই ধান কেটে ঘরে আনার কিছুদিনের মধ্যেই পাইকার এসে নিয়ে যায়।কিছু নিজের জন্য রেখে দিই।ধান সবে পাকতে শুরু করেছে আর কিছুদিনের মধ্যে ঘরে আনবো।এই চালের সাথে বাংলার একটা আবেগ জড়িত রয়েছে। তাইতো মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি উত্তরবঙ্গে এলেই এই চালের খোঁজ নেন।শুধু উত্তরবঙ্গ নয় সমগ্র রাজ্য, দেশ তথা বিদেশেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।তাই এই চালের উৎপাদন বাড়াতে নানারকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সেই উদ্যোগ ফলপ্রসূও হচ্ছে।অন্যদিকে কালো নুনিয়ার দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only