বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৯

মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে বন্দুকবাজি হামলা, থাইল্যান্ডে নিহত অন্তত ১৫


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ইল্যান্ডের মুসলিম অধ্যুষিত আলা প্রদেশে বন্দুকবাজি হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত এবং জনা পাঁচেক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার মধ্যরাতে দক্ষিণাঞ্চলের এক চেকপয়েন্টে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ী। তবে ব্যাঙ্কক প্রশাসনের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে– হামলাকারীরা নেহাত দুর্নীতি বা আততায়ী নয়, তারা আসলে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর লোক। পুলিশ এবং উদ্ধারকারী সরকারি কর্মকর্তারা যাতে হামলার পর দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছতে না পারেন, সেজন্য রাস্তায় অসংখ্য পেরেক ছড়িয়ে দিয়ে যায় এবং ল্যান্ডমাইন পুঁতে দেয় হামলাকারীরা। এই হামলাকে সাম্প্রতিককালের সবথেকে বড় ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক নাশকতা বলে অভিহিত করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী জেনারেল প্রায়ুথ চান-ও-চা বলেন, হামলাকারীদের আইনের হাতে তুলে দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সুবিচার দেওয়া হবে।
দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা আধিকারিক কর্নেল প্রামোতে প্রমিন বলেছেন, সন্দেহভাজন বিদ্রোহী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এই ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। যাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১২ জন। গুলিবিদ্ধ হয়ে কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে আরও তিনজন মারা যান। উল্লেখ্য, বৌদ্ধ প্রধান থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় আলা, পাত্তানি, নারাথিয়ার মতো মালয় মুসলিম প্রধান প্রদেশগুলোতে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিদ্রোহ চালাচ্ছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। তাই এই সময়কালে প্রাণঘাতী হামলাও হয়েছে অনেকবার। তাই আগের মতোই এবারও মুসলিমদেরকেই সন্দেহভাজন হিসেবে দেখছে পুলিশ-প্রশাসন।
থাইল্যান্ডের সামরিক জান্তা সরকারের বক্তব্য, দক্ষিণাঞ্চলের স্বাধীনতার দাবিতে একাধিক মুসলিম গোষ্ঠী বিদ্রোহ চালাচ্ছে। খুব সম্ভবত এ দিনের হামলার সঙ্গেও তারাই জড়িত। যদিও এর কোনও প্রমাণ মেলেনি। কোনও গোষ্ঠী এখনও পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকারও করেনি। সূত্রের খবর, শর্টগান ও এম-১৬ রাইফেল থেকে গুলিবর্ষণ করে চম্পট দেয় বন্দুকবাজরা। মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট মতে, ২০০৪ থেকে গত দেড় দশকে দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন হামলায় অন্তত ৭ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এই অঞ্চলে ৮০ শতাংশ মালয় মুসলিমের বসবাস।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only