শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৯

বিজেপি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ করিয়ে দেশকে সাম্প্রদায়িক করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে : শেরমান আলী আহমেদ


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক :  অসমের কংগ্রেস বিধায়ক শেরমান আলী আহমেদ বলেছেন, ‘বিজেপি সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ‘ক্যাব’ পাশ করিয়ে দেশকে সাম্প্রদায়িক করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। ভারত ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দেশ। আমাদের সংবিধানে দেশকে ‘সেক্যুলার’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু শুধু মুসলিমদের বাদ রেখে বাকি অন্যান্য অমুসলিমদেরকে তারা যেসময়েই ভারতে আসুক তাদেরকে নাগরিকত্ব দিয়ে আসলে এই সরকার সংবিধানকে অবমাননা করছে। সংবিধান পরিবর্তন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’ বিজেপি দেশকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ করার ষড়যন্ত্র করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আজ শনিবার ‘পুবের কলম’কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিধায়ক শেরমান আলী আহমেদ ওই মন্তব্য করেছেন।    

তিনি বলেন, ‘অসমে বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে কমপক্ষে ৫৫ হাজার সরকারি কর্মীর মেহনতের জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে গেছে। এনআরসি প্রস্তুতিতে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এখন নাগরিকত্ব বিল (ক্যাব) পাশ করে তারা এই এনআরসিকে বানচাল করার একটা প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা আসলে মুসলিম সম্প্রদায়কে টার্গেট করে এসব কাজকর্ম করছে। ওরা বিদেশি বা বাংলাদেশি ইস্যুর নামে বিগত প্রায় চল্লিশ বছর যাবত অসমের আকাশ বাতাস উত্তাল করে রেখেছে। সেই বিদেশি ইস্যু আসলে তারা জীবিত রাখতে চায়। এর সমাধান তারা চায় না।’   

বিধায়ক শেরমান আলী আহমেদ বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই বলে এসেছি ভারতে কোনও মুসলিম বিদেশ থেকে আসেনি। কিন্তু বিভিন্ন সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এতকাল বক্তব্য রেখে এসেছেন যে, অসমে ‘লাখ লাখ বাংলাদেশি মুসলিম’ আছে। কিন্তু এনআরসিতে দেখে গেছে তারা চল্ললিশ বছর ধরে যা বলে এসেছিলেন সেই স্লোগান ভুয়া বা মিথ্যা। দেখা  গেছে এনআরসিতে বাদ পড়া ১৯ লাখের মধ্যে ৫/৭লাখ মুসলিম আছে।

 কিন্তু সেই ৫/৭ লাখ মুসলিমের মধ্যেও বেশিরভাগই ছোটো ছেলে বা মেয়ে। যাদের বাবা মায়ের নাম উঠলেও সন্তানদের নাম ওঠেনি। কারণ অসমের চরাঞ্চলে ২৫ লাখ মানুষের বসতি। এঁদের মধ্যে আজও প্রায় ২০ লাখ মানুষ নিরক্ষর। এই নিরক্ষরতার জন্য হয়তো তাঁদের উপযুক্ত নথি নেই, তারা হয়তো জন্ম প্রমাণপত্র বের করেনি। সম্প্রতি জন্ম প্রমাণপত্রের প্রচলন হয়েছে। আগের যুগের মানুষজন জন্ম প্রমাণপত্র যে রাখতে হবে তা জানতেন না। এরফলে বিভিন্ন মুসলিম পরিবারের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে বাবা-মায়ের নাম নথিভুক্ত হলেও ছেলে-মেয়ের আসেনি। এমনও হয়েছে যে সন্তানদের নাম এলেও বাবার নাম আসেনি। যদি সুষ্ঠুভাবে আইনি প্রক্রিয়া চলে তাহলে ট্রাইবুনালে গিয়ে তারা ভারতীয় ঘোষিত হবে তা আমরা নিশ্চিত।

 সুতরাং, এই যে চল্লিশ বৎসর যাবত বিভিন্ন সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যে ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করল সেই ইস্যুটা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হওয়ার পথে। সেজন্য তারা রাজনীতির স্বার্থে ওই ইস্যুকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়। এনআরসি হোক তারা তা চায় না। এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানকে তারা পরিবর্তন করে তারা হিটলারের মতো এক সম্প্রদায়কে টার্গেট করে নিয়েছে।’ 

কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতাসীন বিজেপি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ওঁরা আরএসএসের নীতি ও আদর্শ দ্বারা পরিচালিত। আরএসএসের নীতি হল ‘হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান’। সেই নীতিকে অনুসরণ করে তারা অসম ও গোটা  ভারতকে হিটলার যেভাবে ইহুদীদের হত্যা করেছিল তাদেরকে দেশ ছাড়া   করেছিল, একইভাবে ওরা (বিজেপি) আরএসএসের নীতিতে পরিচালিত হয়ে গোটা ভারতকে একটা ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করার ষড়যন্ত্র করেছে।’   

কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (ক্যাব) পাশের মধ্য দিয়ে  প্রতিবেশি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন,  খ্রিস্টানদের এদেশে শরণার্থীর মর্যাদা ও তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দেশে এভাবে ধর্মীয়ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে বিভিন্নমহল থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only