সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯

জিডি হাসপাতালের উদ্যোগে ডায়াবেটিস সচেতনতায় পা মেলালেন বিশিষ্টরা

আবদুল ওদুদ
ডায়াবেটিস বা মধুমেহ রোগ দেশজুড়ে মহামারির আকার ধারণ করতে চলেছে। সেই ডায়াবেটিস বা মধুমেহ রোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতন করতে জিডি হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াবেটিস ইন্সটিটিউট গত কয়েক বছর ধরে চালু করেছে ‘হাঁটো বাংলা হাঁটো’ কর্মসূচি। এ বছর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস ছিল ১৪ নভেম্বর। সেই দিনকে সামনে রেখে শহর কলকাতায় ১৭ নভেম্বর রবিবার অনুষ্ঠিত হল ‘হাঁটো বাংলা হাঁটো।’ এদিন হাল্কা শীতের আমেজ নিয়ে কয়েক হাজার মানুষ জিডি হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াবেটিস ইন্সটিটিউটের সিইও মুশরেফা হোসেনের আহ্বানে হাজির হন। সকাল ৯.৩০ মিনিটের পর লেনিন সরণিতে জিডি হাসপাতালের সামনে থেকে ‘হাঁটো বাংলা হাঁটো’ কর্মসূচির সূচনা করেন প্রখ্যাত অভিনেতা পরমব্রত চ্যাটার্জি।
অনুষ্ঠানের সূচনার পর ধন্যবাদ জ্ঞাপন সূচক বক্তব্য রাখতে গিয়ে জিডি হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াবেটিস ইন্সটিটিউটের সিইও মুশরেফা হোসেন বলেন, হাল্কা শীতের সকালে সকল আগত বিশিষ্ট ব্যক্তি সহ অন্যান্যদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আজকে যত মানুষ উপস্থিত হয়েছেন তাদের প্রতি জিডি পরিবার কৃতজ্ঞ। এর দ্বারা বোঝা যায় মানুষ ডায়াবেটিস রোগকে নির্মূল করতে আজকের সচেতনতা শিবিরে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হাঁটো বাংলা হাঁটো’-র মাধ্যমে আজ রবিবার থেকেই যেন হাঁটা শুরু করতে পারি আমরা।এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা ও আপনারা যেন সফল হই। আর ডায়াবেটিস যেন পরাস্ত হয়। কারণ, আমাদের লক্ষ্য দেশ তথা বিশ্বজুড়ে যেন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা কমে আসে। আর সেই লক্ষ্যে এই কর্মসূচি।
পরমব্রত চ্যাটার্জি বলেন, আমাদের দেশে ডায়াবেটিস রোগ ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে। এই রোগ কতটা মারণরোগ সেটা আমাদের বুঝতে হবে। এই রোগ মানুষকে ধীরে ধীরে মৃতু্যর দিকে নিয়ে যায়।
সেই পরিণতির কথা স্মরণ করে দিয়ে পরমব্রত বলেন, এই রোগের সঙ্গে আমার পরিবারের সম্পর্ক রয়েছে যা সত্যিই খারাপ। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আমার মা মারা গেছেন। বাংলার একমাত্র ডায়াবেটিস হাসপাতাল এই জিডি হাসপাতাল। মানুষকে সচেতনতা করতে মুশরেফা হোসেন যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তার জন্য সাধুবাদ জানান। প্রখ্যাত এই অভিনেতা বলেন, আমাদের লাইফস্টাইলই পারে ডায়াবেটিস রোগ দূর করতে। তাই প্রাত্যহিক জীবনে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে আমাদের লাইফ স্টাইলের পরিবর্তন জরুরি। তবেই ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকা সম্ভব। 
জিডি হাসপাতালের চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের প্রখ্যাত ডায়াবেটিস রোগের বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, মুশরেফা হোসেন বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে ‘হাঁটো বাংলা হাঁটো’ কর্মসূচির আয়োজন করেছেন। প্রতিবছর এখানে আসি মানুষকে বার্তা দিতে। রাজ্যে একমাত্র ডায়াবেটিস হাসপাতাল এটি। কেবল কলকাতা নয়, রাজ্য এবং দেশেও সুনাম অর্জন করেছে। তাই হাঁটলে কোনওক্ষতি নেই। প্রতিদিন নিয়ম করে ৩০ মিনিট হাঁটলে এই রোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। হাঁটলে কোনওক্ষতি নেই, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও নেই। কাজেই প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটলে অন্যদেরও উৎসাহ জ্ঞাপন করা হয়। ‘হাঁটো বাংলা হাঁটো’র মধ্যে আমাদের মধ্যে সম্প্রীতির বাতাবরণও তৈরি হয়। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বহু ওষুধ রয়েছে, তবুও প্রতিদিন হাঁটলে ডায়াবেটিসকে সহজেই পরাস্ত করা সম্ভব। মুশরেফা হোসেন যে ‘হাঁটো বাংলা হাঁটো’র উদ্যোগ নিয়েছেন তার প্রশংসা করে ডা. সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন,  এই সচেতনতা আমাদের সমাজে সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। 
প্রখ্যাত সাংবাদিক গৌতম ভট্টাচার্য বলেন, একটা সময় ক্যানসার নিয়ে মানুষের মধ্যে ভীতি ছিল, এখনও আছে। এখন আবার ডায়াবেটিস নিয়ে মানুষের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। কাজেই আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। আর সমাজের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ে তুলতে হবে। 
অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক জিডি হাসাপাতাল অ্যান্ড ডায়াবেটিস ইন্সটিটিউট যে সাধ্যের মধ্যে ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে আসছে, তার প্রশংসা করেন। ‘হাঁটো বাংলা হাঁটো’ কর্মসূচি যাতে আরও জনপ্রিয় হয়, সে ব্যাপারে সকলকে উৎসাহ প্রদান করেন। 
এ দিন ‘হাঁটো বাংলা হাঁটো’ পথ পরিক্রমা জিডি হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াবেটিস থেকে মৌলালি মোড় হয়ে এস এস ব্যানার্জি রোড ধরে লেলিন সরণি হয়ে আবার হাসপাতালে এসে পৌঁছয়। মিছিলে সকল বিশিষ্টরা পা মেলান। 
জিডি হাসপাতালের সিইও মুশরেফা হোসেন এই কর্মসূচি নিয়ে জানান, এ বছরও উত্তরবঙ্গের জেলা মালদায় ২৪ নভেম্বর ‘হাঁটো বাংলা হাঁটো’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। উত্তরবঙ্গের কর্মসূচি সফল করতে সকল স্বাস্থ্য সচেতন, শিক্ষক, অধ্যাপক, চিকিৎসক এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষদের আবেদন আসছে বলেও তিনি জানান। 
এদিনের ‘হাঁটো বাংলা হাঁটো’ কর্মসূচিতে অন্যান্য বিশিষষ্টদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন ডা. শৈবাল চক্রবর্তী, ডা. শুভাশিস গাঙ্গুলি, ডা. চন্দ্রচূড় মুখোপাধ্যায়, পতাকা শিল্পগোষ্ঠীর অন্যতম ডিরেক্টর মোতাহার হোসেন, জিডি হাসপাতালের কো-অর্ডিনেটর সামিউল হক, নাবাবিয়া মিশনের সম্পাদক সাহিদ আকবর, সমাজসেবী আবদুল কাইয়ুম, কাজী সাদেকুর রহমান প্রমুখ। এ দিনের কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী এবং বেশকিছু এনজিও-র কর্মীরা পা মেলান।    
 উল্লেখ্য, এই ‘হাঁটো বাংলা হাঁটো’ উদ্যোগ দেশজুড়ে সুনাম অর্জন করেছে। ২০১৭ সালে সেরা গণউদ্যোগের পুরস্কারলাভ করেছে জাতীয়স্তরে। এ বিষয়ে স্মর্তব্য যে, এই রোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে গত কয়েক বছর ধরে সচেতনতার কাজ করছে কলকাতায় অবস্থিত পতাকা শিল্পগোষ্ঠীর জিডি হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াবেটিস ইন্সটিটিউট। দেশের প্রখ্যাত শিল্পপতি এবং শিক্ষাবিদ পতাকা শিল্পগোষ্ঠীর সিএমডি জনাব মোস্তাক হোসেনের মা ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। মায়ের মৃতু্যর পর তিনি শপথ নিয়েছিলেন এই দুরারোগ্য ব্যাধির জন্য একটি হাসপাতাল গড়বেন। আর সেটি তৈরি করে রাজ্যের ডায়াবেটিস আক্রান্তদের চিকিৎসা শুরু করেছেন। আর তাতে সাফল্য মিলেছে ব্যাপক। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে সাধ্যের মধ্যে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের জন্য ভিড় জমান কলকাতার এই হাসপাতালে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only