সোমবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৯

গরীব মানুষ যেন ঘর পায়, ১০ টাকা নিলেও, আমি জানতে পারব। ছেড়ে কথা বলবো না : অনুব্রত




 পুবের কলম, ওয়েবর ডেস্ক:  বুথের চুলচেরা বিশ্লেষণে কাউকে ধমক,আবার কারো সাথে রসিকতায় মাতলেন অনুব্রত। কখনও নরমে, কখনও গরমে স্কুল ইন্সপেক্টরের ভূমিকায় বিধান সভা নির্বাচনের টার্গেট বেঁধে দিলেন। তবে বাংলা আবাস যোজনার বাড়ি নিয়ে দুর্নীতির ঢেউ নবান্ন পর্যন্ত গেছে।  তাই এদিন কর্মীদের আগে থেকেই সতর্ক করে অনুব্রত বলেন,  সিঙ্গি পঞ্চায়েতে ৮৫০টি বাড়ির অনুমতি এসেছে। গরীব মানুষ জেন ঘর পায়। ১০ টাকা নিলেও, আমি জানতে পারব। ছেড়ে কথা বলবো না।

 সোমবার নানুর পঞ্চায়েত সমিতির মাঠে ছিল বুথ ভিত্তিক সম্মেলন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বোলপুর –শ্রী নিকেতন ব্লকের ৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও নানুর ব্লকের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েতের বুথ কমিটির সদস্য, অঞ্চল সভাপতি এবং পঞ্চায়েতের প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল, জেলা সভাধিপতি বিকাশ রায় চৌধূরী, জেলা সহ সভাপতি অভিজিৎ সিনহা, বোলপুর সাংসদ অসিত মাল প্রমূখ ব্যক্তিরা।


বোলপুর –শ্রীনিকেতন এবং নানুর ব্লক মিলে ১৫,৫০২ ভোটে শাসকদল এগিয়ে। তবুও বেশ কিছু বুথে দল পিছিয়ে। তার প্রধান কারণ কোথাও সাবোতেজ, কোথাও সিপিএম- বিজেপি ফ্যাক্টর, আবার কোথাও দুর্নীতির কথা উঠে ভেল এদিনের বুথ ভিত্তিক সম্মেলণে।  এদিন ইন্সপেক্টরের ভূমিকায় অনুব্রত কীর্ণাহার-১ বুথ কমিটির সদস্যকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, ভাগ কেমন নেওয়া হয়? প্রশ্ন শুনে – উত্তর দাতা অপ্রস্তুত হয়ে জানালেন- না, কিছু নেওয়া হয় না। অন্যদিকে, দাসকল -১ পঞ্চায়েতের দাসকল গ্রামে ৪ টি বুথে হারে দল। সেখানে ১৫৩৭ ভোটে পিছিয়ে দল। তাই ফাইভমেন কমিটির নির্দেশ দিলেন তিনি। একইভাবে দাসকল-২ পঞ্চায়েতে বুথ সদস্য দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, দলের মধ্যে থেকে পদাধিকারী ভোট দেন নি এবং পিছন থেকে ছুড়ি মেরেছে। তারপর তার কাছ থেকে দায়িত্ব কেড়ে নিয়ে ফাইভ মেন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন অনুব্রত। ন’নগড় পোড্ডা ও থুপসড়াতে কেরিম খানকে লিডের পরিমান বাড়াতে নির্দেশ দেন অনুব্রত। পাশাপাশি, জলুন্দিতে ৭ টি  হিন্দু প্রধান গ্রামের ভোট বিজেপির দিকেই গেছে বলে জানান, কেরিম খান।  একই কথা শোনা যায়, উচকরণ পঞ্চায়েতে। সেখানে ১১টি বুথে তৃণমূল মাইনাস। বন্দর, আট গ্রামে বিজেপির কাছে মাত খেয়েছে দল, সেকথা স্বীকার করা হয়।  অন্যদিকে নানুর- চণ্ডীদাসে ৯টি বুথে হেরে দল। ১৩৫৭০ ভোটার। সেখানে মাত্র ১৪৭ ভোটে লিড দেওয়ায় ব্লক সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য্যকে কড়া ধমক দিয়ে বলেন, বিধানসভায় ৪০০০ হাজার ভোটে লিড না হলে, তোকে ব্লক সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেব।  বোলপুর – শ্রীনিকেতন ব্লকের সিয়ান মুলুকে ৯টা বুথে দলের হারের কারণ নিয়ে বিশ্লেষণ হয়। বাহিরীতে ১০টা বুথে একই পরিনাম দলের। বিষয়টি সুদীপ্ত ঘোষ্কে দেখতে বলার পাশাপাশি, বুথের এক যুবক সদস্যকে রসিকতা ক্রে হুমকি দিয়ে অনুব্রত বলেন- লিড না দিলে, তোর বিয়ে আঁটকে দেব।  কঙ্কালীতলায় সব থেকে বেশী কাজ হওয়া সত্বেও দলের খারাপ ফলের কারণ জানতে চান অনুব্রত। সেখানে ধল্টিগিরি গ্রামের দ্বন্দ্ব মেটানোর জন্য সুদীপ্ত ঘোষকে নির্দেশ দেন তিনি।  এদিন করিমপুরে উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদারের প্রতি নিগ্রহের ঘটনায়,  সম্মেলনের শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে অনুব্রত  বলেন, হোঁচট খেয়ে পড়ে গেছিলেন উনি। তৃনমূলের কেউ তাঁর গায়ে হাত দেয় নি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only