বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯

বিরাট বাস টার্মিনাস, বিমান বন্দর, রিসর্ট: রায়ের পর অযোধ্যাকে ঢেলে সাজানোর তোড়জোড়


অযোধ্যা নিয়ে শতাব্দী প্রাচীন বিতর্কের অবসান হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে।শীর্ষ আদালত রায় দিয়েছে, বিতর্কিত জমিতেই হবে রাম মন্দির। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর উজ্জ্বীবিত উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার। রাম মন্দিরকে সামনে রেখে অযোধ্যাকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে যোগী সরকার। দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে অযোধ্যাকে গড়ে তুলতে চাইছে তারা। সরকার মনে করছে, অযোধ্যায় বিরাট রাম মন্দির তৈরির পর হিন্দু ভক্তদের ভিড় লেগেই থাকবে। ফলে বিপুল পর্যটনের সুযোগ তৈরি হবে। মনে করা হচ্ছে সেকথা ভেবেই রাজ্য সরকার অযোধ্যাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিরাট বাস টার্মিনাস থেকে শুরু করে বিমান বন্দর গড়া হবে অযোধ্যায়। গড়ে তোলা হবে বহু রিসর্ট, হোটেল। আধুনিকীকরণ করা হবে রেল স্টেশনের।
যোগী সরকার চাইছে অযোধ্যাকে উত্তর ভারতের সবথেকে বড় ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে। সেজন্য খুব শীঘ্রই ‘অযোধ্যা তীর্থ উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন করতে চলেছে সরকার। কীভাবে অযোধ্যাকে ‘রাম-তীর্থস্থান’ হিসেবে হিসেবে গড়ে তোলা যায় তা খতিয়ে দেখবে সংশ্লিষ্ট বোর্ড। 

অযোধ্যাকে ঢেলে সাজাতে সময়সীমা রাখা হয়েছে ৪ বছর। অর্থাৎ, চার বছরের মধ্যে অযোধ্যার ভোল বদলে দিতে তৎপর যোগী সরকার। জানা গিয়েছে, এর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অযোধ্যায় গড়ে তোলা হবে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিমান বন্দর। দেশে-বিদেশের পর্যটকরা যাতে সহজে অযোধ্যায় আসতে পারেন। আগামী বছরে রাম নবমীর আগেই এই বিমান বন্দর তৈরির কাজ শেষ করে ফেলতে চায় সরকার যাতে রাম নবমীর দিন সেটির উদ্বোধন করা যায়। এছাড়াও অযোধ্যা রেল স্টেশনকে ঢেলে সাজাতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রও। অযোধ্যার মেয়র রাকেশ উপাধ্যায় জানান, ‘অযোধ্যাকে কিভাবে সাজানো হবে তার পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই করে ফেলেছে সরকার। খুব শীঘ্রই এই চূড়ান্ত পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হবে।’ তিনি জানান, অযোধ্যায় একটি বৃহত্তম বাস টার্মিনাস গড়ে তোলা হচ্ছে যাতে সেখানে একসঙ্গে ৩-৪ হাজার বাস দাঁড়াতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পের অনুমোদন দিলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, অযোধ্যা আগে ছিল ফৈজাবাদ জেলার অন্তর্গত একটি শহর। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ অযোধ্যাকে একটি আলাদা পূর্ণাঙ্গ জেলার স্বীকৃতি দেন। উত্তরপ্রদেশ পর্যটন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের ইচ্ছা ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রাস্তা নির্মাণ করা হবে। গোটা রাস্তাজুড়ে রামের জীবনী আঁকা থাকবে। সরযু নদীতে ভাসবে একটি প্রমোদতরী। গোটা অযোধ্যা ছেয়ে ফেলা হবে পাঁচতরা হোটেল– রিসর্ট ও রেস্টুরেন্টে। রাম মন্দির নির্মাণ যাতে দ্রুত শেষ হয় সেজন্য আরও ২ হাজার শ্রমিক নিয়োগ করেছে সরকার। 

সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যায় মসজিদ তৈরির জন্য ৫ একর জমি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। অযোধ্যা মামলায় মুসলিমদের পক্ষে প্রধান আবেদকারী ইকবাল আনসারি জানিয়েছেন, সরকার অধিকৃত ৬৭ একর জমির মধ্য থেকেই মসজিদের জন্য এই ৫ একর জমি দিতে হবে। ইকবাল আনসারি ছাড়াও একাধিক মুসলিম নেতা এই একই দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে কেন্দ্র সরকার অযোধ্যার এই বিতর্কিত জমি সহ মোট ৬৭ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল। মসজিদের জমি প্রসঙ্গে আনসারি বলেন, ‘ওরা যাদি আমাদের জমি দিতে চায় তাহলে অবশ্যই তা আমাদের সুবিধা অনুযায়ী দিতে হবে এবং তা শুধুমাত্র অধিকৃত ওই ৬৭ একর জমির ভিতর থেকেই দিতে হবে।’ একটি ইংরেজি দৈনিকের দেওয়া তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, এই ৫ একর পুরসভার এলাকা থেকে বা সরযু নদীর ওই একই পাড় বরাবার কোনও জায়গা থেকে দেওয়া হবে না। যতদূর জানা যাচ্ছে, এই ৫ একর জমি দেওয়া হতে পারে অযোধ্যা-ফইজাবাদ রোডের পাশে পঞ্চকোশীর (১৫কিমি) পরিধির সম্পূর্ণ বাইরে। উল্লেখ্য, রাম মন্দির পক্ষের শিবির থেকে বারবার বলা হয়েছে, মসজিদের জন্য আলাদা জমি দেওয়া হোক ‘শাস্ত্রীয় পরিধি’র বাইরে। অর্থাৎ, রাম জন্মভূমি থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরত্ব বিশিষ্ট বৃত্তাকার পরিধির (শাস্ত্রীয় পরিধি) বাইরে থেকে মসজিদের জন্য জমি দেওয়া যেতে পারে। কেউ কেউ আবার পরামর্শ দিয়েছেন, শাহজানওয়ালা গ্রামে মীর বাকির সমাধিস্থলে এই ৫ একর জমি দেওয়া হোক মসজিদ তৈরির জন্য।  যদিও সুপ্রিম কোর্ট এও বলেছিল, যেখানেই মসজিদের জন্য জমি দেওয়া হোক না কেন তা যেন সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করেই করা হয়। সবমিলিয়ে অযোধ্যা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only