বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৯

দেশের ৭০ তম সংবিধান দিবসের ভাষণে উপেক্ষিত বিশ্বভারতীর নন্দলাল বসু!


পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক:  বিশ্বভারতীতে মর্যাদার সাথে পালিত হল দেশের ৭০ তম সংবিধান দিবস। বিশ্বভারতীর পক্ষে সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ করে শোনানো হল। তার সাথে সাথে শােনানো হল রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ। উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর অধ্যাপক এবং বিভিন্ন আধিকারিকরা। সেই ভাষণ শোনার পর অনেকের প্রতিক্রিয়া,  আজকের এই বিশেষ দিনে নন্দলাল বসুকে স্মরণ করার প্রত্যাশা কি খুব অন্যায়?

কেন এই প্রত্যাশা যুক্তিযুক্ত? এবার সেই প্রসঙ্গে এলেন বিশ্বভারতীর অনেকেই।  অধ্যাপক তথা বাংলাদেশ ভবনের মুখ্য সমন্বয়ক মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় জানান,  বিশ্বভারতী হাতে লেখা  ভারতীয় মূল সংবিধানের অলংকরণের দায়িত্ব ন্যাস্ত ছিল শান্তিনিকেতনের নন্দলাল বসুর উপর। তিনি এবং  শান্তিনিকেতনের ছাত্ররা মিলে এই ঐতিহাসিক কাজ সম্পূর্ণ করেছিলেন। ক্যালিগ্রাফার প্রেমবিহারী নারায়ণ রায়জাদা হাতে করে ওই সংবিধান লিখেছিলেন। আর সাজানোর দায়িত্ব অর্থাৎ পাতায় পাতায় ছবি এঁকেছিলেন নন্দলাল বসু। প্রতি চ্যাপ্টারে ছবি, মার্জিনে অলংকরণ সবই তিনি ও তাঁর ছাত্ররা করেছিলেন।  সেখানে পুরাণ ও ইতিহাস সবই স্থান পেয়েছিল। রামচন্দ্রের রাবণ বিজয়, বুদ্ধ, মহাবীর, লক্ষ্মী বাঈ, টিপু সুলতান, সম্রাট আকবর আছেন। সংসদে সেন্ট্রাল হলে জয়েন্ট সেশন ৭০ তম সংবিধান দিবস পালিত হল। উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কিইয়া নাইডু প্রেম বিহারী নারায়ণজীর নাম করে বলেন,  তিনি বিনা পারিশ্রমিকে এই অনবদ্য কাজ করেছিলেন। কিন্তু সবাই ভুলে যান, নন্দলাল বসুর একটা বড় ভূমিকা ছিল।  এই আক্ষেপ শোনা গেল আশ্রমে!   

এব্যাপারে মানবেন্দ্রবাবুর কাছে জানা, সাড়ে ছ'বছর আগে ভারতের মূল সংবিধানের একটা ডামি কপি পেয়েছিলেন তিনি।  অবাক হয়েছিলেন সেদিন তার অনবদ্য অলংকরণ আর ক্যালিগ্রাফি দেখে। স্বভাবতই প্রশ্নের অবকাশ থেকে যাচ্ছে, আজ সংবিধান দিবসে মাননীয় উপরাষ্ট্রপতি সংবিধানের ক্যালিগ্রাফার প্রেমবিহারী নারায়ণজির কথা স্মরণ করলেন বটে, কিন্তু সেই বর্ণাঢ্য স্মরণিকায় সম্পূর্ণ  ঊহ্য থেকে গেল আচার্য নন্দলাল এবং শান্তিনিকেতনের শিল্পীদের কথা ! মনে রাখতে হয়, ওই অলংকরণ নেহাত সংবিধানের বাইরের সজ্জা ছিল না । খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রত্যেকটা ছবি দেখে মনে হয়েছিল, কন্টেন্টের সঙ্গে ওই অলংকরণেরও আছে  গাঢ় সংযোগ।  ভারতীয় সংস্কৃতির  বহুত্ববাদ ওই অলংকরণের মধ্যেই যেন পেয়েছে একরকম  উপযুক্ত শিল্পিত স্বীকৃতি । পুরাণ ও ইতিহাসের সে এক মহা মেলবন্ধন । রামচন্দ্রের পাশে সেখানে বুদ্ধদেব; আর বুদ্ধদেবের পাশাপাশি  সেখানে বিরাজ করেন  আকবর, শিবাজি এবং টিপু । মূল সংবিধানের পাতায় পাতায় অলংকৃত  মার্জিনের স্পেস  যেন আমাদের গণতান্ত্রিক চেতনারই মুক্ত পরিসর !

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only