শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯

বেঙ্গালুরুতে আটক ৫৯ বাংলাদেশিকে ‘পুশ ব্যাক’-এর চেষ্টা



পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক : কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে আটক ৫৯ বাংলাদেশিকে কর্ণাটক সরকার পুশ ব্যাকের চেষ্টা করায় সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় মানবাধিকার কর্মী রঞ্জিত সুর ক্ষোভ প্রকাশ করে একে ‘ভয়াবহ ঘটনা’ বলে অভিহিত করেছেন। আটক ওই বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ পুরুষ, ২৩ মহিলা এবং ১৮ শিশু রয়েছে।

মানবাধিকার কর্মী রঞ্জিত সুর বলেন, ‘কর্নাটক সরকার দেশের আইন-সংবিধান সব লঙ্ঘন করেছে। কাউকে এভাবে ‘পুশ ব্যাক’ করা যায় নাকি! কোনও মামলা নেই ওদের বিরুদ্ধে। পুলিশ কী করে নিশ্চিন্ত হল ওরা বাংলাদেশি? ওরা পশ্চিমবাংলার বাঙালিও হতে পারে। পুলিশকে বাংলাদেশি নির্ধারণের ক্ষমতা কে দিল? কোন আইনে? পুশব্যাকের অর্ডার কে দিল?’

তিনি বলেন, ‘কোর্টের আদেশ ছাড়া কখনওই ‘পুশব্যাক’ করা যায় না। আমরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে দাবি করছি, এই পুশব্যাকবন্ধ করুক। বাংলার সবাইকে আবেদন করছি, এর প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য।’

কর্নাটক সরকার ধৃতদেরকে ২৬ দিন বেঙ্গালুরুর একটি হোমে   আটকে রাখার পরে তাঁদেরকে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে।   গতকাল শুক্রবার সকালে এঁদেরকে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে ট্রেনে তোলা  হয়েছে। ট্রেনের একটি আলাদা কামরায় তাঁদের রাখা হয়েছে। পথে যাতে কেউ পালাতে না পারেন, তার জন্য কর্ণাটক পুলিশের ২৯ জনের একটি দল সবাইকে পাহারা দিচ্ছে। তাঁরা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও বিএসএফের কাছে ধৃতদের হস্তান্তর করবে।

কর্ণাটক পুলিশ জানিয়েছে, আটক বাংলাদেশিদের কাজের টোপ দিয়ে আনা হয়েছিল। তাই তাঁরা ‘পাচার হয়ে এসেছে’ গণ্য করে তাঁদের  বিরুদ্ধে কোনও মামলা রুজু করা হয়নি।

ধৃত বাংলাদেশিদের বড় অংশই বেঙ্গালুরু শহরে কাগজ কুড়ানি হিসাবে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এবং এঁদের অনেকেই কয়েক বছর ধরে ওই শহরে রয়েছেন। এঁদের কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং কোনও রকম নথিপত্র ছাড়াই সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে ঢুকেছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only