রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯

খুলে গেল শবরীমালা, ফেরত পাঠানো হল ১০ মহিলাকে


পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক: বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে শবরীমালা মামলা। ৫ সদ্যসের জায়গায় ৭ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে এই মামলা। আগের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, সব বয়সের মেয়েরা শবরীমালায় প্রবেশ করতে পারবে। শনিবার বিকাল ৫ টা থেকে পুজোর জন্য খুলে দেওয়া হয় শবরীমালা মন্দির। টানা ৪১ দিন খোলা থাকবে এই আয়াপ্পা মন্দির।
সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, এদিন ১০জন মহিলাকে ফেরত পাঠায় পুলিশ। তাঁরা এসেছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয় মন্দির সংলগ্ন এলাকা। চার দফায় ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার কেরলের দেবাস্বম মন্ত্রী কাড়াকামপল্লি সুরেন্দ্রন বলেন, যেসব মহিলা মন্দিরে পুজো করার জন্য সরকারি নিরাপত্তা চাইছেন, তাঁদের কোর্ট অর্ডার দেখাতে হবে। মন্দির কোনও আন্দোলনের জায়গা নয়।
পুণের মহিলা অধিকার কর্মী তৃপ্তি দেশাই এদিন বলেছেন, ‘আমি মৌলিক অধিকারের বলেই সেখানে যাব। তীর্থও করব। ভগবান আমাদের কোনোদিন বলেননি যে, তোমরা তীর্থ করতে এসো না। এটা কোনও আন্দোলন নয়। আমরা কোর্টের অর্ডারও সঙ্গে নিয়ে যাব। সরকারের উচিত আদালতের রায়কে সম্মান জানানো।’
তৃপ্তি সংবাদ মাধ্যমের সামনে আরও বলেন, ‘২০ নভেম্বরের পর আমি শবরীমালা দর্শনে যাব। কেরল সরকার নিরাপত্তা না দিলেও যাব।’
নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়ে গত বছরই শবরীমালায় সব বয়সি মেয়েদের পুজোর অধিকারকে স্বীকৃতি দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তারপর হাজার হাজার মানুষের বাধা অতিক্রম করে মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করেন কয়েকজন মহিলা। এই মহিলাদের নিরাপত্তা দিতে নাভিঃশ্বাস ওঠে পুলিশের। শবরীমালা ক্যাম্পেনের মুখপাত্র রাহুল ঈশ্বর এনডিটিভিকে জানান, ‘তৃপ্তি দেশাই বা কেন সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারছেন না?’
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সংঘের লোকজন এই রায়ের বিরোধিতায় আন্দোলন শুরু করেছিল। বিজেপি ‘আস্থা’য় ভর করে কেরলের মাটি তৈরির চেষ্টায় নেমে পড়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি মহিলাদের। অমিত শাহ স্বয়ং সেখানে হাজির হয়ে আস্থার স্বপক্ষে সুর চড়িয়েছিলেন। দেশের একজনও বিজেপি নেতা সেদিন বলেননি সুপ্রিম কোর্টের রায় শিরোধার্য। সকলের উচিত তা মেনে নেওয়া। অযোধ্যার বেলায় অবশ্য তার উল্টো হল। রায় সামনে আসার আগেই বিজেপির শীর্ষ এবং খুচরো সব নেতাই প্রায় একবাক্যে বলে উঠেছিলেন, সুপ্রিম রায় শিরোধার্য। রায়ের আগে সম্প্রীতির আওয়াজ তুলেছিলেন তাঁরা। কিন্তু শবরীমালার বেলায় তাঁরা বলতে পারলেন না যে এই রায় মেনে নিতে হবে সকলকে। সুপ্রিম কোর্টও বলতে পারল না যে আগের রায়ই বহাল থাকবে।
গত বছর চার-এক গরিষ্ঠ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট শবরীমালায় সমস্ত বয়সের মহিলাদের প্রবেশাধিকার দিয়েছিল। এর প্রতিবাদে ৬০ টি আবেদন জমা পড়েছিল। তাদের দাবি, দেবতা আয়াপ্পা আসলে ব্রহ্মচারী। সে কারণে ঋতুমতীদের এই মন্দিরে প্রবেশ করা উচিত নয়। গত বৃহস্পতিবার শীর্ষকোর্ট সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে বলে, সব বয়সের মহিলাদের শবরীমালায় প্রবেশানুমতি দেওয়া হবে কিনা–– সেই মামলা পাঠানো হল বৃহত্তর বেঞ্চে। একই সঙ্গে বলা হল, মুসলিম এবং পার্সি মহিলারা তাদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রবেশ করতে পারবে কিনা সে বিষয়েও আলোচনা জরুরি। দাউদি বোহরা সম্প্রদায়ের মেয়েদের লিঙ্গচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা হবে বৃহত্তর বেঞ্চে। প্রশ্ন হল, ফের কি আস্থার সামনে হোঁচট খেতে হবে?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only