শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

‘কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা অপসারণের সিদ্ধান্তে ভারত শক্তিশালী হয়েছে’


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক : ওয়াশিংটনে মানবাধিকার বিষয়ক মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে ভারতীয় সাংবাদিক সুনন্দা বশিষ্ঠ বলেছেন, কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা অপসারণের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ভারত শক্তিশালী হয়েছে। তাঁর দাবি, এরফলে কাশ্মীরে মানবাধিকার সমস্যা চিরতরে সমাধানে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, কাশ্মীরে সমস্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে পাকিস্তান দ্বারা প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীদের হাতে। যার ফলে কাশ্মীরে ভারতের ক্ষতি হচ্ছে।

সুনন্দা বলেন, ‘ভারতের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রচেষ্টা অতুলনীয়। গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই এই দেশ সাফল্যের সঙ্গে পাঞ্জাব এবং উত্তর-পূর্বে বিদ্রোহীদের দমন করেছে। এখন জম্মু ও কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করার সময় এসেছে এবং সেটা হলেই সেখানকার মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত সমস্যার চিরতরে সমাধান হবে।’

সুনন্দার বক্তব্যের পরে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য, টেক্সাসের শাইলা জ্যাকসন লি প্রশ্ন তোলেন, এখন জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের মানবাধিকার ফেরাতে কী করা হবে? মার্কিন কংগ্রেসের তরফে উপত্যকায় ঘুরে দেখা সম্ভব কিনা তাও জানতে চান শাইলা। 

জম্মু-কাশ্মীরে মানুষদের মৌলিক অধিকার এখনও লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না, তা মার্কিন কংগ্রেস (টম ল্যান্টোস কমিশন) ফের খতিয়ে দেখবে। এই বিষয়ে  প্রত্যক্ষদর্শীর মন্তব্যও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে ওই তথ্য জানানো হয়েছে। গত তিন সপ্তাহে কাশ্মীর নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের এটি দ্বিতীয় শুনানি। এরআগেও একবার জম্মু-কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের মন্তব্য নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। এরফলে অস্বস্তি বেড়েছে নয়াদিল্লির।

ভারত বারবার এটি নিজেদের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে সাফাই দেওয়া সত্ত্বেও মার্কিন কংগ্রেসের মানবাধিকার কমিশন এক বিবৃতিতে জানায়, ভারত ও পাকিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাসের প্রেক্ষিতে জম্মু-কাশ্মীরে সাম্প্রতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার হবে।

মার্কিন কংগ্রেসের প্রথম প্যানেলের সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশনের প্রধান অনুরিমা ভার্গবকে। দ্বিতীয় প্যানেলের কাছে বক্তব্য রাখবেন মানবাধিকার সংক্রান্ত আইনজীবী সেহলা আসাই এবং অর্জুন এস শেঠি।

গত অক্টোবরে কাশ্মীর উপত্যকার সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে ভারতের কড়া সমালোচনা করেন মার্কিন কংগ্রেস কমিটির সদস্যরা। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিভাগীয় কর্মকর্তা অ্যালিস জি  ওয়েলসও তাঁর রিপোর্টে কাশ্মীরে ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, কাশ্মীর উপত্যকার পরিস্থিতি আমাদের দফতরকে দুশ্চিন্তায় রেখেছে। একইসঙ্গে মৌলবাদী সংগঠনগুলিকে একনাগাড়ে মদদ দেওয়া নিয়ে তিনি পাকিস্তানেরও সমালোচনা করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only