শুক্রবার, ১ নভেম্বর, ২০১৯

রাষ্ট্র সংঘের সবুজ সংকেত না পেলে ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর নয়:­ বাংলাদেশ সরকার

রোহিঙ্গাদের জন্য সাইক্লোন ও বন্যাপ্রবণ-ভাসানচরে বসতি তৈরি করছে বাংলাদেশ। দেশটিতে এখন প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থী রয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ ক্যাম্পে থাকা ১ লাখ রোহিঙ্গাকে আপাতত বঙ্গোপসাগরের জনমানবহীন ভাসানচরে পাঠাতে চলেছে হাসিনা সরকার। সেখানে ছোট ছোট ঘর তৈরি হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য তৈরি হচ্ছে উঁচু বাঁধ। তবে সমস্ত প্রস্তুতি সাঙ্গ হলেও রাষ্ট্র সংঘের সবুজ সংকেত না পেলে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে না তারা। সম্প্রতি এক বিৃবতিতে এ কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই দ্বীপটি বর্ষার সময় প্রতিবছর পানিতে ডুবে যায়। মেঘনা নদীর যে খাঁড়িতে দ্বীপটি অবস্থিত– সেখানে এর আগে শক্তিশালী সাইক্লোনে বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য ৯ ফুট উঁচু বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে– যাতে সাইক্লোনের সময় জলোচ্ছ্বাস সেখানে পৌঁছতে না পারে। কয়েক মাসের খাদ্য-পানীয় জমিয়ে রাখার জন্য গুদামের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ২৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে কয়েকশো ব্যারাক– সাইক্লোন সেন্টার– কমিউনিটি হাসপাতাল– মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বেঁচে থাকার জন্য রোহিঙ্গাদের জীবিকা হবে কৃষিকাজ– পশুপালন ও মৎস্যচাষ। 
বেশকিছু মানবাধিকার সংস্থা ও আমেরিকান সরকার ইতিমধ্যে বাংলাদেশকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে অনুরোধ করেছে। তাদের বক্তব্য– স্থানান্তরের আগে সেখানে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ দল গিয়ে পরিদর্শন করে আসবে--- আসলেই সেখানে মানুষ বসবাস করতে পারবে কি না এবং জায়গাটি কতটা নিরাপদ– তা খতিয়ে দেখা হবে। 
বাংলাদেশের বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রকের বরিষ্ঠ সচিব শাহ কামাল জানান– আমরা যে কোনও মুহূর্তে স্থানান্তরের কাজ শুরু করতে পারি। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ব্যাপারটি যেহেতু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির নজরে রয়েছে– তাই তারা ভাসানচরের পরিকাঠামো ও নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখার পরে কাজ শুরু হবে। রাষ্ট্রসংঘের সংস্থাগুলির ছাড়পত্র ব্যতীত আমরা পুনর্বাসন শুরু করব না। তিনি আরও জানান– বাংলাদেশ সরকার আগামী সপ্তাহে রোহিঙ্গাদের নেতৃত্বস্থানীয় একটি দলকে ভাসানচরে পাঠাবে সরেজমিনে নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোর দিকটি দেখে আসার জন্য। ভাসানচরের নতুন নির্মিত বসতির ভিডিয়ো ক্লিপও দেখানো হচ্ছে রোহিঙ্গাদের– যাতে তারা সেখানে যেতে উদ্বুদ্ধ হয়। ইতিমধ্যে ৭০০০ রোহিঙ্গা দ্বীপটিতে যাওয়ার জন্য নাম নথিভুক্ত করিয়েছেন। রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর মুখপত্র ডোনোভান জানিয়েছেন– রাষ্ট্রসংঘ চায় ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে যেন তাদের মৌলিক অধিকারগুলি রক্ষিত হয়। শিক্ষাগ্রহণের পর্যাপ্ত সুযোগ যেন পায় রোহিঙ্গা শিশুরা।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only