শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯

বাংলাদেশি সন্দেহে আটক ৫৯জনকে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক'-এর চেষ্টা, আইন মানা হচ্ছে না কেন? প্রশ্ন এপিডিআরের




আসিফ রেজা আনসারী

বাংলাদেশি সন্দেহে ৫৯ জনকে এক প্রকার জোর করেই সীমান্তের ওপারে বেআইনিভাবে 'পুশব্যাক' করার চেষ্টা করল কর্নাটক পুলিশ। তা কোনও রকম আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদেরকে পুলিশি ঘেরাটোপে বেঙ্গালুরু থেকে ট্রেনে চাপিয়ে শনিবার হাওড়া স্টেশনে নিয়ে আসা হয়েছে। এ নিয়ে হাওড়া স্টেশনে একপ্রস্থ নাটকও করে কর্নাটক পুলিশ, সঙ্গে হাওড়া জিআরপি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশি সন্দেহে আটকদের ২৩ নম্বর প্লাটফর্মে ফাঁকা জায়গায় ফেলে রাখা হয়েছে। কোনও রকম খাওয়ার ব্যবস্থা না করেই। আটকদের দলে থাকা মহিলা ও শিশুরা দিনভর না খেয়ে ক্লান্ত, কেউ কেউ অসুস্থ বোধ করলেও কোনও খাওয়ার দেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ। তাদের কাছে না আছে টাকা না কোনও আস্তানা। মারলেও পুলিশ, বাংলাদেশে ফেরত পাঠালেও পুলিশ। তারা হতাশ ও আতঙ্কিত। ভয়ে জবুথবু হয়ে প্রহর গুনছেন মুক্তির। কিন্তু কখন কীভাবে মুক্তি পাবে কেউ জানেনা। এদিকে দেশের নাগরিক হোক বা না হোক কোনও রকম আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই কেন জোর করে একপ্রকার ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশ ফেরত পাঠাচ্ছে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর। তাদের পক্ষে আলতাফ হোসেন, অধ্যাপিকা নিশা, মৌতুলি সহ আরও অনেকে হাওড়া স্টেশন চত্বরে মিছিল করে বিক্ষোভ দেখান। তারা হাওড়া জিআরপির পুলিশ সুপারের কাছে আইনি প্রক্রিয়া মানার ও শিশুদের সুরক্ষা প্রদানের জন্য আবেদনও করেন। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, শিশু ও মহিলাদের যেভাবে নিয়ে আসা হয়েছে এবং ফেরত পাঠানোর নামে টানা হেঁচড়া করা হচ্ছে তা অমানবিক। দেশের আইন আদালত থাকার পরেও পুলিশ কেন বেআইনি কাজ করছে প্রশ্নও তুলেছেন।

উল্লেখ্য, মোট ৫৯ জনের মধ্যে ১৪টি শিশু ও ২৫ জন মহিলা রয়েছেন। তারা জানিয়েছে কাজের জন্যেই তারা এদেশে এসেছেন। কেউ এক বছর তো কেউ পাঁচ ছয় বছর ধরে এদেশে আছেন। অনেকের আবার এদেশেই জন্ম। কেউ কেউ হোটেল বা পেয়িং গেস্ট এ সুইপারের কাজ করতেন। বেশির ভাগই কাগজ-প্লাস্টিক কুড়ানোর কাজ করত। কারও জমিজমা নেই মূলত পেটের টানেই সীমান্ত পাড়ি দিয়ে, জীবন মরণের ফাঁদে বন্দি। এদিন সকলকেই হাওড়া স্টেশন চত্বরে মেঝেতেই ফেলে রাখা হয়েছে।


জানা গিয়েছে, বিগত ২৬ দিন ধরে বাংলাদেশি সন্দেহে আটকদের বেঙ্গালুরুর একটি হোমে বন্দি রাখা হয়েছিল। এদিন বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ ২২৮৩২ হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসে তাদেরকে হাওড়া স্টেশনে নামানো হয়। সূত্রের খবর, আটকদের বনগাঁও সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু এদিন বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবাদে আপাতত পুলিশ কিছুই করেনি। একটি সূত্র বলছে, তাদেরকে নাকি ফের কর্নাটক ফেরত পাঠানো হবে। যদিও কর্নাটক পুলিশ ও হাওড়া জিআরপি বা জিআরপির পুলিশ সুপার কোনও কথা বলতে চাইনি।

এদিকে পুরো ঘটনার সমালোচনা করেছেন মানবাধিকার কর্মী অধ্যাপক সুজাত ভদ্র, রঞ্জিত শূর, অধ্যাপক সামিরুল ইসলাম সহ অন্যান্যরা। রঞ্জিত শূর  বলেন, ‘‘ কর্নাটক সরকার দেশের আইন-সংবিধান সব লঙ্ঘন করেছে।" কাউকে এভাবে ধাক্কা দিয়ে পাঠানো যায় নাকি? প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। কোনও মামলা বা আদালতের দ্বারস্থ না হয়েই কর্নাটক পুলিশ যেভাবে বাংলাদেশি তাড়ানোর চেষ্টা করছে তার নিন্দাও করেন রঞ্জিত শূর। সুজাত ভদ্র বলেন, বর্তমান দেশের সরকার যে প্রবল মুসলিম বিদ্বেষী কাজকর্ম করছে এটা তারই প্রতিফলন। কেউ যদি বেআইনি ভাবেও প্রবেশ করে তাহলেও স্বাভাবিক জীবনধারনের সুবিধা পাবেন। আইন এটাই বলে। তাছাড়া, কাউকে ফেরত পাঠাতে হলে সেই দেশের দূতাবাসের মাধ্যমেই হবে। আমি এর নিন্দা জানাচ্ছি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only