বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯

কাঁচি হাতে ছাত্রদের চুল ছাঁটলেন শিক্ষক!

পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক, রামপুরহাটঃ শিক্ষকের হাতে ছড়ি আর থাকে না। কিন্তু কাঁচি হাতে ক’জন শিক্ষককে দেখা যায়! বীরভূমের নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের লোহাপুর এম আর এম হাইস্কুলে।  প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ নিজেই কাঁচি ধরে পাঁচ ছাত্রের চুল ছাঁটছেন, আর ছাত্রদের মস্করা করে বলছেন, ভেবেছিলুম সেলুন খুলবো! ছাত্ররাও হাসছেন। যদিও তাদের মাথা থেকে এমন রঙিন চুলগুলো ছেঁটে ফেলা হচ্ছে!    আর এই ঘটনার ছবি ফেবুর বাসিন্দাদের মধ্যে ভাইরাল!  তবে স্কুলের এই কাজে খুশি অভিভাবকরা।

ইদানীং কালে  হাল ফ্যাশন ছোটদের মধ্যেও ছড়িয়েছে। কেউ কেউ আবার চুলে লাল, নীল, সাদা একাধিক রঙ করে স্কুলে যাচ্ছে। এতে স্কুলের পঠনপাঠনের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, বলে দাবি অভিভাবকদের। এবার শিক্ষকের কাজে শিলমোহর দিলেন অভিভাবকরাই!   তাই স্কুলের শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রথমে বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের বিষয়টি নিয়ে সচেতন করা হয়।  তারপরেই প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ নিজেই কাঁচি ধরে পাঁচ ছাত্রের চুল কেটে দিয়ে সবক শেখান। প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ বলেন, “ফ্যাসান চুল করে স্কুলে এলে অন্য ছাত্রের মধ্যেও বিষয়টি সংক্রামিত হয়। তাই বিষয়টি প্রথমে অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করেছিলাম। তারপরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনটা করা না হলে দিন দিন চুলের ফ্যাসানের প্রবণতা বেড়ে যাবে। তাই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে”। শেফালী বিবি, নাড়ুগোপাল মালরা বলেন, “প্রধান শিক্ষক সঠিক কাজ করেছেন। আমরা এতদিন পারিনি। তা প্রধান শিক্ষক করে দেখিয়েছেন। এর ফলে সমস্ত ছেলেরা সচেতন হবে। ভদ্রভাবে চুল কাটাবে”। স্কুলের মধ্যে প্রধান শিক্ষক চুল কেটে দিলেও খুব একটা  খুব একটা ক্ষোভ নেই ছাত্রদেরও। ষষ্ঠ শ্রেণির রাজেন মাল, সন্তু মালরা বলে, “আমরা হিরো সাজার জন্য ওইভাবে চুল কেটে রঙ করিয়েছিলাম। প্রধান শিক্ষক কেটে দিয়েছে তাতে আমাদের কোন দুঃখ নেই। এভাবে আর চুল কাটব না। প্রধান শিক্ষক আমাদের সচেতন করে দিয়েছেন”।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only