বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৯

বাবরি ধ্বংস নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব মাধব গোডবোলের

১৯৯২ সাল,  ৬ ডিসেম্বর। ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক কালো দিন।সাড়ে চারশো বছরের অধিক পুরনো বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলে উন্মত্ত করসেবকরা। উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় তখন প্রশাসন কার্যত নীরব ভূমিকা গ্রহণ করেছিল বলে অনেকে দাবি করেন। সেই সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কংগ্রেসি নরসিমা রাও। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বিজেপির কল্যাণ সিংহ। স্বরাষ্ট্র সচিব ছিলেন মাধব গোডবোলে।এবার সেই গোডবোলেই বাবরি ধ্বংসের জন্য আঙুল তুললেন নরসীমার দিকে। সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন, বাবরি মসজিদ ধ্বংস আটকানো যেত, যদি সঠিক সময়ে সাংবিধানিক পদক্ষেপ নেওয়া হত। তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধানের ৩৫৫ ধারা জারি করে অনায়াসে বাবরি মসজিদ ধ্বংস আটকানো যেত। এই ধারাতে কোনও রাজ্যে আইন-কানুনের অবনতি ঘটলে সেখানে কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করতে পারবে ও রাজ্যকে ধর্মস্থান রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারবে। কিন্তু সেসময় প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। উত্তর প্রদেশে সেসময় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন তিনি। এই সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই চরম পরিস্থিতি তৈরি হয়।গোডবোলে জানিয়েছেন, তিনি নিজেও এ কথা প্রস্তাব করেছিলেন যে, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হোক। কিন্তু তা মানা হয়নি। 

গোডবোলে অভিযোগ করেছেন সেসময় রাজ্য সরকারও কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা করেনি। সেকারণেই নরসিমা রাও দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন উত্তর প্রদেশে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা নিয়ে। অথচ সেসময় নরসিমা রাও-ই একমাত্র পদক্ষেপ নিতে পারতেন এবং তাঁর পদক্ষেপেই অনেক কিছু আটকানো যেত।

গোডবোলে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধিকেও ছেড়ে কথা বলেননি। কারণ রাজীবই মসজিদের তালা খুলিয়ে শিল্যান্যাসের অনুমতি দিয়েছিলেন। এ জন্য গোডবোলে রাজীবকে দ্বিতীয় করসেবক আখ্যা দিয়েছেন। 

১৯৯৪ সালে এই আইএএস অফিসার ভলান্টরি রিটায়ারমেন্ট নেন। মাধব গোডবোলে সম্প্রতি একটি বই লিখেছেন 'The Babri Masjid-Ram Mandir Dilemma: An Acid Test for India's Constitution' এই বইতেও তিনি এই সমস্ত অভিযোগ লিখিত আকারে এনেছেন।সামনেই অযোধ্যা মামরায় রায়দান। তার আগে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র সচিবের এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only